প্রবা ডেস্ক
প্রকাশ : ২৭ অক্টোবর ২০২২ ১৬:২১ পিএম
আপডেট : ২৭ অক্টোবর ২০২২ ২৩:০৩ পিএম
আসিয়ান শীর্ষ সম্মেলন। ছবি: সংগৃহীত
মিয়ানমারের তীব্র সঙ্কট নিয়ে আলোচনা করতে বৃহস্পতিবার (২৭ অক্টোবর) অ্যাসোসিয়েশন অব সাউথইস্ট এশিয়ান নেশনস (আসিয়ান) এর সদস্য দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা বৈঠকে বসেছেন।
মিয়ানমারে সামরিক শাসকদের সঙ্গে শান্তি পরিকল্পনায় একমত হওয়ার ১৮ মাস পরে তারা বৈঠকে বসছেন বলে জানিয়েছে রয়র্টাস।
মিয়ানমারে রক্তপাত বন্ধ ও শান্তি ফেরাতে ২০২১ সালের এপ্রিলে পাঁচ দফা প্রস্তাব ঘোষণা করে আসিয়ান। জান্তা সরকার এ প্রস্তাবকে তখন স্বাগত জানালেও এর বাস্তবায়নে তাদের অনিচ্ছা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। যে কারণে মিয়ানমারে মধ্যস্থতাকারী আসিয়ানের কূটনৈতিক পদক্ষেপ ভেস্তে যায়। এ বিষয়ে আবার আলোচনা করতেই তাদের এ বৈঠক।
আগামী মাসে আসিয়ানের বার্ষিক শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। যেখানে বিশ্বের কয়েকটি রাষ্ট্রের নেতারা উপস্থিত থাকবেন। জাতিসংঘ মিয়ানমারের পরিকল্পনাকে সমর্থন দিলেও বাস্তবায়ন নিয়ে আশা দিন দিন কমছে। কারণ অনেকেই ধারণা করছেন, ২০২৩ সালের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিরোধীদের ঠেকাতে জান্তা সরকার কেবল সময় ক্ষেপণ করছে, তাদের শান্তি পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কোনো ইচ্ছে নেই। এ ছাড়া নির্বাচনের ফল নিজেদের পক্ষে আনতেও জান্তা সরকার পদক্ষেপ নিতে পারে বলে শঙ্কা করছেন তারা।
তাই দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার এই আঞ্চলিক জোটকে নিজের বিশ্বাসযোগ্যতা ধরে রাখতে নতুন সম্মেলনের আগে ফের পরিকল্পনা ঘোষনা করতে হতে পারে।
আসিয়ানের যেসব বিষয় নিয়ে মিয়ানমার ঐক্যে পৌঁছেছিল তা ছিল, অবিলম্বে শত্রুতা বন্ধ করা, সংকট নিরসনে সব পক্ষের সঙ্গে গঠনমূলক আলোচনা, মধ্যস্থতার জন্য আসিয়ান দূত পাঠানো, সব পক্ষের সঙ্গে দূতদের সাক্ষাতের সুযোগ দেওয়া এবং মিয়ানমারে মানবিক সহায়তা প্রদান।
এখন পর্যন্ত পাঁচ দফার মধ্যে কেবল একটিই পূরণ হয়েছে। সেটিও খুবই সীমিত পরিসরে এবং শর্তসাপেক্ষে। তা হলো মানবিক সহায়তা প্রদান।
মিয়ানমারে আসিয়ানের দুইজন মধ্যস্থতাকারী ছিল। দুইজনই জান্তা সরকারের অসহযোগিতার কথা বলেন। এক্ষেত্রে দেশটির ক্ষমতাচ্যুত নেত্রী অং সান সু চিসহ অন্যান্য সংশ্লিষ্ট পক্ষের সঙ্গে আলোচনার সুযোগ না দেওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেন তারা।
জান্তা সরকার ‘ন্যাশনাল ইউনিটি গভর্মেন্ট’ (এনইউজি) নামের ছায়া সরকার ও অন্য বিরোধী দলগুলোকে সন্ত্রাসবাদী বলে আখ্যা দিয়ে তাদের সঙ্গে আলোচনায় অনীহা প্রকাশ করে।
কম্বোডিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও আসিয়ানের বর্তমান রাষ্ট্রদূত প্রাক সোখোন জানান, সব পক্ষেরই রাজনৈতিক অনীহা ও তাদের মধ্যকার বিশ্বাসের কমতির কারণেই কেউ আলোচনায় বসতে চাইছেন না।
সোখোন বলেন, তিনি বুঝতে পারছেন যে তার সফর একতরফা ছিল এবং তা জান্তা সরকারকে বৈধতা দিতে পারে। তিনি কেবল কিছু জেনারেলের সঙ্গেই আলোচনা করতে পেরেছেন।
অন্যদিকে গত আগস্টে জান্তা সরকার জানিয়েছিল, আসিয়ানের শান্তি পরিকল্পনার উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। কিন্তু সেটা কোন ক্ষেত্রে হয়েছে তা জানায়নি।
জান্তা সরকার দেশটির ছায়া সরকারের সঙ্গে বসার প্রসঙ্গে আসিয়ান দূতদের সতর্ক করেন। আবার বিরোধী পক্ষগুলো আসিয়ানের পরিকল্পনা ভেস্তে দিচ্ছে বলেও অভিযোগ আনেন।
তবে বৃহস্পতিবারের বৈঠকে আসিয়ান প্রধান নতুন কী পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছেন তা এখনো অস্পষ্ট। শান্তি পরিকল্পনা না আগালেও আসিয়ানের পক্ষে মিয়ানমারকে জোট থেকে বাদ দেওয়া কিংবা বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা দেওয়া সম্ভব নয়। কারণ এরকম কোনো হুমকির বিরুদ্ধে জান্তা জবাব দেবে না বলে জানিয়েছে।
আবার, ওই শান্তি পরিকল্পনার ধারায় যদি কোনো পরিবর্তন আনা হয় তা হবে সামরিক শাসকদের প্রতি ছাড় দেওয়া।
এ বিষয়ে গত মাসে ফিলিপিন্সের প্রেসিডেন্ট ফার্দিনান্দ মার্কোস জুনিয়র বলেন, তিনি মিয়ানমারের প্রসঙ্গে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরবেন। এর মধ্য দিয়ে জান্তা ও তার প্রতিনিধিদের যাতে আলোচনায় আনা যায় সে চেষ্টা করা হবে।
প্রবা/এনএস/টিকে