প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২০ নভেম্বর ২০২৩ ১৫:০০ পিএম
আপডেট : ২০ নভেম্বর ২০২৩ ১৫:৩১ পিএম
আল-শিফা হাসপাতালে ১৮০ ফুট দীর্ঘ ও ৩২ ফুট গভীর একটি সুড়ঙ্গের সন্ধান পাওয়ার দাবি করেছে ইসরায়েল। ছবি : সংগৃহীত
গাজার বহুলআলোচিত আল-শিফা হাসপাতালের মাটির নিচে একটি ১৮০ ফুট দীর্ঘ ও ৩২ ফুট গভীর সুড়ঙ্গের সন্ধান পাওয়ার দাবি করেছে ইসরায়েল। ইসরায়েল সুড়ঙ্গটির প্রবেশ মুখের একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে। কিন্তু ইসরায়েলের দাবি সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে পাল্টা দাবি করেছে গাজার স্বাস্থ্যমন্ত্রী মুনির এল বোর্শ।
রবিবার (১৯ নভেম্বর) ইসরায়েল প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) আল-শিফা হাসপাতালে সন্ধান পাওয়া সুড়ঙ্গের একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে। কিন্তু ভিডিওটি আল-শিফা হাসপাতাল এলাকার কি না তা কোনো আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম নিশ্চিত করতে পারেনি। গাজার স্বাস্থ্যমন্ত্রীর দাবি, ইসরায়েলের দাবি নির্জলা মিথ্যা।
আইডিএফের মুখপাত্র দানিয়ে হ্যাগারি রবিবার সাংবাদিকদের বলেন, আমাদের সেনারা বুলডোজার দিয়ে আল-শিফা হাসপাতালের একটি দেওয়াল ভাঙতে গিয়ে সুড়ঙ্গটির প্রবেশ মুখ শনাক্ত করে। এরপর মাটি সরিয়ে এটা আবিষ্কার করে। ৫৫ মিটার (১৮০ ফুট) দীর্ঘ সুড়ঙ্গটিতে নামার একটি বাঁকানো সিঁড়ি রয়েছে। সুড়ঙ্গের বাহিরে বিপুল গোলাবারুদ পাওয়া গেছে।
গাজার বৃহত্তম হাসপাতালটি বর্তমানে ইসরায়েলি সেনাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ইসরায়েলের দাবি, এ হাসপাতাল হামাসের একটি গুরুপূর্ণ কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণকেন্দ্র।
কিন্তু হামাস ও আল-শিফা কর্তৃপক্ষ ইসরায়েলের এ দাবি বারবার অস্বীকার করেছে। আল-শিফার পরিচালক গত সপ্তাহে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বলেছিলেন, আল-শিফায় হামাসের একজন যোদ্ধাও নেই। এখানে কোনো সুড়ঙ্গ নেই। চাইলে আন্তর্জাতিক মহল আমাদের দাবির সত্যতা যাচাই করে দেখতে পারে।
বুধবার (১৫ নভেম্বর) অভিযান চালানোর সময় আল-শিফায় কয়েক শত রোগী, চিকিৎসকসহ প্রায় ৯ হাজার আশ্রিত মানুষ ছিল। ইসরায়েল দখলে নেওয়ার পর হাসপাতালটির ৩১ অপরিণত নবজাতককে দক্ষিণ গাজার আল-হেলাল আল-ইমারাতি মাতৃত্বকালীন হাসপাতালে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) রবিবার এ কথা জানিয়েছে।
কিন্তু আল-শিফার গুরুতর আহত প্রায় ২৫০ রোগী কোথায় গেল, তার সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না বলে উল্লেখ করা হয়েছে আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে।
এদিকে রবিবার আলাদা একটি ভিডিওতে আল-শিফায় জিম্মিদের রাখা হয়েছিল বলে দাবি করেছে ইসরায়েল। আইডিএফ একটি ভিডিওফুটেজ দেখিয়ে দাবি করে, ৭ অক্টোবরের হামলার পরপর আল-শিফায় দুইজন জিম্মিকে নিয়ে আসা হয়েছিল। জিম্মিদের একজন নেপালি, দ্বিতীয়জন থাইল্যান্ডের নাগরিক।
কয়েক দিন আগে আল-শিফা পার্শ্ববর্তী এলাকা থেকে ইসরায়েলি নারী সেনা নোয়া মার্সিয়ানোসের মরদেহ উদ্ধার করে আইডিএফ। রবিবার ইসরায়েলি সেনাবাহিনী দাবি করে, নোয়াকে হামাস হত্যা করেছে। কিন্তু ইসরায়েলের এ দাবি অস্বীকার করেছে হামাস। হামাসের পাল্টা দাবি, ১৯ বছর বয়সি নোয়া ইসরায়েলি বিমান হামলায় নিহত হয়েছিল।
আল-জাজিরার রাজনৈতিক বিশ্লেষক মারওয়ান বিশারা বলেন, গাজায় কয়েক ডজন, এমনকি হয়তো কয়েক শত সুড়ঙ্গ আছে। সুড়ঙ্গ থাকা কোনো সমস্যা নয়। কিন্তু তাই বলে গাজা শহরের নিচে আরেকটি সুড়ঙ্গ শহর আছে বলে ইসরায়েল যে দাবি করছে তা মিথ্যা, তাই সমস্যাজনক। সবচেয়ে ভয়ংকর বিষয় হলো, ইসরায়েলের মিত্র লন্ডন ও ওয়াশিংটনও তা সত্য হিসেবেই ধরে নিচ্ছে।
সর্বশেষ তথ্যমতে, ইসরায়েলি হামলায় গাজায় নিহতের সংখ্যা ১৩ হাজার ছাড়িয়েছে। এর মধ্যে শিশু সাড়ে ৫ হাজার। নারী অন্তত সাড়ে ৩ হাজার। একই সময়ে আহত হয়েছে ৩০ হাজারের বেশি মানুষ।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় রবিবার (১৯ নভেম্বর) এসব তথ্য জানিয়েছে। অবরুদ্ধ উপত্যকাটির প্রায় সব হাসপাতালের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়ায় হতাহতের পরিসংখ্যান ঠিকমতো রাখা সম্ভব হচ্ছে না বলে ইতঃপূর্বে জানিয়েছিল মন্ত্রণালয়টি।
৭ অক্টোবর ইসরায়েলে অতর্কিতে হামলা চালায় হামাস। এতে ইসরায়েলের ১ হাজার ২০০ জন নিহত হয়। আহত হয় প্রায় ৪ হাজার। হামাস ধরে নিয়ে আসে ২৪০ জনকে।
হামাসের হামলার জবাবে গাজায় বিমান, ক্ষেপণাস্ত্র, রকেট, গোলা ও ড্রোন হামলা শুরু করে ইসরায়েল। ২৮ অক্টোবর শুরু হয় স্থল অভিযান। এর মধ্যে আইডিএফ উত্তর গাজা মোটামুটি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নিয়েছে। এখন দক্ষিণ গাজায়ও স্থল অভিযান চালানোর দিকে মনোযোগ দিয়েছে ইসরায়েল।
সূত্র : আলজাজিরা, বিবিসি