প্রবা ডেস্ক
প্রকাশ : ১৭ অক্টোবর ২০২২ ১২:৪০ পিএম
আপডেট : ১৭ অক্টোবর ২০২২ ১২:৫২ পিএম
মল্লিকার্জুন খাড়গে এবং শশী থারুর।
প্রায় দুই দশক পর ভারতের ১৩৭ বছরের পুরোনো দল কংগ্রেসের সভাপতি পদে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে সোমবার (১৭ অক্টোবর)। কংগ্রেসের সভাপতি পদের লড়াইয়ে দলের হাইকমান্ড বা গান্ধী পরিবারের পছন্দের প্রার্থী হিসেবে আছেন প্রবীণ নেতা মল্লিকার্জুন খাড়গে। তার প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আছেন তিরুবন্তপুরমের সাংসদ শশী থারুর।
কংগ্রেস সূত্রে টাইমস অব ইন্ডিয়া জানিয়েছে, ভারতজুড়ে প্রায় ৯ হাজার কংগ্রেস নেতাকর্মী এই ভোটদানে অংশ নিচ্ছেন। সোমবার (১৭ অক্টোবর) গোপন ব্যালটে শুরু হয়েছে ভোটিং। ভারতজুড়ে ৬৫ ভোটকেন্দ্রে নিজেদের মত জানিয়ে ভবিষ্যতের সভাপতি নির্বাচন করবেন কংগ্রেস নেতাকর্মীরা। ১৯ তারিখ দিল্লিতে কংগ্রেস সদরদপ্তরে হবে ভোটগণনা। সেদিনই জানা যাবে কে হয়েছেন কংগ্রেসের সভাপতি।
২২ বছর পর কংগ্রেসে ভোটগ্রহণ
সোনিয়া গান্ধীর জায়গায় কংগ্রেসের সভাপতির চেয়ারে কে বসবেন এবার? ভারতের রাজনৈতিক মহলের একাংশের দাবি, গান্ধী পরিবারের পরামর্শেই ভোটে লড়ছেন মল্লিকার্জুন খাড়গে। প্রাক সমীক্ষা বলছে, জয় হতে পারে তারই। তবু চমকের আশায় আছে থারুর শিবির। নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসুর পথ ধরে গান্ধীর পছন্দের প্রার্থীকে হারিয়ে অধ্যক্ষ পদে বসতে পারবেন শশী থারুর? এটাই এখন রাজনৈতিক মহলে সর্বোচ্চ চর্চিত প্রশ্ন।
উল্লেখ্য, ৩৯ বছর আগে জাতীয় কংগ্রেসে প্রথম সভাপতি নির্বাচনের সময় মহাত্মা গান্ধীর মনোনীত প্রার্থী পি সীতারামাইয়াকে গোহারা হারিয়েছিলেন নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসু।
সোনিয়ার কুর্সিতে কোনোভাবেই বসতে রাজি হননি রাহুল গান্ধী । যে কারণে প্রায় ২৪ বছর পর কংগ্রেসের কুর্সিতে গান্ধী পরিবারের বাইরের কোনো নেতা বসবেন। কংগ্রেসে সভাপতি পদের জন্য শেষবার ভোটাভুটি হয় প্রায় ২২ বছর আগে। ২০০০ সালে সোনিয়া গান্ধীর বিরুদ্ধে ভোটে লড়েছিলেন জিতেন্দ্র প্রসাদ। তখন প্রায় ৯৭ শতাংশ ভোট পেয়ে জিতে যান সোনিয়া। ২০১৭ সালে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় দলের সভাপতি নির্বাচিত হন রাহুল গান্ধী। ২০১৯ সালের ভোটের পর রাহুল পদত্যাগ করলে অন্তর্বর্তী সভানেত্রীর দায়িত্ব নেন সোনিয়া গান্ধী।
কীভাবে ভোট হচ্ছে?
কংগ্রেস সূত্রে খবর, সারা ভারতে প্রদেশ কংগ্রেস দপ্তরগুলোতে ভোট নেওয়া হবে। কারা ভোট দেবেন, সেই তালিকা আগেই প্রকাশ করেছে দলটি। ভোটকেন্দ্রে দুই প্রার্থীর নির্বাচনী এজেন্ট ছাড়াও দলের পক্ষ থেকে নির্দিষ্ট করে দেওয়া রিটার্নিং অফিসারও থাকবেন। সারা দেশের মতো কলকাতাতেও প্রদেশ কংগ্রেস দপ্তরে ভোট হবে। সোমবার (১৭ অক্টোবর) সকাল ১০টা থেকে শুরু হয়েছে ভোটগ্রহণ পর্ব। জানা গেছে, সোমবারই ভোট শেষ হয়ে গেল। প্রার্থীর নির্বাচনী এজেন্টদের উপস্থিতিতে সিল করা হবে ব্যালট বাক্স। এরপর সারা দেশ থেকে সিল করা ব্যালট বাক্স পাঠিয়ে দেওয়া হবে দিল্লিতে দলের সদরদপ্তরে।
প্রবা/জিজি/এমজে