প্রবা ডেস্ক
প্রকাশ : ১৯ অক্টোবর ২০২২ ১৮:২৫ পিএম
আপডেট : ১৯ অক্টোবর ২০২২ ১৯:৪২ পিএম
ইন্দোনেশিয়ায় জটিল কিডনি সমস্যায় (একেআই) আক্রান্তের ঘটনা বাড়ছে। ছবি : সংগৃহীত
ইন্দোনেশিয়ায় চলতি বছরে জটিল কিডনি সমস্যায় (একেআই) ৯৯ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, বুধবার (১৯ অক্টোবর) দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানিয়েছে।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মোহাম্মদ সাহরিল জানান, মঙ্গলবার পর্যন্ত ইন্দোনেশিয়ায় একেআইয়ে আক্রান্ত হয়েছে ২০৬ শিশু। এতে মৃত্যু হয়েছে ৯৯ জনের। আক্রান্ত ৬৫ শতাংশ রোগীর চিকিৎসা করা হচ্ছে জাকার্তায়।
এর আগে গাম্বিয়া সরকার জানিয়েছিল, জ্বরের চিকিৎসায় প্যারাসিটামল সিরাপ ব্যবহারের কারণেই শিশুরা একেআইয়ে আক্রান্ত হয়েছে এবং ৭০ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনার পর ইন্দোনেশিয়াতেও একই কারণে মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়।
ব্যবহৃত সিরাপে অতিরিক্ত পরিমাণ ডাইইথিলিন গ্লাইকোল ও ইথিলিন গ্লাইকোল পাওয়া গেছে বলে জানা যায়। ইন্দোনেশিয়ার খাদ্য ও ওষুধ সংস্থার কর্মকর্তারা জানান, স্থানীয়ভাবে সিরাপটি আর পাওয়া যায় না। এ ছাড়া সিরাপটিতে ব্যবহৃত উপাদানগুলো শিশুদের ওষুধ তৈরিতে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সাহরিল বলেন, ‘প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা হিসেবে, আমাদের গবেষণা ও তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত স্বাস্থ্য পরিষেবা বিভাগের সবাইকে আপাতত কোনো ধরনের সিরাপ বা তরল ওষুধ প্রেসক্রাইভ করতে নিষেধ করা হয়েছে।’
শিশুদের মধ্যে একেআইয়ে আক্রান্তের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় এর তদন্তে একটি বিশেষজ্ঞ দল গঠন করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
এ বিশেষজ্ঞ দলে স্থানীয় স্বাস্থ্য ও শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) প্রতিনিধিরা রয়েছেন। ডব্লিউএইচও বিশেষজ্ঞরা গাম্বিয়ার ঘটনাগুলোও তদন্ত করছেন।
মঙ্গলবার (১৮ অক্টোবর) ইন্দোনেশিয়ার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় একটি চিঠি পাঠায় সব হাসপাতালে। যেখানে একেআইয়ে আক্রান্ত শিশুদের টক্সিকোলজি পরীক্ষার জন্য তাদের যে ওষুধগুলো দেওয়া হয়েছে তা সংগ্রহ করার অনুরোধ জানানো হয় হাসপাতালগুলোকে। এ ছাড়া পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত সিরাপ জাতীয় সব ওষুধ বিতরণ স্থগিত রাখতে বলা হয় ওষুধ বিক্রেতাদের।
এর আগে ৯ অক্টোবর পশ্চিম আফ্রিকার দেশ গাম্বিয়ায় ভারতীয় কাশির সিরাপ খেয়ে ৬৬ শিশুর মৃত্যুর কথা জানা যায়। ভারত থেকে আমদানি করা চারটি সিরাপ সেবনের সঙ্গে মৃত্যুর সম্পর্ক খুঁজে পাওয়ায় তদন্ত শুরু হয়েছে বলে জানায় পুলিশ। এর আগে ওই চারটি কাশির সিরাপ নিয়ে বৈশ্বিক সতর্কতা জারি করেছিল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।
প্রবা/এনএস/এমজে