প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৩ ২১:১৯ পিএম
আপডেট : ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৩ ২২:১০ পিএম
সোলেনোপসিস ইনভিক্টা হলো সবচেয়ে খারাপ আক্রমনাত্মক প্রজাতিগুলোর মধ্যে একটি। ছবি: সংগৃহীত
ইতালির
সিসিলি অঞ্চলে এই প্রথম বিশ্বের সবচেয়ে আক্রমণাত্মক পিঁপড়া ‘রেড ফায়ার অ্যান্ট’ পাওয়া গেছে। এখন পুরো
ইউরোপজুরে এটি ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে গবেষকরা। সেই সঙ্গে ভয়ংকর প্রভাব পড়তে
পারে সেখানকার পরিবেশ, জনস্বাস্থ্য ও অর্থনীতির ওপর।
সোমবার
(১১ সেপ্টেম্বর) সায়েন্টিফিক জার্নাল কারেন্ট বায়োলজিতে প্রকাশিত একটি নিবন্ধে এসব
তথ্য জানা গেছে।
রেড
ফায়ার অ্যান্টের বৈজ্ঞানিক নাম সোলেনোপসিস ইনভিক্টা। এটি দক্ষিণ আমেরিকায় একটি স্থানীয়
প্রজাতি। পরে এটি অস্ট্রেলিয়া, চীন, মেক্সিকো ও যুক্তরাষ্ট্রে এক শতাব্দীরও কম সময়ের
মধ্যে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করে। আর এখন এই আক্রমণাত্মক প্রাণি এগিয়ে যাচ্ছে ইউরোপের দিকে।
গবেষকরা
সিসিলিতে সিরাকিউস শহরের কাছে ৫ হেক্টর জায়গা জুড়ে ৮৮টি রেড ফায়ার অ্যান্টের বাসা
শনাক্ত করেন। এগুলো চীন বা যুক্তরাষ্ট্র থেকে আসতে পারে বলে তারা ধারণা করছেন।
এটি
তার বিপজ্জনক হুলের জন্য কুখ্যাত। এর হুল মানুষের জন্য খুবই বেদনাদায়ক হতে পারে। সেই
সঙ্গে মাঝে মাঝে স্বাস্থ্য ঝুঁকিও তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে এর বিষ থেকে যাদের অ্যালার্জির
সমস্যা হয় তাদের জন্য এটি বেশি ভয়ংকর।
এই
পিঁপড়াগুলো ফসলেরও ব্যাপক ক্ষতি করে। পাশাপাশি গাড়ি ও কম্পিউটারসহ বৈদ্যুতিক সরঞ্জামের
ক্ষতি করার মতো অস্বাভাবিক ক্ষমতা রয়েছে রেড ফায়ার অ্যান্টের।
স্পেনের
ইনস্টিটিউট অব ইভোল্যুশনারি বায়োলজির প্রধান লেখক মাটিয়া মেনচেটি বলেন, ‘সোলেনোপসিস ইনভিক্টা হলো
সবচেয়ে খারাপ আক্রমনাত্মক প্রজাতিগুলোর মধ্যে একটি। এটি উদ্বেগজনকভাবে দ্রুত ছড়িয়ে
পড়তে পারে। ইতালিতে এই প্রজাতির সন্ধান পাওয়ার পর আমরা অবাক হয়েছিলাম। তবে আমরা আগেই
জানতাম একটা সময় এই দিনটি আসবে।’
মেনচেটি
জানায়, এস. ইনভিক্টা বাতাসের মাধ্যমে উড়ে অনেক দূর পর্যন্ত যেতে পারে। যার কারণে এটি
যেকোনো স্থানে দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে। তবে এটি বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়ার ক্ষেত্রে
মানুষই বেশি দায়ী। সামুদ্রিক বাণিজ্য শিল্প ও উদ্ভিদ পণ্য জাহাজিকরণের মাধ্যমে মানুষ
এই আক্রমণাত্মক প্রাণীটিকে ছড়িয়ে দিচ্ছে।
জাতিসংঘের মতে, আক্রমণাত্মক
প্রজাতিগুলো প্রতি বছর বিশ্বে কমপক্ষে চার হাজার ২৩০ কোটি ডলার নষ্ট করে। কারণ এগুলো
বিভিন্ন উদ্ভিদ ও প্রাণীর বিলুপ্তি ঘটায় এবং খাদ্য নিরাপত্তাকে হুমকির সম্মুখীন করে
তুলে। সেইসঙ্গে বিশ্বব্যাপী পরিবেশগত বিপর্যয়কেও বাড়িয়ে তুলে।
সূত্র: এনডিটিভি