× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

পার্টি কংগ্রেস : ২০৩২ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকার মাঠ তৈরি করলেন শি

প্রবা ডেস্ক

প্রকাশ : ২২ অক্টোবর ২০২২ ২২:৩৬ পিএম

আপডেট : ২৩ অক্টোবর ২০২২ ১৩:৩৯ পিএম

চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। ছবি : সংগৃহীত

চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। ছবি : সংগৃহীত

কমিউনিস্ট পার্টি অব চীনের (সিপিসি) সপ্তাহব্যাপী ২০তম কংগ্রেস শনিবার (২২ অক্টোবর) শেষ হয়েছে। সমাপনী অনুষ্ঠানে কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব অনুমোদন করেছেন সিপিসির প্রায় ৯ কোটি ৬০ লাখ সদস্যের দুই হাজার ৩০০ প্রতিনিধি। এতে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে পার্টির সর্বময় ক্ষমতাধর নেতা হিসেবে স্বীকার করা হয়েছে। 

প্রস্তাবগুলোর বরাতে ব্রিটিশ গণমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সিপিসির ২০তম কংগ্রেসের শেষ দিন অনেক প্রস্তাব অনুমোদন করেছেন প্রতিনিধিরা। পার্টির সংবিধান সংস্কারের এসব প্রস্তাবের মধ্যে ‘টু স্টাব্লিশ’ ও ‘টু সেফগার্ডস’ স্লোগান দুটি অনেকের মনোযোগ কেড়েছে। এ দুটি শব্দগুচ্ছ দিয়ে সিপিসির কেন্দ্রীয় কমিটি বা সাধারণভাবে পুরো পার্টিতে শির একচ্ছত্র ক্ষমতা প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে, যা ইতিপূর্বে মাও সে-তুং ছাড়া কারও ছিল না।

শনিবার সিপিসির পরবর্তী পাঁচ বছরের জন্য ২০০ সদস্যের কেন্দ্রীয় কমিটির নাম প্রকাশ করা হয়েছে, যেখানে নারী রয়েছেন মাত্র ১১ জন। অন্য বিষয়ের মতো এ কমিটিরও অনুমোদন দিয়েছেন কংগ্রেসে উপস্থিত দুই হাজারের বেশি প্রতিনিধি। নতুন এ কমিটিতে আগের কমিটির যারা বাদ পড়েছেন, তাদের মধ্যে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী লি কেকিয়াং, উপপ্রধানমন্ত্রী হেং ঝেং, চাইনিজ পিপলস পলিটিক্যাল কনসালটেটিভ কনফারেন্সের প্রধান ওয়াং ইয়াং, ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেসের চেয়ার লি ঝেনশু অন্যতম। 

সমাপনী অনুষ্ঠান থেকে উঠিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে সাবেক প্রেসিডেন্ট হু জিনতাওকে। ছবি : সংগৃহীত 

কঠোর নজরদারি ও অত্যন্ত পরিকল্পিত সিপিসির ২০তম অধিবেশনের শেষ দিন একটি আলোড়ন করার মতো ঘটনা ঘটেছে। শির সমাপনী ভাষণের আগমুহূর্তে শির বাম পাশে বসা সাবেক চীনা প্রেসিডেন্ট (২০০২-২০১২) হু জিনতাওকে দুজন নিরাপত্তা কর্মকর্তা এসে উঠিয়ে নিয়ে যান। পাশে থাকা শি ও কেকিয়াংসহ পুরো সমাবেশ ছিল চুপচাপ। হু জিনতাওকে হঠাৎ কেন সরিয়ে নেওয়া হয়েছে, তাৎক্ষণিকভাবে তার কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি সিপিসি। 

সমাপানী ভাষণে প্রতিনিধিদের উদ্দেশে শি বলেন, ‘সংগ্রাম করার, সংগ্রাম করে জেতার জন্য সবাইকে প্রস্তুত হতে হবে। মাথা গুঁজে শুধু কাজ করবেন। এগিয়ে যাওয়ার জন্য বদ্ধপরিকর হতে হবে আমাদের।’

নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি রবিবার (২৩ অক্টোবর) শিকে তৃতীয় মেয়াদে সিপিসি সাধারণ সম্পাদক ঘোষণা করবে। শির নেতৃত্বে এ কমিটি ২৫ সদস্যের পলিটব্যুরো ও সাত সদস্যের পলিটব্যুরো স্ট্যান্ডিং কমিটি নির্বাচন করবে। এ দুই কমিটিরও ঘোষণা আসবে রবিবার। স্বাভাবিকভাবে শির পছন্দের লোকজনই অতিগুরুত্বপূর্ণ এসব কমিটিতে থাকবেন, এটা ধরেই নেওয়া যায়। 

পাঁচ বছর পর পর অনুষ্ঠিত সিপিসির কংগ্রেসে পার্টির সংবিধান সংস্কার একটি সাধারণ ঘটনা হলেও এবার বিরল কিছু ঘটেছে বলে মনে করেন যুক্তরাজ্যের সোয়াস বিশ্ববিদ্যালয়ের চায়না ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক স্টিভ সাং। তিনি বলেন, ‘শি এখন জননেতায় পরিণত হয়েছেন। মাও সে-তুংয়ের পর সাধারণত কাউকে এ সম্বোধন করা হয়নি। এর মধ্য দিয়ে শিও মাওয়ের মতো পার্টির চেয়ারম্যানে পরিণত হয়েছেন।’ 

সমাপনী অনুষ্ঠানে শি জিনপিং। ছবি : সংগৃহীত

বিষয়টি ব্যাখ্যা করে অধ্যাপক স্টিভ সাং বলেন, ‘জননেতা হওয়ার মাহাত্ম্য বা শক্তি হলো, এখন যত বছর বা যত মেয়াদ খুশি শি সিপিসির সাধারণ সম্পাদক (চেয়ারম্যান) এবং দেশের প্রেসিডেন্ট থাকতে পারবেন। তাকে সরানোর সাংবিধানিক ক্ষমতা কারও নেই।’

গতকাল যেসব সিদ্ধান্ত এসেছে, সেগুলোর প্রস্তুতি শুরু হয়েছিল অন্তত ২০১৮ সাল থেকে। ২০১৭ সালের ১৯তম পার্টি কংগ্রেসের পর ২০১৮ সালে চীনের সংবিধান সংশোধন করে প্রেসিডেন্টের দুই মেয়াদের বিধান বাতিল করেন শি। তখন থেকেই মূলত ক্ষমতায় দীর্ঘ দিন থাকার শির সুপ্ত বাসনা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। 

ওয়াশিংটনভিত্তিক থিঙ্কট্যাঙ্ক জেমসটাউন ফাউন্ডেশনের জ্যেষ্ঠ ফেলো উইলি লাম বলেন, ‘শিই এখন সিপিসির কেন্দ্রীয় কমিটি, পলিটব্যুরো এবং স্ট্যান্ডিং কমিটির প্রধান ব্যক্তি। এটা পার্টির জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা নষ্ট করবে। এখন অর্থনৈতিক উন্নয়নের চেয়ে আদর্শ ও নিরাপত্তার দিকেই বেশি মনোযোগ থাকবে শির। আগামী পাঁচ বছর নয়, সম্ভব ২০৩২ সালে পার্টির ২২তম কংগ্রেস থেকে ৭৯ বছর বয়সে অবসর নিতে চান শি জিনপিং।’ 

প্রবা/টিএ/এমজে

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা