প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২২ নভেম্বর ২০২৩ ১৬:৫৫ পিএম
আপডেট : ২২ নভেম্বর ২০২৩ ১৭:২৬ পিএম
গাজার বাইত হানুনে ইসরায়েলি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা পরবর্তী দৃশ্য। ছবি : সংগৃহীত
ইসরায়েল ও হামাস চার দিনের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে। এ সময় শর্তমতে ৫০ জিম্মি নারী ও শিশুকে মুক্তি দেবে হামাস। প্রতিদিন ১২-১৩ জনকে মুক্তি দেওয়া হবে। অন্যদিকে নিজেদের কারাগারে আটক প্রায় ১৫০ ফিলিস্তিনি নারী ও শিশুকে মুক্তি দেবে ইসরায়েল। বৃহস্পতিবার (২৩ নভেম্বর) সকাল থেকে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হতে পারে।
কাতার ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় এ যুদ্ধবিরতি ও বন্দিবিনিময় চুক্তিতে সম্মত হয়েছে ইসরায়েল ও হামাস। চুক্তিতে সই না করলেও মিসরও এ চুক্তিতে বড় ভূমিকা রেখেছে।
যুদ্ধের ৪৭তম দিনে গাজায় ইসরায়েলের ধ্বংসযজ্ঞ বন্ধ হওয়ায় স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছে পুরো বিশ্ব। বিশ্ব নেতারা যুদ্ধবিরতি নিয়ে নানা ইতিবাচক মন্তব্য করেছেন।
যুক্তরাষ্ট্র
যুদ্ধবিরতিতে সহায়তা করায় কাতার ও মিসরকে ধন্যবাদ জানিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন এক বিবৃতিতে বলেছেন, জিল (বাইডেন) ও আমি এসব জিম্মি ও তাদের প্রিয়জনদের কথা এতদিন হৃদয়ে লালন করেছি। এসব সাহসী ব্যক্তি এতদিন জিম্মি থাকার কষ্ট সহ্য করায় আমি বেশ তুষ্টি অনুভব করছি। আশা করি ধীরে ধীরে সব জিম্মি তাদের পরিবারের সঙ্গে মিলিত হতে পারবেন।
কাতার
যুদ্ধবিরতি ও বন্দিবিনিময়ে মূল ভূমিকা রেখেছে কাতার। দেশটির প্রধানমন্ত্রী শেখ মহম্মদ বিন আব্দুল্লাহ আল থানি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, এটি একটি সর্বাঙ্গিন ও টেকসই চুক্তিতে পরিণত হবে। আশা করি এ চুক্তির মাধ্যমে যুদ্ধ শেষ করা যাবে। বন্ধ হবে রক্তপাত। ন্যায্য শান্তি প্রক্রিয়ার জন্য কার্যক্রম শুরু করা যাবে।
চীন
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাও নিং বলেছেন, যুদ্ধবিরতির ফলে মানবিক সংকট কিছু হলেও উপশম হবে। সংঘাত কমতে থাকবে। উত্তেজন হ্রাস পাবে।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন
ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন দেয়ারলিয়েন বলেছেন, গাজায় মানবিক কার্যক্রম চালাতে যুদ্ধবিরতি করতে আমরা সবকিছু করব।
রাশিয়া
রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেছেন, গাজার জন্য দীর্ঘদিন পর একটা সুখবর। রাশিয়া ও বিশ্বের অধিকাংশ দেশ যুদ্ধবিরতি ও মানবিক সহায়তা কার্যক্রম চালানোর মতো পরিবেশ তৈরির আহ্বান জানাচ্ছিল। এ চুক্তি আরও শক্তিশালী চুক্তির পথ খুলে দেবে।
ইরান
হামাসের প্রধান পৃষ্ঠপোষক ইরান যুদ্ধবিরতির পরপর নিজেদের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমিরাব্দল্লাহিয়ানের একটি আঞ্চলিক সফরের ঘোষণা দিয়েছে। লেবানন দিয়ে তার এ সফর শুরু হবে। ঘোষণায় বলা হয়, গাজায় জায়োনিস্ট হামলা বন্ধের জন্যই এ সফরের সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে।
ফিলিস্তিন
ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষের (পিএ) প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসও ইসরায়েল-হামাসের মানবিক যুদ্ধবিরতিকে স্বাগত জানিয়েছেন। যুদ্ধবিরতিতে সহায়তা করার জন্য মিসর ও কাতারকে স্বাগত জানিয়েছেন।
পিএ একসময় গাজা শাসন করত। ২০০৭ সালে নির্বাচনে হেরে তারা সেখানে থেকে এক ধরনের নির্বাসনে চলে যায়। ক্ষমতা পেয়ে এর পর থেকে গাজা শাসন করছে হামাস।
এ ছাড়া মিসর, ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, তুরস্ক, ভ্যাটিকান সিটি ও হিউম্যান রাইটস ওয়াচসহ বিশ্বের অধিকাংশ দেশ ও মানবাধিকার সংস্থা, আঞ্চলিক সংস্থা যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়েছে।
এদিকে ইসরায়েলি হামলায় গাজায় নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৪ হাজার ১২৮। নিহতদের মধ্যে শিশু ৫ হাজার ৮৪০। নারী ৩ হাজার ৯২০। হামাস পরিচালিত গাজার স্বাস্থ্য বিভাগ মঙ্গলবার (২১ নভেম্বর) এসব তথ্য জানিয়েছে।
একই সময়ে আহত হয়েছে প্রায় ৩৩ হাজারের বেশি। স্থানচ্যুত হয়েছে ১৬ লাখের বেশি, যা গাজার মোট জনসংখ্যার দুই-তৃতীয়াংশের বেশি।
৭ অক্টোবর ভোরে ইসরায়েলে অতর্কিত হামলা চালায় গাজা উপত্যকার নিয়ন্ত্রণকারী গোষ্ঠী হামাসের যোদ্ধারা। উপত্যকার উত্তরাঞ্চলীয় ইরেজ সীমান্তবেড়া অতিক্রম ও প্যারাসুটে করে ইসরায়েলে প্রবেশ করে হামাস যোদ্ধারা। অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে তারা ইসরায়েলি নিরাপত্তা বাহিনী (আইডিএফ), পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায়। এতে প্রায় ১ হাজার ২০০ জন নিহত হয়। আহত হয় প্রায় ৪ হাজার। হতাহতের অধিকাংশ সাধারণ মানুষ। পাশাপাশি হামাসের যোদ্ধারা প্রায় ২৪০ জনকে ধরে নিয়ে আসে।
হামাসের হামলার জবাবে গাজায় বিমান, ক্ষেপণাস্ত্র, রকেট, গোলা ও ড্রোন হামলা শুরু করে ইসরায়েল। ২৮ অক্টোবর শুরু হয় স্থল অভিযান। এর মধ্যে আইডিএফ উত্তর গাজা মোটামুটি নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে।
সূত্র : আলজাজিরা, বিবিসি, আল-মনিটর