প্রবা ডেস্ক
প্রকাশ : ১৭ অক্টোবর ২০২২ ১২:১৩ পিএম
আপডেট : ১৭ অক্টোবর ২০২২ ১২:৪৬ পিএম
ইরানের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসি
ইরানের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ‘বিশৃঙ্খলা উসকে দেওয়ার’ অভিযোগে অভিযুক্ত করেছেন। দেশটিতে নৈতিকতা পুলিশের হেফাজতে মাহসা আমিনি নামের তরুণীর মৃত্যুর ঘটনায় চলমান বিক্ষোভে প্রেসিডেন্ট বাইডেন সমর্থন প্রকাশ করায় তিনি এ মন্তব্য করেন।
আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, রবিবার (১৬ অক্টোবর) প্রেসিডেন্ট রাইসি এ কথা বলেছেন।
পোশাকবিধি লঙ্ঘনের কারণে গত ১৩ সেপ্টেম্বর নৈতিকতা-বিষয়ক পুলিশ ২২ বছর বয়সি মাহসা আমিনি নামে এক তরুণীকে গ্রেপ্তার করে। তিন দিন পর ১৬ সেপ্টেম্বর পুলিশের হেফাজতে তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনা ইরানিদের দীর্ঘদিনের জন-অসন্তোষকে অগ্নিস্ফুলিঙ্গের মতো উসকে দিয়েছে। প্রতিবাদের ঝড় ছড়িয়ে পড়ে দেশের সর্বত্র। দেশটিতে রাজনৈতিক সংস্কারের ডাক দেওয়া হয়েছে।
বিক্ষোভকারীরা সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির বিরুদ্ধে স্লোগান দিচ্ছেন। তারা এই শাসনব্যবস্থার সমাপ্তি দাবি করছেন।
দেশটির সর্বোচ্চ নেতা মরহুম আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির কথা উল্লেখ করে রাইসি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট তার মন্তব্যের মাধ্যমে অন্য দেশগুলোতে বিশৃঙ্খলা, সন্ত্রাস ও ধ্বংসের উসকানি দিচ্ছেন। তাকে ইসলামিক প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠাতার চিরন্তন বাণী স্মরণ করিয়ে দেওয়া দরকার, যিনি যুক্তরাষ্ট্রকে বড় শয়তান বলেছেন।’
প্রেসিডেন্টের কার্যালয় থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে রাইসি বলেন, ‘জনগণের সমস্যা সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপের মাধ্যমে শত্রুর চক্রান্তকে মোকাবিলা করতে হবে।’
চলমান বিক্ষোভে এ পর্যন্ত কয়েক ডজন মানুষ মারা গেছে, যার বেশিরভাগই সাধারণ বিক্ষোভকারী, তবে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরাও মারা গেছেন। শতাধিক বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তারও করা হয়েছে।
গত শুক্রবার বাইডেন বলেন, ‘আমরা ইরানের সাহসী নারীদের পাশে আছি। ইরানে যা ঘটছে তা আমাকে বিস্মিত করেছে। এটি এমন এক জাগরণ, দীর্ঘ সময়েও শান্ত হবে বলে মনে হয় না।’
ইরানের পররাষ্ট্র বিষয়ক মুখপাত্র নাসের কানানি এক ইন্সটাগ্রাম বার্তায় জানান, বছরের পর বছর চেষ্টা করেও ক্লান্ত এক রাজনীতিবিদের হস্তক্ষেপে ভেঙে পড়ার মতো দুর্বল নয় ইরান।
তিনি বলেন, ‘আমরা একসঙ্গে ইরানের স্বাধীনতা রক্ষায় কাজ করে যাব।’
অন্যদিকে, ৬ অক্টোবর ইরানে বিক্ষোভকারীদের ওপর সহিংস দমন-পীড়নের কারণে দেশটির কর্মকর্তাদের ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এর আগে সেপ্টেম্বরে দেশটির নৈতিকতা পুলিশের ওপরেও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে ওয়াশিংটন।
অতীতের বিশৃঙ্খলার জন্যও যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করে প্রেসিডেন্ট রাইসি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিকীকরণ ও নিষেধাজ্ঞায় ব্যর্থ হওয়ায় ওয়াশিংটন ও তার মিত্রদেশগুলো অস্থিরতা তৈরির আরেক ব্যর্থ নীতি অবলম্বন করছে।
তাই সেপ্টেম্বরে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে ইরানের অগ্রগতি থামানোর চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ এনে চলমান বিক্ষোভকে উস্কে দেওয়ার দায়ে অভিযুক্ত করেন।
প্রবা/এনএস/টিই