প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১৫ নভেম্বর ২০২৩ ১৩:৫৬ পিএম
আপডেট : ১৫ নভেম্বর ২০২৩ ১৪:১৬ পিএম
আহত এক নারীকে হুইলবেডে করে নেওয়া হচ্ছে। আশ-শিফা হাসপাতালে ৫ নভেম্বর। ছবি : সংগৃহীত
ইসরায়েলের সেনারা বুধবার ভোরে গাজার বৃহত্তম হাসপাতাল আশ-শিফায় সেনা অভিযান চালিয়েছে। এটাকে যুদ্ধাপরাধ, মানবতাবিরোধী অপরাধ বলে মন্তব্য করেছে হামাস ও ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষ।
ফিলিস্তিন তথ্য কেন্দ্রের হামাসের নেতা ইজ্জাত আল-রিশক এক্সে লেখেন, হাসপাতাল বেসামরিক স্থাপনা। এটা কোনো সামরিক স্থাপনা নয়। হাসপাতালে সামরিক অভিযান যুদ্ধাপরাধ, নৈতিক অপরাধ, মানবতাবিরোধী অপরাধ।
আল-রিশকের দাবি, আশ-শিফায় রোগী, চিকিৎসাকর্মী ও উদ্বাস্তু মানুষসহ প্রায় ৯ হাজার মানুষ রয়েছে।
গাজা উপত্যকার গাজা সিটির আশ-শিফা হাসপাতাল তিন দিন আগে অবরোধ করে ইসরায়েলের সেনারা। ইসরায়েলের অভিযোগ, সেখানে হামাসের কমান্ডো কেন্দ্র রয়েছে। রয়েছে গোলা-বারুদ। মঙ্গলবার (১৪ নভেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রও ইসরায়েলের এ দাবিকে সমর্থন করেছে।
হামাস ও আশ-শিফা কর্তৃপক্ষ ইসরায়েলের দাবি বারবার অস্বীকার করেছে। হাসপাতালের এক কর্মকর্তা সোমবার বিবিসিকে বলেছেন, হাসপাতালে হামাসের একজন যোদ্ধাও নেই। আন্তর্জাতিক মহল চাইলে তা তদন্ত করে দেখতে পারে।
হামাসের পর ফিলিস্তিন (পিএ) কর্তৃপক্ষও আশ-শিফায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানকে মানবতাবিরোধী অপরাধ বলে অভিযোগ করেছে। বুধবার পিএর স্বাস্থ্যমন্ত্রী মাই আল-কাইলা এক বিবৃতিতে বলেছেন, হাসপাতালের মধ্যে সামরিক অভিযান করে ইসরায়েল মানবতার বিরুদ্ধে নতুন অপরাধ করছে। শিফার রোগী, চিকিৎসাকর্মী ও আশ্রিতদের ক্ষয়ক্ষতির সম্পূর্ণ দায়ভার ইসরায়েলকে নিতে হবে।
পিএ ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরের একাংশ শাসন করে। তীরটির বাকি অংশ অধিকৃত করে শাসন করে ইসরায়েল। পিএ ফিলিস্তিন মুক্তি আন্দোলন বা ফাতাহের বেসামরিক শাখা। এক সময় তারা ইসরায়েলের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সশস্ত্র সংগ্রামের নেতৃত্ব দিয়েছিল। ১৯৯৩ সালে অসলো চুক্তির পর তার সশস্ত্র সংগ্রাম থেকে সরে আসে। অভিযোগ আছে, ফাতাহের দুর্নীতিগ্রস্ত নেতারা ইসরায়েলের সঙ্গে মিলেমিশে ফিলিস্তিনকে স্বাধীন করার বিষয়টি চাপা দিয়ে রেখেছে। তাই স্বাভাবিকভাবে সশস্ত্র সংগ্রামে বিশ্বাসী হামাস ও ফাতাহের মধ্যে বিরোধ রয়েছে।
এদিকে হাসপাতালে সামরিক অভিযানের জন্য ইসরায়েলের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকেও দায়ী করেছে হামাস।
আশ-শিফায় প্রথম অভিযান শেষ হলেও সেখানে হামাস যোদ্ধাদের সঙ্গে ইসরায়েলি সেনাদের বন্দুকযুদ্ধের কোনো খবর পাওয়া যায়নি। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত তারা সেখান থেকে কোনো গোলা-বারুদ্ধ উদ্ধার করেছে বলেও জানা যায়নি।
সূত্র : বিবিসি, আলজাজিরা