ইসরায়েল-হামাস যুদ্ধ
প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২০ অক্টোবর ২০২৩ ১৬:৪৫ পিএম
আপডেট : ২০ অক্টোবর ২০২৩ ১৭:৩৫ পিএম
একটি আহত ফিলিস্তিনি শিশু। ছবি : সংগৃহীত
যুদ্ধে মানুষ সংখ্যায় পর্যবসিত হয়। কিন্তু তাই বলে হতাহতের সংখ্যাটা কেবল ‘স্কোরবোর্ড’ নয়। এটা যুদ্ধের মাত্রা, ব্যাপ্তি, উভয় পক্ষের হামলার অনুপাত বুঝতে একান্ত প্রয়োজন।
ইসরায়েল-হামাস যুদ্ধে শুক্রবার (২০ অক্টোবর) পর্যন্ত ১৪ দিনে উভয় পক্ষে অন্তত ৬ হাজার ৭৬৯ জন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে অন্তত ১৭ হাজার।
হামাসের তথ্যমতে, শুক্রবার সকাল পর্যন্ত ইসরায়েলি হামলায় গাজায় ৩ হাজার ৭৮৫ জন নিহত হয়েছে। নিহতদের মধ্যে শিশু ১ হাজার ৫২৪। নারী অন্তত ১ হাজার। আহত হয়েছে ১২ হাজার ৪৯৩ জন।
একই সময়ে ইসরায়েলি সেনাদের গুলিতে অধিকৃত পশ্চিম তীরে নিহত হয়েছে অন্তত ৮১ জন ফিলিস্তিনি। সেখানে গ্রেপ্তার হয়েছে অন্তত ১ হাজার ৩০০ জন।
উভয় দেশের গাজার সীমান্তবর্তী অঞ্চল থেকে হামাসের অন্তত ১ হাজার ৫০০ যোদ্ধার মরদেহ উদ্ধারের দাবি করেছিল ইসরায়েল। এটা নিয়ে এ পর্যন্ত হামাস কোনো মন্তব্য করেনি।
১৮ অক্টোবর গাজার স্বাস্থ্য বিভাগ জানায়, অন্তত ১ হাজার ৩০০ মানুষ নিখোঁজ রয়েছে। এর মধ্যে শিশু প্রায় ৬০০। এরা নিহত কি না নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না।
গাজায় স্থানচ্যুত হয়েছে অন্তত ১০ লাখ, যা অবরুদ্ধ গাজার মোট জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক। গাজার জনসংখ্যা ২৩ থেকে ২৪ লাখ।
অন্যদিকে এ পর্যন্ত ইসরায়েল নিহত হয়েছে ১ হাজার ৪০৩ জন। এর মধ্যে শিশু ও নারী কতজন তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে সেনা ৩০৪ জন। একই সময়ে ইসরায়েল আহত হয়েছে প্রায় ৪ হাজার ৬২৯ জন। ইসরায়েলে হতাহতদের মধ্যে ১০০ এর বেশি বিদেশি ও দ্বৈত নাগরিক রয়েছে।
হামাসের হাতে ইসরায়েল অন্তত ২০৩ জন নাগরিক বন্দি রয়েছে। বন্দিদের মধ্যে সাধারণ নাগরিকের পাশাপাশি ইসরায়েলি সেনাও রয়েছে। তবে হামাসের দাবি ইসরায়েলি বন্দির সংখ্যা প্রায় ২৫০ জন।
৭ অক্টোবর হামাস ইসরায়েলে নজিরবিহীন রকেট হামলা চালায়। একই সঙ্গে হামাসের যোদ্ধারা গাজা থেকে সীমান্তবর্তী দক্ষিণ ইসরায়েলে অনুপ্রবেশ করে হত্যাযজ্ঞ চালায়। হামাসের এ হত্যাযজ্ঞ দুই দিনের মাথায় থামাতে সক্ষম হয় ইসরায়েল।
এরপর থেকে মূলত গাজায় একতরফা বিমান হামলা চালাচ্ছে ইসরায়েল। তাই বর্তমানে যা চলছে তাকে ‘যুদ্ধ’ বলা যায় কি না, তা প্রশ্ন সাপেক্ষ।
১৭ অক্টোবর গাজার আল-আহলি ব্যাপটিস্ট হাসপাতালে এক বিস্ফোরণে অন্তত ৪৭০ জন নিহত হয়। হামলার জন্য পরস্পরকে দায়ী করছে হামাস ও ইসরায়েল। যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলের দাবিকে সমর্থন করছে। তবে যুক্তরাজ্যসহ আরও কিছু দেশ ও জাতিসংঘ তদন্তের আগে হামলাকারীকে তা নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছে।
এ পরিস্থিতিতে ১৯ অক্টোবর গাজার দেড় হাজার বছরের পুরোনো একটি গির্জায় ইসরায়েলি বিমান হামলায় অন্তত ১৮ জন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে আরও অনেকে।
হামাসের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, শুক্রবার পর্যন্ত জ্বালানি, বিদ্যুৎ ও অন্য প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসামগ্রীর অভাবে গাজার চারটি হাসপাতাল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। স্বাস্থ্যকেন্দ্র বন্ধ হয়ে গেছে অন্তত ১৪টি। স্বাস্থ্যকর্মী নিহত হয়েছে ৪৪ জন।
সূত্র : আলজাজিরা, গার্ডিয়ান