প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১৩ নভেম্বর ২০২৩ ১৩:৪৫ পিএম
আপডেট : ১৩ নভেম্বর ২০২৩ ১৫:৩১ পিএম
খাবারের খোঁজে পথে নেমেছে শিশুরা। ইসরাযেলের হামলার পর থেকে খেয়ে না খেয়ে থাকতে হচ্ছে গাজাবাসীকে। রবিবার গাজা উপত্যকার রাফা এলাকায়। ছবি : এএফপি
ইসরায়েলের সেনারা গাজার হাসপাতালগুলো থেকে কোনো রোগী অন্যত্র সরাচ্ছে না, বরং তারা রোগীদের অস্ত্রের মুখে ভয় দেখিয়ে জোর করে রাস্তায় বের করে দিচ্ছে। এর মাধ্যমে তাদের মূলত মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিচ্ছে তারা। গতকাল রবিবার এমন অভিযোগ করেছেন ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্যমন্ত্রী মাই আল-কাইলা।
এর আগে গাজার হাসপাতালগুলো ছাড়তে বেসামরিক নাগরিকদের নির্দেশ দেয় ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। আল-শিফা, আল-রানতিসি ও নাসের হাসপাতাল থেকে আহতদের স্থানান্তর করতে অ্যাম্বুলেন্স সহায়তা দিতে চেয়েছিল তারা।
তবে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আশরাফ আল-কুদরা রয়টার্সকে বলেছেন, ‘শিশুদের নিরাপদে অন্য হাসপাতালে স্থানান্তরের কোনো ব্যবস্থা আছে বলে আমাদের জানা নেই। আমরা শুধু তাদের নিরাপত্তার জন্য দোয়া করছি এবং তাদের মধ্যে আর যাতে কাউকে না হারাতে হয়।’
তিনি বলেন, ‘এখানে মোট ৪৫ শিশু আছে। এরই মধ্যে দুটি শিশু মারা গেছে।’
সংখ্যা নিশ্চিত হওয়া না গেলেও সেখানে যে কয়েক ডজন নবজাতক শিশুর চিকিৎসা চলছিল সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই বলে জানিয়েছে বিবিসি। এমন পরিস্থিতিতে হাসপাতাল থেকে জোর করে রোগীদের বের করে দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
বিবৃতিতে ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেছেন, ‘এটি কোনো উদ্ধার নয়; তাদের অস্ত্রের মুখে জোরপূর্বক হাসপাতাল থেকে বের করে দেওয়া হচ্ছে। হাসপাতালে বিপর্যয়কর পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে। রোগীরা তাদের চিকিৎসা না পেয়ে মারা যাচ্ছে। প্রাপ্তবয়স্ক ও শিশু কিডনি রোগীরা অতিপ্রয়োজনীয় ডায়ালাইসিস করতে না পেরে বাড়িতে মরছে।’
তিনি জানিয়েছেন, ‘আল-রানতিসি এবং তার্কিস হাসপাতালে যে তিন হাজার ক্যানসার রোগী ছিল তাদের জোর করে বের করে দিয়েছে ইসরায়েলি সেনারা। এখন এসব রোগী নিশ্চিত মৃত্যুর মুখে রয়েছে।’
জ্বালানির অভাবে গাজা উপত্যকার দ্বিতীয় বৃহৎ হাসপাতাল আল-কুদস ইতোমধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে। বর্তমানে গাজার বড় হাসপাতালগুলো ঘিরে রেখে হামলা চালাচ্ছে ইসরায়েলি সেনারা।
আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের চাপের মুখে শনিবার ইসরায়েলি সেনাবাহিনী প্রস্তাব দেয় আল-শিফা হাসপাতাল থেকে শিশুদের অন্য কোনো নিরাপদ হাসপাতালে সরিয়ে নিতে সহায়তা করবে তারা। তবে ওই শিশুদের কীভাবে সরানো হবে সে বিষয়টি নিশ্চিত নয়।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আশরাফ আল-কুদরা বলেছেন, জ্বালানি ফুরিয়ে যাওয়ায় আল-শিফা হাসপাতালের কার্যক্রম শনিবার বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, এতে ইনকিউবেটরে থাকা ৪৫ নবজাতকের একজন মারা গেছে। এর আগে আল-শিফা হাসপাতালে ইসরায়েলের হামলায় ১৩ জন নিহত হয়।
ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরায়েলের স্থল অভিযানে এখন হাসপাতালগুলো নিশানায় পরিণত হয়েছে।
