প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১০ অক্টোবর ২০২৩ ০০:৪৫ এএম
আপডেট : ১০ অক্টোবর ২০২৩ ১১:০৩ এএম
ফিলিস্তিনের ইসলামি জিহাদের সামরিক শাখা আল-কুদস ব্রিগেডের দুই যোদ্ধা। ছবি : সংগৃহীত
ইসরায়েলের সঙ্গে হামাসের যুদ্ধে প্রতিবেশীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি উত্তেজনা ছড়িয়েছে লেবানন সীমান্তে। দক্ষিণ লেবানন সীমান্ত দিয়ে ইসরায়েলে ঢুকে পড়েছে ফিলিস্তিনের ইসলামি জিহাদের সামরিক শাখা আল-কুদস ব্রিগেড। এই সশস্ত্র গোষ্ঠী দাবি করেছে, তারা অভিযান চালাচ্ছে।
ইসরায়েলের সুরক্ষিত সীমানাপ্রাচীর ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করা আল-কুদস ব্রিগেডের যোদ্ধারা বলেছেন, তারা ইসরায়েলি বাহিনীর সঙ্গে সম্মুখযুদ্ধ করছেন। কয়েকজন ইসরায়েলি সেনা আহত হয়েছেন।
ইসরায়েলের উত্তর সীমান্তে অর্থাৎ লেবানন সীমান্তে সংঘর্ষ ও গোলাগুলি ঘটেছে। স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছেন, দক্ষিণ লেবানন থেকে একদল সশস্ত্র ব্যক্তি সীমান্ত দেয়ালে বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ইসরায়েলের ভেতরে প্রবেশ করেছেন।
ইসরায়েল-লেবাননের এ সীমান্ত পয়েন্টটি আল দাহিরা উপশহরের কাছেই অবস্থিত। সশস্ত্র ব্যক্তিদের ঠেকাতে আকাশে বিমান ও ড্রোন ওড়াচ্ছে ইসরায়েলি বাহিনী।
লেবানন ভূখণ্ড থেকে ইসরায়েলে ১২টি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে বলে কোনো কোনো সূত্র দাবি করেছেন। এর আগে গতকাল লেবাননের হিজবুল্লাহ ইসরায়েলের তিনটি অবস্থানে কামানের গোলা ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়।
ফিলিস্তিনের গাজা নিয়ন্ত্রণকারী সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাস ও ইসরায়েলের মধ্যে ভয়াবহ যুদ্ধে হতাহতের সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। সোমবার (৯ অক্টোবর) সন্ধ্যা পর্যন্ত আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, এ যুদ্ধে উভয় পক্ষে নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৩৬০।
ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে আলজাজিরা জানিয়েছে, শনিবার থেকে সোমবার পর্যন্ত তিন দিনে ইসরায়েলের হামলায় ৫৬০ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ২ হাজার ৯০০ জন।
ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ‘কান’-এর বরাত দিয়ে দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে, তিন দিনে হামাসের হামলায় অন্তত ৮০০ ইসরায়েলি নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ২ হাজার ৪০০ জন।
সোমবার (৯ অক্টোবর) গাজা অবরোধ করে ইসরায়েল হামলা চালানোর পর থেকে ফিলিস্তিনে হতাহতের সংখ্যা বাড়ছেই। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, অবরুদ্ধ গাজার তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া সম্ভব হচ্ছে না। ফলে গাজা উপত্যকায় নিহতের সংখ্যা ঠিক কত, তা পরিষ্কার করে বলা যাচ্ছে না।
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকার চারপাশ ঘিরে বাসিন্দাদের অবরুদ্ধ করে নির্বিচার হামলা চালাচ্ছে ইসরায়েল। স্কুল, মসজিদ, হাসপাতাল, আবাসিক ভবন সর্বত্রই বিমান থেকে বোমা হামলা চালানো হচ্ছে। এ ধরনের নির্বিচার হামলা এর আগে করেনি দেশটি। এসব হামলায় সেখানে সত্যিই কী ঘটছে, তাৎক্ষণিকভাবে তা জানা যাচ্ছে না।