সিকিমে বন্যা
প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ০৬ অক্টোবর ২০২৩ ১৩:০৪ পিএম
আপডেট : ০৬ অক্টোবর ২০২৩ ১৪:০৭ পিএম
সিকিমের বন্যার দৃশ্য। ছবি : সংগৃহীত
ভারতের সিকিমে ভারী বৃষ্টিতে সৃষ্ট বন্যায় এ পর্যন্ত অন্তত ৩৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতের মধ্যে চারজন সেনা সদস্য রয়েছেন। নিখোঁজ রয়েছেন অন্তত ৭৮ জন।
বন্যায় নিহতদের লাশ ভেসে আসছে বাংলাদেশেও। এ ছাড়া ভেসে আসা লাশ পাওয়া যাচ্ছে পশ্চিমবঙ্গের জলপাইগুড়ি, কোচবিহার ও শিলিগুড়িতে। শুক্রবার (৬ অক্টোবর) টাইমস অব ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।
৩ অক্টোবর রাতে প্রবল বৃষ্টির কারণে ভারতের সিকিমের দক্ষিণ লোনাক লেক উপচে এবং চুংথাম বাঁধের একাংশ ভেঙে পানির স্রোত নেমে আসে তিস্তা নদীতে। ফলে তিস্তার ভাটি অঞ্চলে বন্যা দেখা দেয়। বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের কয়েকটি জেলায়ও বন্যার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
যেসব লাশ পাওয়া গেছে তার বেশিরভাগ তিস্তার ভাটি অঞ্চল জলপাইগুড়ির গজলডোবা, ময়নাগুড়ি ও কোতোয়ালিতে। এ ছাড়া কোচবিহারের কুচলিবাড়ি ও হলদিবাড়ি, মিলনপল্লী ও শিলিগুড়িতে তিস্তা ব্যারাজ এলাকায়ও লাশ পাওয়া গেছে। কয়েকটি লাশ ভেসে এসেছে বাংলাদেশের গাইবান্ধায়ও।
হঠাৎ বন্যার ঘটনায় সিকিম প্রশাসন সেখানকার বাসিন্দাদের জন্য উচ্চ সতর্কতা জারি করেছে। সামাজিক মাধ্যমে স্থানীয় বাসিন্দাদের শেয়ার করা ভিডিওতে দেখা যায়, পানিতে ভেসে গেছে সড়ক। নদীতে জলোচ্ছ্বাসের মতো অবস্থা।
বৃষ্টি থেমে যাওয়ায় এবং পানির স্তর স্বাভাবিক হয়ে আসার পর অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান জোরদার করা হয়েছে। রাস্তা ডুবে যাওয়ায় এবং টেলিকম অবকাঠামো ধ্বংস হওয়ায় উত্তর সিকিম যোগাযোগবিচ্ছিন্ন রয়েছে। জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের ড্যাম ভেঙে যাওয়ায় জলপাইগুড়ির তিস্তায় দুই কূল ছাপিয়ে বন্যার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে পশ্চিমবঙ্গের সমতলে। বিপদ এড়াতে নদীপারের বাসিন্দাদের নিরাপদ জায়গায় সরানো হয়।
দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় সিকিমের বিভিন্ন স্থানে আটকে পড়েছেন হাজারো পর্যটক। ভারতীয় সেনাবাহিনী বলেছে, এ অঞ্চলে আবহাওয়ার উন্নতি হওয়ায় তারা এখন হেলিকপ্টার ব্যবহার করে প্রায় ১ হাজার ৫০০ আটকে পড়া পর্যটককে সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করছে।
সিকিমে ভারী বৃষ্টিতে তিস্তা নদীর চুংথাম বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সব গেট খুলে দেওয়া হয়েছে। এতে উজানে তিস্তার পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ওপরে বইছে। পানি বিপদসীমার ৫০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে।
এ পরিস্থিতে বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের পাঁচ জেলায় বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। নীলফামারী, লালমনিরহাট, রংপুর, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধা জেলার সব কর্মকর্তা ও কর্মচারীর ছুটি বাতিল করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)।
সূত্র : টাইমস অব ইন্ডিয়া