নিজ্জার হত্যা
প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৩ ১৫:৩৮ পিএম
আপডেট : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৩ ১৭:০৬ পিএম
কানাডার ব্রিটিশ কলম্বিয়ায় শিখদের উপাসনালয় গুরুদুয়ারার গেটে একটি পোস্টার। হরদীপ সিং নিজ্জার হত্যার পর এটা লাগানো হয়েছে। ছবি : সংগৃহীত
হরদীপ সিং নিজ্জার হত্যাকাণ্ড নিয়ে কানাডার হাতে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ থাকলে তা নিয়ে তদন্ত করতে প্রস্তুত ভারত। তবে ভারত সরকার এই শিখ নেতা হত্যার সঙ্গে জড়িত নয়।
মঙ্গলবার (২৬ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘের সাধারণ সভার চলমান ৭৮তম অধিবেশনের ভাষণে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর এসব কথা বলেছেন।
জয়শঙ্কর বলেন, প্রথমত, বিচারবহির্ভূত হত্যা ভারত সরকারের নীতি নয়। দ্বিতীয়ত, আমরা কানাডাকে বলতে চাই আপনাদের হাতে (নিজ্জার হত্যা নিয়ে) সুনির্দিষ্ট ও প্রাসঙ্গিক কিছু থাকলে আমাদের জানান। আমরা তা নিয়ে তদন্ত করব।
ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও অভিযোগ করেন, কানাডাকে আমরা ইতঃপূর্বে শিখদের সংঘবদ্ধ অপরাধ নিয়ে অনেক তথ্য দিয়েছি। কিন্তু কানাডা সরকার আমাদের দেওয়া তথ্য গুরুত্বের সঙ্গে নেয়নি। আমরা কিছু সন্ত্রাসীকে (কানাডায় বসবাসকারী শিখ নেতাকে) ভারতের হাতে তুলে দিতে কানাডা সরকারের প্রতি অনুরোধ করেছিলাম। কিন্তু তারা তাতে কর্ণপাতই করেনি।
১৮ সেপ্টেম্বর কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো দেশটির পার্লামেন্টে দাবি করেন, হরদীপ সিংয়ের হত্যার সঙ্গে ভারতের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। ভারতীয় এজেন্টরাই তাকে হত্যা করেছে। এ বিষয়ে আমাদের হাতে ‘বিশ্বাসযোগ্য অভিযোগ’ রয়েছে। নিজ মাটিতে কানাডার নাগরিককে হত্যা আমাদের সার্বভৌমত্বে আঘাত। এর মধ্য দিয়ে ভারত মুক্ত, স্বাধীন ও গণতান্ত্রিক আন্তর্জাতিক নিয়মের লঙ্ঘন করেছে। এটা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
ভারত কানাডার দাবি সঙ্গে সঙ্গে প্রত্যাখ্যান করেছে। দিল্লির দাবি, অটোয়ার এ দাবি ‘অযৌক্তিক’ ও ‘উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’।
এরপর দুই দেশই পাল্টা-পাল্টি পদক্ষেপ নিয়েছে। উভয় দেশ কূটনীতিক বহিষ্কার করেছে। নাগরিকদের চলাচলে সতর্কতা জারি করেছে।
বিষয়টি এখানেই সীমাবদ্ধ নয়। এর সঙ্গে আন্তর্জাতিক শক্তিগুলোও জড়িয়ে গেছে। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও অস্ট্রেলিয়া হরদীপ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে ভারতের সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে। তারা কানাডার তদন্তে ভারতকে পূর্ণ সহযোগিতা দিতে আহ্বান জানিয়েছে।
এ পরিস্থিতিতে ২০ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে দেখা করেছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। তাদের বৈঠকের পর কানাডায় ভিসা কার্যক্রম স্থগিতের নোটিস দেয় ভারত। কানাডায় ২০ সেপ্টেম্বর খালিস্তানপন্থি আরেক যুবক নিহত হয়েছেন। নিহত যুবকের নাম সুখদুল সিং। যিনি সুখা দুনেকে নামে বেশি পরিচিত।
ওই দিন কানাডার উইনিপেগে অজ্ঞাত ব্যক্তিরা গুলি করে তাকে হত্যা করে। দুনেকে কানাডার খালিস্তান আন্দোলনের বড় কণ্ঠস্বর।
যুক্তরাষ্ট্র নিজ্জার হত্যা নিয়ে ইতঃপূর্বে একাধিকবার মন্তব্য করেছে। দেশটি নিজ্জার হত্যা নিয়ে কানাডার তদন্তে ভারতকে সহযোগিতা করতে আহ্বান জানিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ কর্মকর্তাদের মধ্যে পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন নিজ্জার হত্যা নিয়ে ২৩ সেপ্টেম্বর প্রথমবার মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেছেন, নিজ্জার হত্যা নিয়ে ভারত দায়িত্বশীল আচরণ করবে বলে আমরা আশা করি।
কানাডার ব্রিটিশ কলম্বিয়া প্রদেশের ভ্যাঙ্কুভার শহরের একটি শিখ মন্দিরের বাইরে ১৮ জুন হরদীপ সিং নিজ্জারকে গুলি করে হত্যা করা হয়। নিজেদের মাটিতে নিজেদের নাগরিক হত্যার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নেয় কানাডা। তা নিয়ে দেশটির গোয়েন্দা সংস্থা নিবিড় তদন্ত শুরু করে।
হরদীপ কে
হরদীপ সিং ভারতে শিখদের জন্য স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার অন্যতম আন্তর্জাতিক কণ্ঠস্বর। ৪৫ বছর বয়সি হরদীপের জন্ম ভারতের পাঞ্জাবে। ১৯৯০-এর দশকে যুবক বয়সে কানাডায় পাড়ি জমান তিনি।
হরদীপ খালিস্তান টাইগার ফোর্সের প্রধান। এটাকে সন্ত্রাসী সংগঠন মনে করে ভারত। হরদীপের হত্যাকারীদের পুরস্কারের ঘোষণা দিয়েছিলেন ভারতের শীর্ষ কর্মকর্তারা। তিনি ভারতের মোস্ট ওয়ান্টেড ব্যক্তিদের অন্যতম ছিলেন।
সূত্র : বিবিসি, আলজাজিরা