এর আগে ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জ্বালানি সংকট ও হামলার কারণে ২১টি হাসপাতাল বন্ধ হয়ে গেছে। ৪৭টি প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রও বন্ধ রয়েছে।
৭ অক্টোবর ইসরায়েলে ফিলিস্তিনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসের হামলার পর দখলদার বাহিনীর টানা হামলায় গাজায় ১১ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। তাদের মধ্যে ৮ হাজারের বেশি নারী ও শিশু।
বৃহস্পতিবারের মধ্যে গাজার সব ধরনের যোগাযোগ পরিষেবা বন্ধ হবে
জ্বালানির অভাবে আগামী বৃহস্পতিবারের মধ্যে গাজার সব ধরনের যোগাযোগ পরিষেবা ও ইন্টারসেবা বন্ধ হবে বলে সতর্ক করেছেন যোগাযোগমন্ত্রী ইতজাক সিডর। তিনি বলেন, ‘যোগাযোগ পরিষেবার অভাব মানবিক বিপর্যয়কে আরও গভীর করে তুলবে।’
ইউএনডিপি কার্যালয়ে গোলবর্ষণ
জাতিসংঘের উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) সংস্থার প্রধান আচিম স্টেইনার বলেছেন, গাজায় জাতিসংঘের উন্নয়ন কর্মসূচি অফিসে শনিবার রাতে গোলাবর্ষণ করা হয়েছে। এক্সের একটি পোস্টে তিনি লিখেছেন, যারা ইউএনডিপি অফিস কম্পাউন্ডে নিরাপত্তার জন্য আশ্রয় নিয়েছিল তাদের অনেকের মৃত্যু ও আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
লেবানন থেকে হিজবুল্লাহর হামলা, জবাব দিয়েছে ইসরায়েল
ইরান-সমর্থিত লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জবাবে দক্ষিণ লেবাননে যুদ্ধবিমান থেকে হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। রবিবার আইডিএফ লেবাননে হিজবুল্লাহর অবস্থান লক্ষ করে যুদ্ধবিমান থেকে হামলা চালানোর দাবি করেছে। এর আগে উত্তর ইসরায়েলের দোভিভ শহরে হিজবুল্লাহর ছোড়া ট্যাংক-বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে অন্তত সাত ইসরায়েলি আহত হয়।
গাজায় আরও ৫ ইসরায়েলি সেনা নিহত
হামাসের সঙ্গে গাজা উপত্যকায় যুদ্ধে ইসরায়েলের আরও পাঁচ সেনা নিহত হয়েছে। শনিবার ইসরায়েল বিবৃতিতে গাজায় স্থল অভিযানের সময় এই পাঁচ সেনার মৃত্যুর তথ্য জানানো হয়েছে।
যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান পোপের
ফিলিস্তিনে যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন ক্যাথলিক খ্রিস্টানদের প্রধান ধর্মগুরু পোপ ফ্রান্সিস। তিনি বলেন, ‘অস্ত্রগুলো নীরব থাকুক, সেগুলো কখনও শান্তি বয়ে আনে না। সংঘাত আর ছড়িও না।’ ভ্যাটিকান সিটিতে প্রার্থনার সময় এ আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘গাজার আহতদের অবশ্যই সহায়তা করতে হবে এবং আরও মানবিক সহায়তা অবরুদ্ধ উপত্যকায় পাঠাতে হবে।’
১৯২ চিকিৎসাকর্মী ও ৪৪ সাংবাদিক নিহত
৭ অক্টোবর থেকে এ পর্যন্ত ইসরায়েলের হামলায় ১৯২ চিকিৎসাকর্মী ও ৪৪ সাংবাদিক নিহত হয়েছেন। জাতিসংঘের শতাধিক কর্মীও মারা গেছেন।
গাজার হাসপাতালে অগ্নিসংযোগ দেখতে চায় না যুক্তরাষ্ট্র
গাজা উপত্যকার হাসপাতালগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র আর অগ্নিসংযোগ দেখতে চায় না বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জ্যাক সুলিভান। দেশটির সংবাদমাধ্যম সিবিসি নিউজকে তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র গাজার এমন হাসপাতালগুলোতে অগ্নিসংযোগ দেখতে চায় না, যেখানে বেসামরিক নাগরিক চিকিৎসা নিচ্ছে এবং রোগীরা চিকিৎসা নিচ্ছে, যারা আটকা পড়তে পারে। আমরা এ বিষয়ে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীকে সক্রিয় পরামর্শ দিয়েছি।’
সূত্র : বিবিসি, আলজাজিরা, রয়টার্স