প্রকাশ : ১৫ অক্টোবর ২০২২ ২২:০৭ পিএম
আপডেট : ১৬ অক্টোবর ২০২২ ০০:২৩ এএম
চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। ছবি: সংগৃহীত
চীনের শাসক দল ‘কমিউনিস্ট পার্টি অব চীনের (সিপিসি) ২০তম কংগ্রেস রবিবার (১৬ অক্টোবর) থেকে শুরু হচ্ছে। সপ্তাহব্যাপী এ কংগ্রেসে চীনের বর্তমান প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং তৃতীয় মেয়াদে পার্টির সাধারণ সম্পাদক হওয়ার জোর সম্ভাবনা রয়েছে, যা দেশটির কমিউনিস্ট বিপ্লবের নেতা মাও সে তুংয়ের পর প্রথম। পার্টির সাধারণ সম্পাদক হওয়া মানে শি আরও পাঁচ বছর দেশটির প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
চলমান আন্তর্জাতিক বৈরী পরিস্থিতির পাশাপাশি নানা ধরনের অভ্যন্তরীণ চাপে ভারাক্রান্ত চীন। এ পরিস্থিতিতে শির মতো ‘কঠোর’ নেতার তৃতীয় মেয়াদে পার্টির সাধারণ সম্পাদক ও দেশের প্রেসিডেন্ট হওয়া নিয়ে নানা আলোচনা চলছে। তা ছাড়া ক্ষমতাবলে সামরিক বাহিনীগুলোর মূল সুতাও থাকবে শির হাতে।
অভ্যন্তরীণ চ্যালেঞ্জ
দুর্নীতি : আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১২ সালে পার্টির সাধারণ সম্পাদক ও পরের বছর চীনের প্রেসিডেন্ট হওয়ার থেকেই দুর্নীতিবিরোধী অভিযান চালিয়ে আসছেন শি। দুর্নীতির দায়ে ২০১৪ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে দুর্নীতির অভিযোগে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে, যাদের একটা বড় অংশ সরকার ও পার্টির শীর্ষ কর্মকর্তা ও নেতা। একই সময়ে লোপাট হয়ে যাওয়া প্রায় ২৯০ কোটি অর্থ সরকারি কোষাগারে ফেরত আনা হয়েছে।
অভিযুক্তদের একটা বড় অংশকে শাস্তি দেওয়া হয়েছে। জননিরাপত্তা বিভাগের সাবেক প্রতিমন্ত্রী সান লিজুনবকে গত ২৩ সেপ্টেম্বর ঘুষগ্রহণসহ নানা অভিযোগে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে, যা নিয়ে পার্টির শীর্ষ মহলে অসন্তোষ রয়েছে। আর অনেকে শাস্তির ভয়ে দেশ ছেড়েছেন।
কিন্তু শির দুর্নীতিবিরোধী ‘ক্রসেড’ সত্ত্বেও চীনের এই সমস্যার তেমন একটা সমাধান হয়নি। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল ২০২১ সালের এক প্রতিবেদনে দেশটির ‘দুর্নীতি ধারণা সূচক (সিপিআই) ১০০-এর মধ্যে ৪৫ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এ অবস্থায় শির দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের উদ্দেশ্য নিয়ে জনমনে সন্দেহ সৃষ্টি হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয় আলজাজিরার উল্লিখিত প্রতিবেদনে।
করোনা : করোনা দমনে ‘জিরো টলারেন্স বা শূন্য সহনশীল’নীতি শির সামনে দ্বিতীয় বড় অভ্যন্তরীণ চ্যালেঞ্জ বলে উল্লেখ করা হয়েছে সিপিসির মুখপত্র গ্লোবাল টাইমসের প্রতিবেদনে। এতে বলা হয়, বিশ্বের প্রায় সব দেশ করোনা বিধিনিষেধ উঠিয়ে নিয়েছে। এ অবস্থায় চীনের শূন্য সহনশীল করোনানীতি, নতুন প্রেসিডেন্টের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ বটে। কিন্তু এ নীতির সঙ্গে দেশের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও সাধারণ মানুষের যথেষ্ট সম্মতি রয়েছে।
জনরোষ : ব্রিটিশ গণমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান জানায়, চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে সম্প্রতি শি-বিরোধী যে বিক্ষোভ হয়েছে, তা নজিরবিহীন। এতে করোনা, বাকস্বাধীনতা, গণমাধ্যমের স্বাধীনতাসহ শির নানা নীতির বিরোধী স্লোগান দেওয়া হয়েছে। এতে আঁচ করা যায়, শি তৃতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হলে দেশটিতে গণবিক্ষোভ দানা বাঁধবে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের চাপের মুখে ইউঘুর, হংকং এবং তাইওয়ান ইস্যুতে শি কীভাবে মোকাবিলা করেন, তাও দেখার বিষয়।
আন্তর্জাতিক চ্যালেঞ্জ
যুক্তরাষ্ট্র : সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্টে ডোনাল্ড ট্রাম্প চীনের সঙ্গে যে শুল্কযুদ্ধ শুরু করেছিলেন, বাইডেনের আমলে তা অব্যাহত রয়েছে। তদুপরি প্রযুক্তি, মানবাধিকা ইত্যাদি ইস্যুতে বিশ্বের শীর্ষ অর্থনীতি দুটির মধ্যে মতবিরোধ ও পাল্টাপাল্টি নিষেধাজ্ঞার মতো ঘটনা বেড়েছে। বৈদ্যুতিক সামগ্রীর গুরুত্বপূর্ণ উপাধান চিপ তৈরিকারী চীনা কোম্পানিগুলোর ওপর সম্প্রতি কয়েক দফায় নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে বাইডেন প্রশাসন।
রাশিয়া-ইউক্রেন : ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলার শুরু থেকেই যুদ্ধ নিয়ে নিজেদের অবস্থান ‘নিরপেক্ষ’ বলে দাবি করছে চীন। এখন পর্যন্ত রুশ হামলার প্রকাশ্য সমালোচনা করেনি বেইজিং। অন্যদিকে যুদ্ধ শুরুর পর রাশিয়ার সঙ্গে চীনের বাণিজ্য কয়েক গুণ বেড়েছে। চলতি বছরের এপ্রিল থেকে জুন মাসে চীন রাশিয়া থেকে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় তিন গুণ জ্বালানি তেল আমদানি করেছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে রয়টার্সের প্রতিবেদনে।
প্রবা/টিএ/