প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২০ অক্টোবর ২০২৩ ১৩:৩৭ পিএম
আপডেট : ২০ অক্টোবর ২০২৩ ১৩:৪৪ পিএম
গাজা সীমান্তে একটি ইসরায়েলি ট্যাংক। ২০ অক্টোবর সকালে তোলা। ছবি : সংগৃহীত
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বৃহস্পতিবার (১৯ অক্টোবর) ফ্রন্টলাইনে পজিশনে থাকা সেনাদের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন। সেনাদের তিনি বলেছেন, সিংহের মতো যুদ্ধ করতে হবে। পূর্ণ বিজয় অর্জন করতে হবে।
একই দিন ফ্রন্টলাইনে যান ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইওভ গ্যালান্ট। সেনাদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, গাজাকে আপনারা এখন দূর থেকে দেখছেন। শিগগির ভেতর থেকে দেখবেন। নির্দেশ আসছে।
গাজায় ঢুকার জন্য উপত্যকাটির উত্তর, পূর্ব ও পূর্ব-দক্ষিণে প্রায় ৩ লাখ ৬০ হাজার ইসরায়েলি সেনা অপেক্ষা করছে। পশ্চিমে ভূমধ্যসাগরে প্রস্তুত রয়েছে রণতরি। আরেকটু দূরে পূর্ব ভূমধ্যসাগরে সার্বিক সহায়তায় মোতায়েন করা হয়েছে যুদ্ধবিমানবাহী যুক্তরাষ্ট্রের দুটি রণতরি।
এ দুই রণতরিতে প্রায় ১০ হাজার সেনা রয়েছে। তা ছাড়া ইসরায়েলের উপকূলে আরও ২ হাজার সেনা পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এর মধ্য দিয়ে ইসরায়েল উপকূলে যুক্তরাষ্ট্রের সেনা সংখ্যা দাঁড়াতে যাচ্ছে প্রায় ১২ হাজার।
এখন যুদ্ধকালীন জরুরি সরকারের নির্দেশ পেলেই পজিশনে থাকা ইসরায়েলি সেনারা প্রায় চারদিক থেকে গাজায় ঢুকবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষ করে গাজার উত্তর দিকে প্রাথমিকভাবে তারা অভিযান চালাচ্ছে।
ইসরায়েলের গাজা অভিযান ‘নজিরবিহীন বিপর্যয়’ ডেকে আনবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে জাতিসংঘ।
ইসরায়েল গাজায় স্থল অভিযান শুরু করলে যুদ্ধ অন্য ফ্রন্টেও ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ইরান বারবার এমন হুঁশিয়ারি দিয়েছে।
লেবানন, ইরাক, সিরিয়া ও ইয়েমেনে ইরানের প্রক্সি বাহিনী রয়েছে। তারা ইসরায়েলে হামলা চালাতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
তাই যুক্তরাষ্ট্রসহ ইসরায়েলের অন্য পশ্চিমা মিত্ররা গাজায় স্থল অভিযানের বিরোধী করছে বলে শোনা যাচ্ছে। কিন্তু গাজায় স্থল অভিযান পরিচালনা করা না করার সীদ্ধান্ত একান্ত ইসরায়েলের। বিরোধীতা সত্ত্বেও ইসরায়েল গাজায় স্থল অভিযান শুরু করলে ওয়াশিংটন ও অন্য মিত্ররা তেল-আবিবকে সব ধরনের সহায়তা দেওয়া অব্যাহত রাখবে বলে অনুমান করা হচ্ছে।
৭ অক্টোবর ইসরায়েলের ভেতরে ঢুকে হামাস যে হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছে তা দেশটির ৭৫ বছরের ইতিহাসে আর ঘটেনি। তাই নেতানিয়াহু সরকার এর চরম প্রতিশোধ নিতে চায়। এ জন্য সমগ্র গাজায় না হলেও উত্তর গাজায় তথা অবরুদ্ধ উপত্যকাটির প্রায় অর্ধেক অংশে নারকীয় তাণ্ডব চালাতে চালায় ইসরায়েল।
গাজায় হামলা চালাতে উত্তর ইসরায়েলে লেবানন থেকে হিজবুল্লাহ পূর্ণ মাত্রায় পাল্টা হামলা শুরু করতে পারে। তাই লেবানন সীমান্তে আড়াই মাইলের একটা বাফার জোন তৈরি করেছে এবং সেখান থেকে বাসিন্দাদের সরিয়ে নিয়েছে ইসরায়েল।
সূত্র : এএফপি, আল-মনিটর, আল-জাজিরা, গার্ডিয়ান