প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৩ ১১:৫৬ এএম
আপডেট : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৩ ১২:০৫ পিএম
নাগোর্নো-কারাবাখ ছাড়ছে মানুষ। ২৫ সেপ্টেম্বর তোলা। ছবি : সংগৃহীত
নাগোর্নো-কারাবাখ প্রজাতন্ত্রের বিলুপ্তি ঘোষণা করা হয়েছে। স্বঘোষিত প্রজাতন্ত্রটির প্রেসিডেন্ট সম্ভল শাহরামান বৃহস্পতিবার এ ঘোষণা দেন।
বৃহস্পতিবার (২৮ সেপ্টেম্বর) এক ঘোষণায় সম্ভল শাহরামান বলেন, নাগোর্নো-কারাবাখের বিলুপ্তি ঘোষণা করা হলো। ২০২৪ সালের ১ জানুয়ারির পর এ প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রীয় কোনো প্রতিষ্ঠান আর কার্যকর থাকবে না। এ অঞ্চলে যেসব নাগরিক ইতোমধ্যে দেশ ছেড়েছেন তারা চাইলে ফিরে আসতে পারবেন। বিদ্রোহীরা অস্ত্র জমা দিলেও তারা সম্পূর্ণ মুক্তভাবে এখানে থাকতে এবং চলাফেরা করতে পারবেন।
এ ঘোষণার পর দিন শুক্রবার (২৯ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানায়, নাগোর্নো-কারাবাখের দুই-তৃতীয়াংশের বেশি নাগরিক আর্মেনিয়ায় আশ্রয় নিয়েছে। আজারবাইজান গত সপ্তাহে অঞ্চলটি দখল করার পর স্থানীয় আর্মেনীয় গোষ্ঠীর লোকজন দলে দলে নাগোর্নো-কারাবাখ ছাড়তে শুরু করে। অঞ্চলটিতে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার আর্মেনীয় বসবাস করত বলে জানা গেছে।
১৯ সেপ্টেম্বর নাগোর্নো-কারাবাখে সামরিক অভিযান শুরু করে আজারবাইজান। রাশিয়ার মধ্যস্থতায় ২০ সেপ্টেম্বর স্থানীয় সময় দুপুর ১টা থেকে অস্ত্রবিরতিতে সম্মত হয় নাগোর্নো-কারাবাখের বিদ্রোহীরা।
নাগোর্নো-কারাবাখ আন্তর্জাতিকভাবে আজারবাইজানের স্বীকৃত অংশ হলেও নিজেদের আর্মেনিয়ার অংশ মনে করেন স্থানীয় বিদ্রোহীরা। এ নিয়ে ১৯৯০ সালে তৎকালীন সোভিয়েত রাশিয়া বিলুপ্ত হওয়ার পর থেকে বেশ কয়েকবার যুদ্ধ হয়।
১৯৯৪ সালে এক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে আজারবাইজান থেকে অঞ্চলটি আলাদা হয়ে যায়। তবে বিশ্বের অধিকাংশ দেশ নাগোর্নো-কারাবাখকে আজারবাইজানের অংশ বলে স্বীকার করে। তা সত্ত্বেও নাগোর্নো-কারাবাখের শাসকরা আর্মেনীয় সরকারের প্রতি অনুগত ছিল। ২০২০ সাল পর্যন্ত নাগোর্নো-কারাবাখ আর্মেনিয়ার দখলে ছিল। কিন্তু এ বছর এক ভয়াবহ যুদ্ধের মাধ্যমে গহিন অরণ্যের ওই বিচ্ছিন্ন অঞ্চল দুটি পুনর্দখল করে আজারবাইজান।
যুদ্ধটি রাশিয়ার মধ্যস্থতায় শেষ হয়। এর পর থেকে সেখানে রাশিয়ার শান্তিরক্ষী বাহিনীর সেনারা কাজ করছে।