× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

আকস্মিক বন্যা-ঢল

সিকিমের বিপর্যয়কে দুর্যোগ ঘোষণা

প্রবা প্রতিবেদন

প্রকাশ : ০৫ অক্টোবর ২০২৩ ২১:০৭ পিএম

আপডেট : ০৫ অক্টোবর ২০২৩ ২১:২৭ পিএম

ভারতের সিকিমে হড়কা বানের পানি নেমে তিস্তা নদী হয়ে এসেছে। সেখানে দেখা যাচ্ছে ধ্বংসের চিহ্ন। লোনাক হ্রদের পাড়ে সেনাদের কয়েকটি গাড়ি। ছবি : সংগৃহীত

ভারতের সিকিমে হড়কা বানের পানি নেমে তিস্তা নদী হয়ে এসেছে। সেখানে দেখা যাচ্ছে ধ্বংসের চিহ্ন। লোনাক হ্রদের পাড়ে সেনাদের কয়েকটি গাড়ি। ছবি : সংগৃহীত

ভারতের সিকিমে আকস্মিক বন্যায় সৃষ্ট বিপর্যয়কে দুর্যোগ হিসেবে ঘোষণা করেছে সিকিমের রাজ্য সরকার। গত দুই দিনে রাজ্যটিতে হড়কা বান ও ঢলে কমপক্ষে ১৪ জন বেসামরিক লোকের মৃত্যু হয়েছে। সেনাসদস্যসহ নিখোঁজ অন্তত ১০২ জন। সিকিম থেকে নেমে আসা ঢল ও অতিবৃষ্টিতে আসাম ও পশ্চিমবঙ্গেও জনজীবন স্থবির হয়ে পড়েছে। নদীর স্রোতের সঙ্গে ভেসে আসছে মরদেহ। জলপাইগুড়িতে কয়েকটি লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, সিকিমে অতিবৃষ্টিতে তিস্তা নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এক সরকারি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আকস্মিক বন্যায় সিকিমে ১৪টি সেতু ভেঙে গেছে। রাজ্যের বিভিন্ন অংশে তিন হাজারের বেশি পর্যটক আটকা পড়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আনন্দবাজার পত্রিকা জানিয়েছে, সিকিমে ৩০টি ত্রাণশিবির খোলা হয়েছে। পানি-কাদায় তলিয়ে গেছে সেনাবাহিনীর ৪১টি গাড়ি। ডেকুচু ও চুথাংয়ের জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের বাঁধ ভেঙে গেছে।

গত মঙ্গলবার রাতে সিকিমে ভারী বৃষ্টি হয়। অতিবৃষ্টিতে সিকিমের উত্তরাঞ্চলের লোনাক হ্রদের পানি অনেক বেড়ে যায়। এর প্রভাব পড়ে তিস্তা নদীর ওপর। বৃষ্টির পাশাপাশি রাজ্যের চানথাং বাঁধের অতিরিক্ত পানি ছেড়ে দিলে তিস্তা নদীর ভাটিতে পানির উচ্চতা ১৫ থেকে ২০ ফুট বেড়ে যায়।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইনের অধীন সিকিম রাজ্য সরকার এ বিপর্যয়কে একটি দুর্যোগ হিসেবে ঘোষণা করেছে। বুধবার সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়, নিখোঁজ ২৩ সেনাসদস্যের মধ্যে একজনকে উদ্ধার করা হয়েছে। ফলে এখন নিখোঁজ সেনাসদস্যের সংখ্যা ২২।

অতিবৃষ্টির জেরে আকস্মিক বন্যায় বেশ কিছু মানুষ আহত হয়েছেন। ২৫ জনের বেশি আহত ব্যক্তি বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। আকস্মিক বন্যায় সিকিমের বিভিন্ন এলাকার জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। রাজ্যের বিভিন্ন অংশে মোবাইল নেটওয়ার্ক ও ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সংযোগ বিঘ্নিত হচ্ছে।

দুর্যোগ পরিস্থিতি মোকাবিলায় রাজ্য সরকার ন্যাশনাল ডিজাস্টার রেসপন্স ফোর্সের অতিরিক্ত তিনটি প্লাটুন মোতায়েনের জন্য কেন্দ্রের কাছে অনুরোধ জানায়। রাজ্য সরকারের এ অনুরোধ অনুমোদন করেছে কেন্দ্র।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেছেন, তিনি ইতোমধ্যে রাজ্যটির মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছেন। রাজ্যের এ দুর্যোগে তাকে সাহায্য-সমর্থনের আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।

সিকিমের পাহাড়ি ঢলের রেশ পড়েছে পশ্চিমবঙ্গের কালিম্পং, দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি ও কোচবিহার জেলার বিভিন্ন এলাকায়। এসব জেলার অনেক এলাকা ভেসে গেছে। এরই মধ্যে জলপাইগুড়িতে বৃহস্পতিবার ভোরে বন্যার স্রোতে কয়েকটি মরদেহ ভেসে এসেছে। জলপাইগুড়ির গজলডোবার তিস্তা নদী থেকে উদ্ধার করা হয়েছে তিনটি মরদেহ।

কলকাতার আলিপুর আবহাওয়া অফিস বলেছে, উত্তরবঙ্গের কয়েকটি জেলায় বৃহস্পতিবার ভারী বৃষ্টি হয়েছে। জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার ও কোচবিহার জেলার বিক্ষিপ্ত এলাকায় মাত্রাতিরিক্ত ভারী বৃষ্টিপাত হয়েছে। উত্তরের এই তিন জেলায় রেড অ্যালার্ট জারি করেছে পশ্চিমবঙ্গ আবহাওয়া অফিস।

বন্যায় বিধ্বস্ত হয়েছে দার্জিলিং জেলার কালিম্পং। এখানকার সড়কের ১৫টি জায়গায় ধস নেমেছে। যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। বাড়ছে দার্জিলিংয়ের নদীর পানি। চলছে বিপদসীমার ওপর দিয়ে। বিপজ্জনক এলাকা থেকে সরানো হয়েছে প্রায় দুই হাজার মানুষকে। দার্জিলিংয়ের একটি ত্রাণশিবিরে আশ্রয় দেওয়া হয়েছে দুই শতাধিক মানুষকে। সিকিমে আটকে পড়া পর্যটকদের জন্য খোলা হয়েছে কন্ট্রোল রুম।

সূত্র : এনডিটিভি ও আনন্দবাজার।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা