প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১৯ নভেম্বর ২০২৩ ১৩:০৬ পিএম
আপডেট : ১৯ নভেম্বর ২০২৩ ১৩:২০ পিএম
গাজায় নির্বিচারে সাধারণ মানুষ হত্যার প্রতিবাদ। ১৮ নভেম্বর ইরানের রাজধানী তেহরানে। ছবি : সংগৃহীত
গাজার বৃহত্তম হাসপাতাল আশ-শিফা এখন মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। সংস্থাটির একটি মানবিক পরিস্থিতি প্রতিনিধিদল শনিবার (১৮ নভেম্বর) পরিদর্শন শেষে এ মন্তব্য করে।
ডব্লিউএইচওর নেতৃত্বাধীন ওই পর্যালোচনা দলে আছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞসহ জাতিসংঘের বিভিন্ন বিভাগের রসদবিষয়ক কর্মকর্তা ও নিরাপত্তা কর্মকর্তারা। তবে নিরাপত্তাসংক্রান্ত উদ্বেগের কারণে প্রতিনিধিদলটি মাত্র এক ঘণ্টা ওই হাসপাতালে অবস্থান করতে পেরেছে।
আশ-শিফাকে ‘মৃত্যুপুরী’ উল্লেখ করে ডব্লিউএইচও জানায়, সেখানকার পরিস্থিতি ‘শোচনীয়’। বিশুদ্ধ পানি, জ্বালানি, ওষুধ ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় উপকরণের অভাবে হাসপাতালটি কার্যত অচল হয়ে পড়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, হাসপাতালের প্রবেশপথে বড় একটি কবর দেখতে পেয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিনিধিদলটি। ওই কবরে ৮০ জনের বেশি মানুষকে কবর দেওয়া হয়েছে।
হাসপাতালটিতে এখনও যেসব রোগী, কর্মী ও তাদের পরিবারের সদস্যরা অবস্থান করছেন, তাদের অবিলম্বে সরিয়ে নেওয়ার ব্যাপারে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং তাদের সহযোগীরা জরুরি ভিত্তিতে পরিকল্পনা করছে।
হাসপাতালটিতে ২৫ স্বাস্থ্যকর্মী ও ২৯১ রোগী অবস্থান করছেন। এর মধ্যে ৩২ নবজাতকের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
ইসরায়েলি বাহিনী গত সপ্তাহে আশ-শিফায় সরাসরি অভিযান শুরু করে। হামাস গোপনে হাসপাতালটির ভূগর্ভস্থ জায়গায় ঘাঁটি পরিচালনা করছিল- এমন অভিযোগ তুলে তারা হাসপাতালে তল্লাশি চালায়। অভিযান চালিয়ে ইসরায়েল সেখান থেকে কিছু অস্ত্র উদ্ধারের দাবি করেছে। এ বিষয়ে হামাস কোনো মন্তব্য করেনি। অন্যদিকে ওই সব অস্ত্র আসলেই আশ-শিফা থেকে উদ্ধার করা কি না, তা আন্তর্জাতিক কোনো গণমাধ্যম নিশ্চিত করতে পারেনি।
ইসরায়েলি হামলায় গাজায় নিহতের সংখ্যা ১২ হাজার ৩০০ ছাড়িয়েছে। নিহতদের মধ্যে শিশু ৫ হাজারের বেশি। নারী অন্তত ৩ হাজার ৩০০। একই সময়ে আহত হয়েছে ৩০ হাজারের বেশি।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় শনিবার (১৮ নভেম্বর) এসব তথ্য জানিয়েছে। অবরুদ্ধ উপত্যকাটির প্রায় সব হাসপাতালের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়ায় হতাহতের পরিসংখ্যান ঠিক মতো রাখা সম্ভব হচ্ছে না বলে ইতঃপূর্বে জানিয়েছিল মন্ত্রণালয়টি।
সূত্র : গার্ডিয়ান, আলজাজিরা