প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১৯ অক্টোবর ২০২৩ ১২:০৯ পিএম
আপডেট : ১৯ অক্টোবর ২০২৩ ১২:৩৬ পিএম
এক আহত ফিলিস্তিনিকে সরিয়ে নিচ্ছেন সাধারণ মানুষজন। ১৮ অক্টোবর মধ্য গাজায়। ছবি : সংগৃহীত
অবরুদ্ধ গাজা, অধিকৃত পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমে বুধবার রাত ও বৃহস্পতিবার ভোরে অন্তত আরও ৩৫ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে অন্তত ২৭ জন। এ নিয়ে বৃহস্পতিবার (১৯ অক্টোবর) সকাল পর্যন্ত ফিলিস্তিনি নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৪ হাজার ৯০৭।
জানা গেছে, বৃহস্পতিবার ভোরে দক্ষিণ গাজায় বিমান হামলা চালায় ইসরায়েল। এতে তিন পরিবারের অন্তত ৩০ জন নিহত হয়। আহত হয় আরও অন্তত ২১ জন।
অধিকৃত পশ্চিত তীরের উত্তরেও ইসরায়েলি সেনাদের গুলিতে নিহত হয় এক শিশু। একই ঘটনায় তার পিতা আহত হয়।
পশ্চিম তীরের রামাল্লাহ ও বেথেলহামে আলাদা দুই ঘটনায় নিহত হয় আরও ৩ ফিলিস্তিনি। এসব ঘটনায় আহত হয় আরও অন্তত ৬ জন। নিহতদের একজনের বয়স ১৪ বছর। তার নাম আহমদ মুনিস সাদৌক।
মধ্য গাজায়ও বুধবার রাতে ইসরায়েলি বিমান হামলায় অনেকে হতাহত হওয়ার খবর শোনা গেছে। তবে হতাহতের সংখ্যা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ইসরায়েল-হামাস যুদ্ধ বৃহস্পতিবার ১৩তম দিনে প্রবেশ করেছে। এ পর্যন্ত উভয় পক্ষে নিহত ৬ হাজার ৩০৭ ছাড়িয়েছে। এর মধ্যে ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষের হিসাবমতে নিজেদের নিহতের সংখ্যা ৩ হাজার ৪০৭।
কিন্তু গাজা সীমান্তবর্তী উভয় অঞ্চল থেকে হামাস যোদ্ধাদের প্রায় ১ হাজার ৫০০ মরদেহ উদ্ধারের দাবি করেছিল ইসরায়েল। হামাস এখন পর্যন্ত তা নিয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।
অন্যদিকে ইসরায়েলে নিহত হয়েছে প্রায় ১ হাজার ৪০০ জন। এর মধ্যে সেনা অন্তত ৩০৫ জন।
হামাসের হাতে বন্দি রয়েছে ১৯৯ থেকে ২৫০ ইসরায়েলি নাগরিক। এসব বন্দির অনেকের আবার যৌথ নাগরিকত্ব রয়েছে। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে অধিকৃত পশ্চিম তীর ও জেরুজালেম থেকে ইসরায়েল অন্তত ৬৫০ ফিলিস্তিনিকে গ্রেপ্তার করেছে।
১৩ দিনের যুদ্ধে মোট ১৬ জন সাংবাদিক নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে ফিলিস্তিনের ১১ জন, ইসরায়েলের তিনজন, লেবাননের একজন।
বুধবার (১৮ অক্টোবর) গাজার স্বাস্থ্য বিভাগ জানায়, অন্তত ১ হাজার ৩০০ মানুষ নিখোঁজ রয়েছে। এর মধ্যে শিশু প্রায় ৬০০। এরা নিহত কি না নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না।
এ পর্যন্ত ইসরায়েলে আহত হয়েছে ২ হাজারের বেশি মানুষ।
৭ অক্টোবর যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইসরায়েল গাজায় বিদ্যুৎ রপ্তানি ও পানি সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছে। ইসরায়েল নিয়ন্ত্রিত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড হয়ে গাজায় ত্রাণ ও পণ্যবাহী ট্রাকের প্রবেশও বন্ধ করে দিয়েছে দেশটি। এ অবস্থায় গাজায় নিত্যপণ্য, ওষুধ, পানি, জ্বালানির ভয়াবহ সংকট দেখা দিয়েছে।
তবে শুক্রবার (২০ অক্টোবর) থেকে দক্ষিণের রাফা ক্রসিং খুলতে সম্মত হয়েছে মিসর। এটা দিয়ে দৈনিক ২০টি করে ত্রাণবাহী ট্রাক গাজায় প্রবেশ করতে পারবে। কিন্তু দৈনিক ঢুকতে পারা উচিত অন্তত ১০০টি।
সূত্র : আলজাজিরা, আল-মনিটর, মিডলইস্টআইস