প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১৩ নভেম্বর ২০২৩ ১১:৪৭ এএম
আপডেট : ১৩ নভেম্বর ২০২৩ ১২:০১ পিএম
আল-কুদস হাসপাতালে উদ্বাস্তু মানুষের ভিড়। ছবি : সংগৃহীত
জ্বালানি ও বিদ্যুতের অভাবে গাজা উপত্যকার সবচেয়ে বড় দুটি হাসপাতালই বন্ধ হয়ে গেছে। হাসপাতাল দুটির নাম আশ-শিফা ও আল-কুদস। দুইটিই গাজা উপত্যকার গাজা সিটিতে অবস্থিত। এ শহরে হামাস যোদ্ধাদের সঙ্গে ইসরায়েলি সেনাদের তীব্র যুদ্ধ চলছে। হাসপাতাল দুটি ঘিরে রেখেছে ইসরায়েলি সেনারা।
পাশাপাশি উত্তর গাজার ইন্দোনেশিয়া হাসপাতাল ও কামাল আদওয়ান হাসপাতালেও নতুন রোগী নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। জ্বালানি, বিদ্যুৎ ও চিকিৎসা সামগ্রীর অভাবে যে কোনো সময় হাসপাতাল দুটিও বন্ধ হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। উত্তর গাজাকে উপত্যকাটির বাকি অংশ থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলেছে ইসরায়েল। সেখানে তাণ্ডব চালাচ্ছে হাজার হাজার ইসরায়েলি সেনা, ট্যাংক ও সাঁজোয়া যান।
গাজার বৃহত্তম হাসপাতাল আশ-শিফা শনিবার (১১ নভেম্বর) বন্ধ হয়ে যায়। ইসরায়েলি হামলায় হাসপাতালটির হৃদরোগ বিভাগের অংশটি ধ্বংস হয়ে গেছে।
এ হাসপাতালে ৩৯ নতজাতক ছিল। তাদের মধ্যে তিনটার মৃত্যু হয়েছে। বাকিদের অবস্থাও ঝুঁকিপূর্ণ। ইসরায়েল নবজাতকদের নিরাপদস্থানে সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিল। কিন্তু এটা নিয়ে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

গাজার স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যমতে, আশ-শিফায় রবিবার পর্যন্ত অন্তত ৬৫০ রোগী, ৫০০ স্বাস্থ্যকর্মী ও প্রায় ১৫০০ উদ্বাস্তু মানুষ ছিল।
ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হেরজগসহ দেশটির শীর্ষ রাজনীতিবিদদের দাবি, আশ-শিফার মাটির নিচে হামাসের সুড়ঙ্গ রয়েছে। হামাসের সেনারা সেখানে অবস্থান নিয়েছে। হামাস এ দাবি অস্বীকার করেছে।
আশ-শিফার সার্জারি বিভাগের প্রধান ড. মারওয়ান আবু সাদাও ১২ নভেম্বর বিবিসিকে দেওয়া এক স্বাক্ষাৎকারে ইসরায়েলের দাবি অস্বীকার করেছে। তিনি বলেছেন, আমাদের হাসপাতালে একজনও হামাসের যোদ্ধা নেই। পুরো হাসপাতাল তদন্ত করে দেখার জন্য আমরা আন্তর্জাতিক মহলকে স্বাগত জানাই।
অন্যদিকে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু অভিযোগ করেন, আমাদের সেনারা আশ-শিফায় জ্বালানি তেল দিতে চেয়েছিল। কিন্তু হামাস তা নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।
কিন্তু মারওয়ান জানান, ইসরায়েলি সেনাদের থেকে তারা ৩০০ লিটার জ্বালানি গ্রহণ করেছে। এটা নিয়ে বড় জোর আধা ঘণ্টা জেনারেটর চালানো যাবে। তাদের সবকটি জেনারেটর চালাতে দৈনিক প্রায় ২৪ হাজার লিটার জ্বালানি লাগে। আশ-শিফা থেকে কোনো ব্যক্তি বের হওয়া মাত্রই ইসরায়েলি স্নাইপাররা গুলি করছে বলেও অভিযোগ করেন এই সার্জন।
আশ-শিফার পর গাজা সিটির দ্বিতীয় বৃহত্তম হাসপাতাল আল-কুদসও রবিবার বন্ধ হয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছে ফিলিস্তিনের রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি। এটিও জ্বালানির অভাবে বন্ধ হয়ে গেছে।
এক বিবৃতিতে রেড ক্রিসেন্ট জানায়, হাসপাতালের চারপাশে ইসরায়েল হামলা চালাচ্ছে। জ্বালানি ও বিদ্যুতের অভাবে আল-কুদসের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে।
আশ-শিফা ও আল-কুদসে বিদ্যুৎ ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সামগ্রী না থাকায় রোগীদের অপারেশন করা যাচ্ছে না। তাই যাদের জরুরিভিত্তিতে অপারেশন করা দরকার তাদের মৃত্যু হচ্ছে। অনেককে অপ্রচলিত পদ্ধতিতে অপারেশন করা হচ্ছে। বিদ্যুৎ না থাকায় আশ-শিফায় অন্তত ৪৫ রোগীর কিডনি ডায়ালাইসিস করা যাচ্ছে না।
যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে আশ-শিফার কর্মচারীরা চারটি গণকবরে অসংখ্যা অজ্ঞান পরিচয় রোগীদের দাফন করেছেন। এখনো আরও ১০০ রোগী জরুরি বিভাগের বাহিরে খোলা জায়গায় পড়ে আছে।
হাসপাতালের চারপাশে অব্যাহত বোমা হামলা ও গোলাগুলি চালায় পরিস্থিতি ভয়াবহ ও ভয়ংকর আকার ধারণ করেছে বলে মন্তব্য করেছেন ডব্লিউএইচওর মহাপরিচালক তেদরস আদানম গেব্রিয়াসুস।