প্রবা ডেস্ক
প্রকাশ : ২২ অক্টোবর ২০২২ ১১:০৬ এএম
আপডেট : ২২ অক্টোবর ২০২২ ১৩:৪৬ পিএম
জটিল কিডনি সমস্যায় (একেআই) শিশুমৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে ইন্দোনেশিয়ায়। ছবি : সংগৃহীত
ইন্দোনেশিয়ায় জটিল কিডনি সমস্যায় (একেআই) আক্রান্ত হয়ে শিশুমৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩৩-এ।
আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানিয়েছে।
মন্ত্রণালয় চলতি সপ্তাহে জানিয়েছিল, জানুয়ারির পর থেকে দেশে শিশুদের মধ্যে একেআই আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে যায়। যে কারণে শিশুদের জন্য ব্যবহৃত সব ধরনের সিরাপ ও তরল ওষুধ বিক্রি বন্ধ ঘোষণা করা হয়।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় আরও জানায়, কিছু সিরাপে একেআইয়ে আক্রান্ত হওয়ার উপাদানের সংযোগ পাওয়া গেছে। তবে এসব সিরাপ আমদানি করা না স্থানীয়ভাবে তৈরি, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বুদি গুনাদি সাদিকিন শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘২২টি প্রদেশে ২৪১ শিশু একেআইয়ে আক্রান্ত হয়েছে। যাদের অধিকাংশের বয়স পাঁচ বছরের কম। এতে মারা গেছে ১৩৩ শিশু।’
এর আগে গত সপ্তাহে ইন্দোনেশিয়ায় সিরাপ পানে ৯৯ শিশুর মৃত্যুর ঘটনা সামনে আসে; যার কিছুদিন আগে ঠান্ডা ও কাশির সিরাপ পানে প্রায় ৭০ শিশুর মৃত্যুর কথা জানায় গাম্বিয়া।
গাম্বিয়ার অভিযুক্ত সিরাপটি ভারতের একটি কোম্পানির তৈরি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) ল্যাব পরীক্ষায় ওই সিরাপটিসহ মোট চারটি সিরাপে ডাইইথিলিন গ্লাইকোল ও ইথিলিন গ্লাইকোলের মাত্রাতিরিক্ত উপস্থিতি পাওয়া যায়, যা শিশুদের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বুদি গুনাদি বলেন, ‘স্থানীয়ভাবে ব্যবহৃত কিছু ওষুধেও একই উপাদানের উপস্থিতি পাওয়া গেছে, যা ওই সিরাপে থাকার কথা নয় বা থাকলেও পরিমাণ অত্যন্ত কম হওয়ার কথা।’
তিনি আরও বলেন, প্রতি ১১ শিশুর মধ্যে সাতজনের শরীরে সেসব ক্ষতিকারক পদার্থ অর্থাৎ ইথিলিন গ্লাইকোল, ডাইইথিলিন গ্লাইকোল ও ইথিলিন গ্লাইকোল বিউটাইল ইথারের উপস্থিতি পাওয়া গেছে।
দেশটির খাদ্য ও ওষুধ সংস্থা স্থানীয়ভাবে তৈরি পাঁচটি ওষুধের নাম দিয়েছে যাতে অত্যধিক মাত্রার ইথিলিন গ্লাইকোল রয়েছে। ওই ওষুধ উৎপাদনকারীদের তাদের সব ওষুধ বাজার থেকে সরিয়ে ফেলার পাশাপাশি উৎপাদিত বাকি সব ওষুধ ধ্বংস করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষও আক্রান্ত শিশুদের বাড়িতে এরকম আরও ১০২টি সিরাপ উদ্ধার করে। যেগুলোয় একই ক্ষতিকারক পদার্থ খুঁজে পাওয়া যায়; যে কারণে বুধবার ওই ১০২টি সিরাপসহ সব ধরনের সিরাপ ও তরল ওষুধ বিক্রি স্থগিতের ঘোষণা দেয় কর্তৃপক্ষ।
প্রবা/এনএস/জেও