প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ০৬ নভেম্বর ২০২৩ ১৩:২৩ পিএম
আপডেট : ০৬ নভেম্বর ২০২৩ ১৪:৩৭ পিএম
তুরস্কের যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিতে হামলা। ৫ নভেম্বর তুরস্কের আদানা প্রদেশ যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি এলাকায়। ছবি : সংগৃহীত
তুরস্কে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিতে প্লাস্টিকের চেয়ার, পাথর ও লাঠিসোটা নিয়ে হামলা চালিয়েছে বিক্ষুব্ধ জনতা। রবিবার (৫ নভেম্বর) বিকালে এ হামলা চালানো হয়। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন সোমবার (৬ নভেম্বর) আঙ্কারায় পৌঁছার কয়েক ঘণ্টা আগে এ ঘটনা ঘটে। তবে এতে কেউ হতাহত হয়নি। পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও জলকামান নিক্ষেপ করে বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে আনে।
জানা গেছে, তুরস্কের দক্ষিণ অঞ্চলের আদানা প্রদেশ যুক্তরাষ্ট্রের একটি সামরিক ঘাঁটি রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ইসলামিক স্টেট (আইএস) বিরোধী অভিযান পরিচালনার এটা অন্যতম কেন্দ্র। এখান থেকে সিরিয়া ও ইরাকে যুক্তরাষ্ট্রের সামিরক কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করা হয়।
রবিবার এ ঘাঁটি অভিমুখে একটি বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেয় তুরস্কের ত্রাণ ফাউন্ডেশন ইনসারলিক। ইনসারলিক একটি ইসলামিক ত্রাণ সংস্থা।
ইনসারলিকের ঘোষণায় বাস-ট্রাক ও মোটরসাইকেলে করে কয়েক শত মানুষ রবিবার বিকালে আদানার যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটির আশপাশে পৌঁছে যায়। তারা ইসরায়েল, যুদ্ধ ও যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী স্লোগান দিতে থাকে। ঘাঁটিটি বন্ধের দাবি জানায়। বিক্ষোভকারীরা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটির প্রাচীর ও বেড়ায় হামলা চালায়। এ সময় পুলিশ তাদের বাধা দেয়।
পরিস্থিতি খারাপ হতে দেখে বিক্ষুব্ধদের শান্ত করতে সামনে আসেন ইনসারলিকের প্রেসিডেন্ট বুলেন্ট ইলদিরিম। তিনি বলেন, বন্ধুরা আমাদের পুলিশ ও সেনাদের প্রতি চেয়ার, পাথর ছোড়া ঠিক হবে না। কারণ তারাও গাজায় গিয়ে ইসরায়েলি সেনাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে চায়। আমরা ভীষণ ক্ষুব্ধ ঠিক আছে। কিন্তু তুরস্ক যা পারে করছে।
তুর্কি প্রেসিডেন্ট ২৮ অক্টোবর গাজায় ইসরায়েলি হামলার প্রতিবাদে ইস্তাম্বুলে বিশাল সমাবেশ করেন। সেখানে প্রায় ১ লাখ মানুষ হয়। এরদোয়ান ইসরায়েলের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ করেন। প্রতিক্রিয়ায় ইসরায়েল তুরস্ক থেকে নিজেদের কূটনীতিকদের ফিরিয়ে নেয়। পাল্টাপ্রতিক্রিয়ায় ইসরায়েলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থগিত করে আঙ্কারা। তবে শুরুর দিকে ইসরায়েল-হামাসের মধ্যে মধ্যস্থতা করতে চেয়েছিলেন এরদোয়ান। হামাসের সঙ্গে তুরস্ক সুসম্পর্ক রক্ষা করে চলে।
আজ সোমবার আঙ্কারায় তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন বৈঠক করবেন। যুদ্ধ যাতে গাজার বাহিরে ছড়িয়ে না পড়ে, ইরানের সহায়তাপুষ্ট কোনো সশস্ত্র গোষ্ঠী যুদ্ধে পুরোদমে জড়িয়ে না পড়ে তা নিয়ে তারা আলোচনা করবেন বলে শোনা যাচ্ছে। তা ছাড়া যুদ্ধ শেষে গাজা কীভাবে শাসন করা হবে, সে বিষয়ে তুরস্কের দৃষ্টিভঙ্গি বুঝতেও চেষ্টা করবেন ব্লিঙ্কেন।
এসব বিষয়সহ সাময়িক যুদ্ধ থামানোর জন্য শুক্রবার (৩ নভেম্বর) চতুর্থবারের মতো ইসরায়েল যান ব্লিঙ্কেন।
পরের দিন জর্ডানে আরব নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। তারা সাময়িক যুদ্ধবিরামের পরিবর্তে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব করেন। ব্লিঙ্কেন তা প্রত্যাখ্যান করে যুদ্ধবিরামের ওপর জোর দেন।
পরের দিন রবিবার ব্লিঙ্কেন অধিকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের সঙ্গে বৈঠক করেন। সেখান থেকে ইরাকে যান। ইরাক থেকে যান তুরস্কে।
সূত্র : রয়টার্স