প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২৮ নভেম্বর ২০২৩ ২২:৪৪ পিএম
আপডেট : ২৯ নভেম্বর ২০২৩ ১১:০৩ এএম
১৬ দিন পর আটকা পড়া ৪১ শ্রমিককে উদ্ধার করা হয়েছে। প্রবা ফটো
অবশেষে মুক্তি! ভারতের উত্তরাখণ্ডের উত্তরকাশীর সুড়ঙ্গ থেকে ১৬ দিন পর বের করে আনা হলো আটকে পড়া ৪১ জন শ্রমিককে। মঙ্গরবার (২৮ নভেম্বর) রাত ৮টা ৩৮ মিনিটের মধ্যে সম্পন্ন হয় উদ্ধার কাজ। স্বস্তির নিশ্বাস ফেলেছেন তাদের স্বজনরা।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিংহ ধামী। সুড়ঙ্গ থেকে প্রথমে বেরিয়ে আসেন ঝাড়খণ্ডের বিজয় হোরো নামে এক শ্রমিক। এক ঘণ্টার মধ্যেই সুড়ঙ্গ থেকে বেরিয়ে আসেন একে একে ৪১ জন শ্রমিক।
গত ১২ নভেম্বর ভোরে উত্তরকাশীর সিল্কিয়ারা সুড়ঙ্গে ধস নামে। ভেতরে আটকা পড়েন ৪১ জন শ্রমিক। এত দিন ধরে তাদের বের করে আনার জন্য নানাভাবে চেষ্টা করা হচ্ছিল। কিন্তু ধ্বংসস্তূপ খুঁড়ে শ্রমিকদের কাছে পৌঁছনো সম্ভব হচ্ছিল না কিছুতেই। খোঁড়ার সময়ে গত শুক্রবার বাধা আসে। ধ্বংসস্তূপের ভেতরে লোহার কাঠামোয় ধাক্কা খেয়ে ভেঙে যায় যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি উন্নত প্রযুক্তির খননযন্ত্র। উদ্ধারকাজ থমকে যায়। আটকে পড়া শ্রমিকদের উদ্ধারের বিষয়ে অনবরত খোঁজ নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও। তিনি মুখ্যমন্ত্রী ধামীকে একাধিকবার ফোন করেছেন।
উদ্ধার করার আগ পর্যন্ত সুড়ঙ্গের শ্রমিকদের সঙ্গে উদ্ধারকর্মীরা অনবরত যোগাযোগ রাখছিলেন। পাইপের মাধ্যমে তাদের সঙ্গে কথা চলছিল। পৌঁছে দেওয়া হচ্ছিল খাবার, পানি ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র। সুড়ঙ্গে থাকাকালীন উত্তরকাশীর শ্রমিকদের প্রথম ভিডিও প্রকাশ্যে আসে গত মঙ্গলবার। পাইপের মাধ্যমে ক্যামেরা পাঠান উদ্ধারকারীরা। সেখানেই দেখা যায় সুড়ঙ্গের ভেতর কীভাবে, কী অবস্থায় রয়েছেন তারা।
খননযন্ত্র ভেঙে যাওয়ায় দু’ভাবে খোঁড়াখুঁড়ির কাজ নতুন করে শুরু হয়েছিল। খননযন্ত্রের সব টুকরোগুলো সুড়ঙ্গ থেকে বের করে আনার পর খনি শ্রমিকরা সেখানে ঢুকে যন্ত্র ছাড়াই খোঁড়া শুরু করেন। ১০-১২ মিটার পথ সেভাবেই খুঁড়ে ফেলার পরিকল্পনা ছিল। এই প্রক্রিয়াকে বলে ‘ইঁদুর-গর্ত’ প্রক্রিয়া। ইঁদুরের কায়দায় গর্ত খুঁড়ে সুড়ঙ্গ থেকে শ্রমিকদের বের করার পরিকল্পনা করা হয়েছিল।
এ ছাড়া সুড়ঙ্গের ওপর দিক থেকে উল্লম্বভাবে খোঁড়ার কাজও শুরু হয়েছিল। ৮৬ মিটারের মধ্যে মঙ্গলবার সকালের মধ্যেই খোঁড়া হয়ে ৮২ মিটার।
পর্যাপ্ত অ্যাম্বুল্যান্স, ওষুধপত্র আগে থেকেই শ্রমিকদের জন্য ঘটনাস্থলে মজুত করা হয়েছিল। প্রস্তুত রয়েছে অস্থায়ী হাসপাতালও। প্রয়োজন অনুযায়ী তা ব্যবহার করা হবে। দরকার হলে অ্যাম্বুল্যান্সে করে তাদের হৃষীকেশ এমসে নিয়ে যাওয়া হতে পারে। ৪১ জনের অবস্থা আপাতত স্থিতিশীল বলে জানিয়েছে প্রশাসন। সূত্র : আনন্দবাজার ও এএনআই