ব্লিঙ্কেন-জয়শঙ্কর বৈঠক
প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৩ ১৬:০১ পিএম
আপডেট : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৩ ১৮:২১ পিএম
ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর (বাঁমে) ও যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন। ২৮ সেপ্টেম্বর ওয়াশিংটন ডিসিতে। ছবি : সংগৃহীত
কানাডায় শিখ নেতা হরদীপ সিং নিজ্জার হত্যা নিয়ে ভারত-কানাডার সম্পর্ক তলানিতে ঠেকেছে। হত্যাকাণ্ডটির তদন্তে কানাডাকে পূর্ণ সহযোগিতা দিতে ভারতের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ও দিল্লির দুই শীর্ষ কর্মকর্তার বৈঠক শেষে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র বিভাগের প্রকাশিত বিবৃতিতে নিজ্জার হত্যা নিয়ে কিছু বলা হয়নি।
জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (২৮ সেপ্টেম্বর) ওয়াশিংটন ডিসিতে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন ও ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর বৈঠক করেছেন। বৈঠকে তারা নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছেন। বৈঠকে নিজ্জার হত্যা নিয়েও আলোচনা হবে বলে আশা করা হয়েছিল।
কিন্তু বৈঠক শেষে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র বিভাগের দেওয়া বিবৃতিতে নিজ্জার হত্যা নিয়ে কিছু বলা হয়নি। বিবৃতিতে বলা হয়, আমাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে টু প্লাস টু বৈঠকের গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করেছেন। আসন্ন এ বৈঠকে দুই দেশের পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষামন্ত্রীরা অংশে নেবেন। এতে প্রতিরক্ষা, মহাকাশ গবেষণা ও নির্মল জ্বালানি নিয়ে আলোচনা হবে।
দুই মন্ত্রী বৈঠকে ভারতে সদ্যসমাপ্ত জি-২০ এর বৈঠক নিয়েও আলোচনা করেছেন। আলোচনা করেছেন ইন্ডিয়া-মিডল ইস্ট-ইউরোপ ইকোনমিক করিডোর নিয়ে।
অথচ ব্লিঙ্কেন ও জয়শঙ্করের বৈঠকের আগে কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোকে সাংবাদিকেরা প্রশ্ন করেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র কী নিজ্জার হত্যা নিয়ে দিল্লির কর্মকর্তাকে কিছু বলবেন?
উত্তরে ট্রুডো বলেন, হ্যাঁ, ওয়াশিংটন বিষয়টি অবশ্য উঠাবে। ভারতীয় কর্মকর্তার সঙ্গে এসব চ্যালেঞ্জ নিয়ে তারা অবশ্য আলোচনা করবেন।
বৈঠক নিয়ে ব্লিঙ্কেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্ট দিয়েছেন। সেখানেও তিনি নিজ্জার হত্যা নিয়ে জয়শঙ্করের সঙ্গে আলোচনা হওয়ার কোনো কথা বলেননি।
অন্যদিকে বৃহস্পতিবার ট্রুডো বলেছেন, ভারতের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক অত্যন্ত মূল্যবান। ভারত সমৃদ্ধশীল অর্থনীতি। ভূরাজনৈতিকভাবেও গুরুত্বপূর্ণ। ভারতের সঙ্গে আমরা ঘনিষ্ট সম্পর্ক চাই। তবে হ্যাঁ, এ বিষয়টির (নিজ্জার হত্যা) তদন্তে ভারতের উচিত কানাডাকে সহায়তা করা।
