প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১৯ অক্টোবর ২০২৩ ১০:৫৪ এএম
আপডেট : ১৯ অক্টোবর ২০২৩ ১২:১৩ পিএম
মিসর দিয়ে গাজায় ঢুকতে রাফা ক্রসিংয়ে অপেক্ষা করছে ২০০-এর বেশি ট্রাক। ছবি : সংগৃহীত
অবরুদ্ধ গাজায় শুক্রবার (২০ অক্টোবর) থেকে মিসর হয়ে ত্রাণ নিয়ে ট্রাক ঢুকতে পারবে। রাফা ক্রসিং সীমিত পরিসরে খুলতে মিসর সম্মত হওয়ায় এটা সম্ভব হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে দিনে ২০টি ট্রাক ঢুকবে। কিন্তু ঢুকতে পারা উচিত অন্তত ১০০টি।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বুধবার (১৮ অক্টোবর) তেল আবিবে এ ঘোষণা দেন।
বাইডেন বলেন, রাফা ক্রসিং খোলার বড় কৃতিত্ব মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাতাহ আল-সিসির। তাকে ধন্যবাদ। তবে এ সম্মতি আপেক্ষিক। হামাস কী আচরণ করছে তার ওপরে এটা নির্ভর করছে। হামাস যদি সব ত্রাণ ছিনিয়ে নেয় তাহলে এটা ফের বন্ধ হয়ে যাবে।
মিসরের উপদ্বীপ উত্তর সিনাইয়ের রেড ক্রিসেন্টের প্রধান খালিদ জায়েদ বলেন, গাজায় ঢোকার জন্য মিসর সীমান্তে ২০০-এর বেশি ত্রাণবাহী ট্রাক অপেক্ষা করছে। এসব ট্রাকে প্রায় ৩ হাজার টন ত্রাণসামগ্রী রয়েছে।
জাতিসংঘের ত্রাণ বিভাগের প্রধান মার্টিন গ্রিফিথস বুধবার নিরাপত্তা পরিষদকে বলেছেন, গাজায় দৈনিক ১০০ ট্রাক ঢুকতে পারতে হবে। না হলে সেখানে যে পরিমাণ ত্রাণের চাহিদা রয়েছে তা পূরণ করা সম্ভব হবে না।
৭ অক্টোবর ইসরায়েল-হামাস যুদ্ধ শুরুর আগে রাফা ক্রসিং হয়ে দৈনিক ১০০ ট্রাক প্রবেশ করত।
হতাহত
ইসরায়েল-হামাস যুদ্ধ বৃহস্পতিবার ১৩তম দিনে প্রবেশ করেছে। এ পর্যন্ত উভয় পক্ষে নিহত ৬ হাজার ২৭১ ছাড়িয়েছে। এর মধ্যে ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষের হিসাবমতে নিজেদের নিহতের সংখ্যা ৩ হাজার ৩৭১।
কিন্তু গাজা সীমান্তবর্তী উভয় অঞ্চল থেকে হামাস যোদ্ধাদের প্রায় ১ হাজার ৫০০ মরদেহ উদ্ধারের দাবি করেছিল ইসরায়েল। হামাস এখন পর্যন্ত তা নিয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।
অন্যদিকে ইসরায়েলে নিহত হয়েছে প্রায় ১ হাজার ৪০০ জন। এর মধ্যে সেনা অন্তত ৩০৫ জন।
হামাসের হাতে বন্দি রয়েছে ২০০ থেকে ২৫০ ইসরায়েলি নাগরিক। এসব বন্দির অনেকের আবার যৌথ নাগরিকত্ব রয়েছে। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে অধিকৃত পশ্চিম তীর ও জেরুজালেম থেকে ইসরায়েল অন্তত ৬৫০ ফিলিস্তিনিকে গ্রেপ্তার করেছে।
১৩ দিনের যুদ্ধে মোট ১৬ জন সাংবাদিক নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে ফিলিস্তিনের ১১ জন, ইসরায়েলের তিনজন, লেবাননের একজন।
বুধবার (১৮ অক্টোবর) গাজার স্বাস্থ্য বিভাগ জানায়, অন্তত ১ হাজার ৩০০ মানুষ নিখোঁজ রয়েছে। এর মধ্যে শিশু প্রায় ৬০০। এরা নিহত কি না নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না।
এ পর্যন্ত ফিলিস্তিনি আহত হয়েছে ১২ হাজারের বেশি। স্থানচ্যুত হয়েছে ১০ লাখের বেশি। ধ্বংস হয়েছে ১১ হাজারের বেশি ঘরবাড়ি, হাসপাতাল ও অন্য অবকাঠামো। এ পর্যন্ত ইসরায়েলে আহত হয়েছে ২ হাজারের বেশি মানুষ।