পার্লামেন্টে অনুপ্রবেশ
প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১৭ ডিসেম্বর ২০২৩ ১৫:৫৬ পিএম
আপডেট : ১৭ ডিসেম্বর ২০২৩ ১৬:১৪ পিএম
ভারতের পার্লামেন্টের দৃশ্য। ছবি : সংগৃহীত
ভারতের পার্লামেন্টে দুই যুবকের অনুপ্রবেশ ও অধিবেশন চলাকালে দর্শক গ্যালারি থেকে লাফ দিয়ে বিঘ্ন ঘটানো গুরুতর ঘটনা। এটা নিয়ে তর্ক না করে গভীর তদন্ত করা দরকার।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি হিন্দি ভাষাভাষি সংবাদমাধ্যম ‘দৈনিক জাগরণকে’ দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ মন্তব্য করেছেন। রবিবার (১৭ ডিসেম্বর) প্রকাশিত সাক্ষাৎকারটি কবে নেওয়া হয়েছে তা জানা যায়নি। ১৩ ডিসেম্বর ভারতের পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ লোকসভায় নিয়ম লঙ্ঘন করে দুই যুবকের অঘটন নিয়ে এটাই মোদির প্রথম মন্তব্য।
সাক্ষাৎকারে মোদি বলেছেন, যা ঘটেছে তা গুরুতর। কয়েকটি তদন্ত সংস্থা মিলে পুরো ঘটনা তদন্ত করছে। এ ঘটনার পেছনে কারা রয়েছে, তা জানা দরকার। এ ধরনের স্পর্শকাতর বিষয়ে বিতর্ক না করে আমাদের একজোট হয়ে কাজ করতে হবে।
ভারতের লোকসভায় চলমান শীতকালীন অধিবেশনে ১৩ ডিসেম্বর দর্শক গ্যালারি থেকে এক যুবক মূল চেম্বারে লাফ দেন। এ যুবকের নাম সাগর শর্মা। লাফ দিয়ে একটি ক্যানিস্টার থেকে রঙিন রাসায়নিক ছিটিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি করে সাগর।
সাগরকে অনুসরণ করে মনোরঞ্জন ডি নামের আরেক যুবকও গ্যালারি থেকে মূল চেম্বারে লাফ দেওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু তাকে লাফ দেওয়ার আগেই গ্রেপ্তার করা হয়।
এ দুই যুবক স্বৈরতন্ত্র চলবে না বলে পার্লামেন্টে স্লোগান দিতে থাকেন।
একই সময়ে পার্লামেন্টের বাহিরেও দুই যুবক একই ধরনের কাণ্ড করেন।
এ ঘটনায় ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে চারজনের বিরুদ্ধে ‘সন্ত্রাসবাদের’ অভিযোগে মামলা করা হয়েছে।
আটকদের পরিবার বলছে, চাকরি না থাকায় তারা দীর্ঘ দিন ধরে হতাশ ছিল। চাকরিহীনতার প্রতিবাদেই তারা হয়তো এমনটি করেছে।
সে যাই হোক, লোকসভায় যুবকদের অঘটন ঘটানোর দিনটি লক্ষ করার মতো। ২০০১ সালের ১৩ ডিসেম্বর ভারতের লোকসভায় পাঁচ অস্ত্রধারী ঢুকে এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়ে। এতে এক ডজনের বেশি মানুষ নিহত হয়।
এদিকে ১৩ ডিসেম্বরের ঘটনা নিয়ে পার্লামেন্টে বিশেষ আলোচনা চেয়েছিলেন বিরোধীরা। কিন্তু পার্লামেন্টের স্বাভাবিক কার্যক্রম বিঘ্ন করার অভিযোগে বিরোধী ১৪ আইনপ্রণেতার সদস্যপদ স্থগিত করা হয়েছে।
বিজেপির অভিযোগ, পার্লামেন্টে যুবকদের অনুপ্রবেশ নিয়ে রাজনীতি করছে বিরোধীরা।
দিল্লি পুলিশ শনিবার (১৬ ডিসেম্বর) জানায়, অনুপ্রবেশকারীরা পার্লামেন্টে নৈরাজ্য সৃষ্টি করতে চেয়েছিল।
ভারতের পার্লামেন্টে সাধারণ মানুষ ঢুকতে কোনো আইনপ্রণেতার সুপারিশ লাগে। ১৩ ডিসেম্বর যারা স্প্রে কাণ্ড ঘটিয়েছেন তারা বিজেপির এক আইনপ্রণেতার সুপারিশে পার্লামেন্টে প্রবেশ করেছিল বলে জানিয়েছে স্ক্রলডটইন।
সূত্র : হিন্দুস্তান টাইমস, রয়টার্স, স্ক্রলডটইন