ভারতে সুড়ঙ্গ ধস
প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২৬ নভেম্বর ২০২৩ ১৫:৫১ পিএম
আপডেট : ২৬ নভেম্বর ২০২৩ ১৬:২৬ পিএম
সুড়ঙ্গে প্রবেশ মুখে উদ্ধার কর্মীরা। ২৪ নভেম্বর তোলা। ছবি : সংগৃহীত
ভারতের উত্তরাখণ্ডের সুড়ঙ্গে আটকে পড়া শ্রমিকদের শনি-রবিবারের মধ্যে উদ্ধার করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হয়েছিল। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি যে মেশিনটি উদ্ধারকাজে ব্যবহার করা হচ্ছিল সেটি ৪৮ মিটার গভীরে গিয়ে ভেঙে যায়। এ অবস্থায় নতুন করে অন্য দিকে খনন করে প্রায় ৫৭ মিটার গভীরে আটকা পড়া শ্রমিকদের উদ্ধার করতে হবে। তাই উদ্ধার কাজ প্রায় এক মাস বিলম্বিত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক সুড়ঙ্গ বিশেষজ্ঞ আর্নল্ড ডিক্স বলেন, আমাদের উদ্দেশ্য হলো সব শ্রমিকে অক্ষত অবস্থায় বাড়িতে ফেরানো। এতে আরও সময় লাগবে। আশা করছি, বড়দিনের মধ্যে শ্রমিকদের বাড়িতে ফেরানো সম্ভব হবে।
২৫ ডিসেম্বর খ্রিস্টানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব বড়দিন পালিত হয়।
এদিকে রবিবার (২৬ নভেম্বর) থেকে ভারতের সেনাবাহিনী উদ্ধারকাজে যোগ দিয়েছে। সেনাবাহিনীর প্রথম কাজ হবে উদ্ধার, কাজ করার সময় শুক্রবার সন্ধ্যায় পাইপে অকেজো হয়ে পড়া যুক্তরাষ্ট্রের মেশিনটির ভাঙা অংশগুলো সরানো। তারপর মেশিনের পরিবর্তে ওপর থেকে হাতেই চিকন একটি সুড়ঙ্গ করে আটকা পড়া শ্রমিকদের উদ্ধার করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
১২ নভেম্বর উত্তরাখণ্ডের নির্মাণাধীন সিল্কিয়ারা সুড়ঙ্গের কিছু অংশ ধসে পড়। সেখানে ৪১ জন শ্রমিক আটকা পড়ে। ইতোমধ্যে পাইপে করে তাদের কাছে টাটকা খাবার পাঠানো গেছে।
আটকা পড়া শ্রমিকদের উদ্ধারের জন্য বিভিন্ন সংস্থা যৌথভাব কাজ করছে। বিদেশি বিশেষজ্ঞরাও যোগ দিয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি একটি মেশিন দিয়ে মূল সুড়ঙ্গের পাশাপাশি একটি সুড়ঙ্গ তৈরি করা হচ্ছিল। সুড়ঙ্গটি শ্রমিকদের অবস্থান স্থলে পৌঁছার মাত্র ৯ মিটার আগে মেশিনটি ভেঙে যায়। ফলে শেষ মুহূর্তে সব কিছু ভণ্ডুল হয়ে যায়।
এদিকে উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামি জানান, হায়দরাবাদ থেকে এয়ারলিফটিংয়ের মাধ্যমে একটি প্লাজমা কাটার নিয়ে আসা হচ্ছে। এটি পাথরের সঙ্গে আটকে থাকা অগার ড্রিলের রোটারি ব্লেডগুলোকে সরাতে পারবে।
মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, শনিবার তিনি আটকা পড়া শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলেছেন। তারা প্রত্যেকে সুস্থ আছেন এবং তাদের মনোবল অটুট রয়েছে।
পাইপের মাধ্যমে প্রতি দিন খাবার, পানি ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে শ্রমিকদের কাছে। কোনো কোনো শ্রমিকদের উদ্বিগ্ন পরিজনেরা সুড়ঙ্গের বাইরে তাঁবু টেনে সেখানে থাকছেন। ঘটনাস্থল থেকে সরতে চাইছেন না তারা। যত দিন যাচ্ছে, উদ্বেগ বাড়ছে।
সূত্র : এএফপি, টাইমস অব ইন্ডিয়া,