প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১২ অক্টোবর ২০২৩ ১২:৪৮ পিএম
আপডেট : ১২ অক্টোবর ২০২৩ ১৩:৪৫ পিএম
যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জ্যাক সুলিভান। ছবি : সংগৃহীত
ইউক্রেনের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা অব্যাহত থাকা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জ্যাক সুলিভান। বুধবার (১১ অক্টোবর) হোয়াইট হাউসে নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে সুলিভান এ শঙ্কার কথা বলেছেন।
সুলিভান বলেন, স্বল্প মেয়াদে আমাদের ইউক্রেন ও ইসরায়েল উভয় দেশকে একসঙ্গে সামরিক ও মানবিক সহায়তা দিতে হচ্ছে। আমরাও কিছু সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। এ অবস্থায় ইউক্রেনকে দীর্ঘমেয়াদে অব্যাহতভাবে সহায়তা দেওয়া সম্ভব নাও হতে পারে।
বাইডেন প্রশাসনের শীর্ষ এই কর্মকর্তা আরও বলেন, ইউক্রেন ও ইউক্রেনে তহবিল নিয়ে আমরা আসলে খাদের কিনারে চলে এসেছি। ইউক্রেনের জন্য আজকেও আমরা ২০ কোটি ডলার সহায়তা প্যাকেজ ঘোষণা করছি। যত দিন সম্ভব আমরা এমনটা করতে থাকব। কিন্তু এটি অনির্দিষ্ট কালের জন্য চলতে পারে না।
সুলিভানকে নিকটবর্তী সময় বলতে কী বুঝিয়েছেন তা জানতে চাইলে বলেছে, বিষয়টি নির্ভর করছে ইসরায়েল ও ইউক্রেন কত দ্রুত তাদের অস্ত্র-গোলাবারুদ ব্যবহার করে ফেলছে এবং তাদের চাহিদা কী ও এর বিপরীতে আমাদের কী কী সরবরাহের সক্ষমতা রয়েছে।
২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রুশ হামলার পর ইউক্রেনকে ৪ হাজার ৪০০ কোটি ডলারের সামরিক সহায়তা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এর বাহিরে কিয়েভকে মানবিক ও অর্থনৈতিক সহায়তাও দিয়েছে ওয়াশিংটিন।
ইউক্রেনে সামরিক সহায়তা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিবিদদের মধ্যে বড় ধরনের মতবিরোধ রয়েছে। বিরোধী রিপাবলিকানদের পাশাপাশি বাইডেনের ডেমোক্রেটিক পার্টির সদস্যরাও ইউক্রেনে এত বিপুল সহায়তা দেওয়ার বিরোধী।
এ অবস্থায় সেপ্টেম্বরের শেষের দিকে যুক্তরাষ্ট্রে জরুরি বাজেট বিল পাস হয়, যা স্টপগ্যাপ হিসেবে পরিচিত। এখন নির্দিষ্ট সময়ের চেয়ে বাইডেন প্রশসন ৪০ দিন বেশি প্রসাশন চালানোর জন্য বরাদ্দ পাবে। এটা পাস না হলে দেশটির কেন্দ্রীয় সরকারের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যেত। কিন্তু এতে ইউক্রেনের জন্য সহায়তাকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।
স্টপগ্যাস পাস করতে বাইডেনের রিপাবলিকান নিয়ন্ত্রিত প্রতিনিধি পরিষদের বা হাউসের সহায়তা লেগেছে। এ জন্য বাইডেনকে সহায়তা করেছে হাউসের রিপাবলিকান স্পিকার কেভিন ম্যাকার্থি।
স্টপগ্যাস বিল পাস করার প্রতিক্রিয়ায় ৪ অক্টোবর এক ভোটাভুটিতে পদচ্যুত হয় ম্যাকার্থি। এর মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম কোনো স্পিকারের পদ হারান।
সূত্র : আরটি, বিবিসি