প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৩ ১২:৪৪ পিএম
আপডেট : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৩ ১৩:১২ পিএম
কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো (বাঁয়ে) ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ছবি : সংগৃহীত
হরদীপ সিং নিজ্জার হত্যা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা ইতোমধ্যে ব্যাপক আলোচনা চালিয়েছে। পাঁচ দেশের গোয়েন্দা সংস্থার জোট ‘ফাইভ আইসের’ তথ্যের ভিত্তিতে নিজ্জার হত্যার সঙ্গে ভারতের সংশ্লিষ্টতা দাবি করেছে কানাডা।
কানাডায় নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ডেভিড কোহেন এসব মন্তব্য করেছেন। কোহেন কানাডার টেলিভিশন সিটিভি নিউজকে শনিবার (২৩ সেপ্টেম্বর) এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেছেন। পূর্ণ সাক্ষাৎকারটি রবিবার প্রচার করার কথা রয়েছে।
কোহেন বলেন, নিজ্জার হত্যা নিয়ে ফাইভ আইস নিজেদের মধ্যে তথ্য বিনিময় করেছে। এসব তথ্যের ভিত্তিতেই কানাডার প্রধানমন্ত্রী (জাস্টিন ট্রুডো) নিজ্জার হত্যার সঙ্গে ভারতের সংশ্লিষ্টতা দাবি করেছেন।
ফাইভ আইস হলো যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড এবং কানাডার গোয়েন্দাদের একটি জোট। তারা প্রয়োজনে নিজেদের মধ্যে তথ্য বিনিময় করে থাকে।
নিহত হরদীপ সিং নিজ্জার কানাডার নাগরিক। ৪৫ বছর বয়সি নিজ্জার খালিস্তান টাইগার ফোর্সের নেতা। এটাকে সন্ত্রাসী সংগঠন মনে করে ভারত। হরদীপের হত্যাকারীদের পুরস্কারের ঘোষণা দিয়েছিলেন ভারতের শীর্ষ কর্মকর্তারা। তিনি ভারতের মোস্ট ওয়ান্টেড ব্যক্তিদের অন্যতম ছিলেন।
কানাডার প্রদেশ ব্রিটিশ কলম্বিয়ার ভ্যাঙ্কুভারে একটি গুরুদুয়ারার সামনে ১৮ জুন আততায়ীর গুলিতে নিহত হন নিজ্জার।
নিজেদের মাটিতে নাগরিক হত্যার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নেয় কানাডা। তা নিয়ে দেশটির গোয়েন্দা সংস্থা নিবিড় তদন্ত শুরু করে।
কানাডার গোয়েন্দা সংস্থাগুলো হরদীপ হত্যার তদন্তে পর্দার অন্তরালে ইতঃপূর্বে বেশ কয়েকবার ভারতের সহায়তা চেয়েছে। দেশটির শীর্ষ কর্মকর্তারা একাধিকবার ভারতও সফর করেছেন।
আগস্টের মাঝামাঝি কানাডার জাতীয় নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা উপদেষ্টা জোডি টমাস ভারত সফর করেন। চার দিনের সফরে তিনি ভারতের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। পরবর্তীতে চলতি মাসের শুরুর দিকে তিনি ফের ৫ দিনের জন্য দিল্লি সফর করেন। ওই সময় কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোও নয়াদিল্লিতে ছিলেন।
সোমবার (১৮ সেপ্টেম্বর) কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো দেশটির পার্লামেন্টে দাবি করেন, হরদীপ সিংয়ের হত্যার সঙ্গে ভারতের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। ভারতীয় এজেন্টরাই তাকে হত্যা করেছে। এ বিষয়ে আমাদের হাতে ‘বিশ্বাসযোগ্য অভিযোগ’ রয়েছে। নিজ মাটিতে কানাডার নাগরিককে হত্যা আমাদের সার্বভৌমত্বে আঘাত। এর মধ্য দিয়ে ভারত মুক্ত, স্বাধীন ও গণতান্ত্রিক আন্তর্জাতিক নিয়মের লঙ্ঘন করেছে। এটা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
ভারত কানাডার দাবি সঙ্গে সঙ্গে প্রত্যাখ্যান করেছে। দিল্লির দাবি, অটোয়ার এ দাবি ‘অযৌক্তিক’ ও ‘উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’।
এরপর দুই দেশই পাল্টা-পাল্টি পদক্ষেপ নিয়েছে। উভয় দেশ কূটনীতিক বহিষ্কার করেছে। নাগরিকদের চলাচলে সতর্কতা জারি করেছে।
বিষয়টি এখানেই সীমাবদ্ধ নয়। এর সঙ্গে আন্তর্জাতিক শক্তিগুলোও জড়িয়ে গেছে। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও অস্ট্রেলিয়া হরদীপ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে ভারতের সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে। তারা কানাডার তদন্তে ভারতকে পূর্ণ সহযোগিতা দিতে আহ্বান জানিয়েছে।
এ পরিস্থিতিতে ২০ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে দেখা করেছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। তাদের বৈঠকের পর কানাডায় ভিসা কার্যক্রম স্থগিতের নোটিস দেয় ভারত।
এদিকে কানাডায় স্থানীয় সময় বুধবার খালিস্তানপন্থি আরেক যুবক নিহত হয়েছেন। নিহত যুবকের নাম সুখদুল সিং। যিনি সুখা দুনেকে নামে বেশি পরিচিত।
বুধবার কানাডার উইনিপেগে অজ্ঞাত ব্যক্তিরা গুলি করে তাকে হত্যা করে। দুনেকে কানাডার খালিস্তান আন্দোলনের বড় কণ্ঠস্বর।
যুক্তরাষ্ট্র নিজ্জার হত্যা নিয়ে ইতঃপূর্বে একাধিকবার মন্তব্য করেছে। দেশটি নিজ্জার হত্যা নিয়ে কানাডার তদন্তে ভারতকে সহযোগিতা করতে আহ্বান জানিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ কর্মকর্তাদের মধ্যে পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিনকেন নিজ্জার হত্যা নিয়ে শনিবার প্রথমবার মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেছেন, নিজ্জার হত্যা নিয়ে ভারত দায়িত্বশীল আচরণ করবে বলে আমরা আশা করি।
সূত্র : স্ত্রলডটইন, এনডিটিভি