১৮ সেপ্টেম্বর জাস্টিন ট্রুডো কানাডার পার্লামেন্টে দাবি করেন, হরদীপ সিংয়ের হত্যার সঙ্গে ভারতের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। ভারতীয় এজেন্টরাই তাকে হত্যা করেছে। এ বিষয়ে আমাদের হাতে ‘বিশ্বাসযোগ্য অভিযোগ’ রয়েছে। নিজ মাটিতে কানাডার নাগরিককে হত্যা আমাদের সার্বভৌমত্বে আঘাত। এর মধ্য দিয়ে ভারত মুক্ত, স্বাধীন ও গণতান্ত্রিক আন্তর্জাতিক নিয়মের লঙ্ঘন করেছে। এটা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
ভারত কানাডার দাবি সঙ্গে সঙ্গে প্রত্যাখ্যান করেছে। দিল্লির দাবি, অটোয়ার এ দাবি ‘অযৌক্তিক’ ও ‘উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’।
এরপর দুই দেশই পাল্টা-পাল্টি পদক্ষেপ নিয়েছে। উভয় দেশ কূটনীতিক বহিষ্কার করেছে। নাগরিকদের চলাচলে সতর্কতা জারি করেছে।
বিষয়টি এখানেই সীমাবদ্ধ নয়। এর সঙ্গে আন্তর্জাতিক শক্তিগুলোও জড়িয়ে গেছে। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও অস্ট্রেলিয়া হরদীপ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে ভারতের সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে। তারা কানাডার তদন্তে ভারতকে পূর্ণ সহযোগিতা দিতে আহ্বান জানিয়েছে।
এ পরিস্থিতিতে ২০ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে দেখা করেছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। তাদের বৈঠকের পর কানাডায় অনির্দিষ্টকালের জন্য ভিসা কার্যক্রম স্থগিতের নোটিস দেয় ভারত।
এ পরিস্থিতিতে কানাডায় ২০ সেপ্টেম্বর খালিস্তানপন্থি আরেক যুবক নিহত হয়েছেন। নিহত যুবকের নাম সুখদুল সিং। যিনি সুখা দুনেকে নামে বেশি পরিচিত।
ওই দিন কানাডার উইনিপেগে অজ্ঞাত ব্যক্তিরা গুলি করে তাকে হত্যা করে। দুনেকে কানাডার খালিস্তান আন্দোলনের বড় কণ্ঠস্বর।
যুক্তরাষ্ট্র নিজ্জার হত্যা নিয়ে ইতঃপূর্বে একাধিকবার মন্তব্য করেছে। দেশটি নিজ্জার হত্যা নিয়ে কানাডার তদন্তে ভারতকে সহযোগিতা করতে আহ্বান জানিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ কর্মকর্তাদের মধ্যে পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন নিজ্জার হত্যা নিয়ে ২৩ সেপ্টেম্বর প্রথমবার মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেছেন, নিজ্জার হত্যা নিয়ে ভারত দায়িত্বশীল আচরণ করবে বলে আমরা আশা করি।
কানাডার ব্রিটিশ কলম্বিয়া প্রদেশের ভ্যাঙ্কুভার শহরের একটি শিখ মন্দিরের বাইরে ১৮ জুন হরদীপ সিং নিজ্জারকে গুলি করে হত্যা করা হয়। নিজেদের মাটিতে নিজেদের নাগরিক হত্যার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নেয় কানাডা। তা নিয়ে দেশটির গোয়েন্দা সংস্থা নিবিড় তদন্ত শুরু করে।
হরদীপ কে
হরদীপ সিং ভারতে শিখদের জন্য স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার অন্যতম আন্তর্জাতিক কণ্ঠস্বর। ৪৫ বছর বয়সি হরদীপের জন্ম ভারতের পাঞ্জাবে। ১৯৯০-এর দশকে যুবক বয়সে কানাডায় পাড়ি জমান তিনি।
হরদীপ খালিস্তান টাইগার ফোর্সের প্রধান। এটাকে সন্ত্রাসী সংগঠন মনে করে ভারত। হরদীপের হত্যাকারীদের পুরস্কারের ঘোষণা দিয়েছিলেন ভারতের শীর্ষ কর্মকর্তারা। তিনি ভারতের মোস্ট ওয়ান্টেড ব্যক্তিদের অন্যতম ছিলেন।
সূত্র : স্ক্রলডটইন, আলজাজিরা