প্রবা ডেস্ক
প্রকাশ : ১৫ অক্টোবর ২০২২ ১৩:১১ পিএম
আপডেট : ১৫ অক্টোবর ২০২২ ১৪:৫৬ পিএম
যৌন নিপীড়নের ভিডিও ফুটেজের স্থিরচিত্র।
ইরানি পুলিশ কর্মকর্তারা একজন নারী বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তারের সময় তাকে যৌন নিপীড়নের ভিডিও ফুটেজ সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। এ ঘটনা কেন্দ্র করে ফের ফুঁসে উঠেছে ইরান। বিবিসির যাচাইয়ে ভিডিওটি সত্য বলে মন্তব্য করা হয়েছে।
আবর নিউজ ভিডিওটি সম্পর্কে জানিয়েছে, সেখানে দেখা গেছে একটি ব্যস্ত রাস্তায় একজন নারীকে ঘিরে থাকা সুরক্ষামূলক সরঞ্জাম এবং হেলমেট পরা পুলিশ কর্মকর্তারা। তাদের মধ্যে একজন তাকে ঘাড় ধরে একদল সহকর্মীর কাছে নিয়ে যায়। যখন তাকে একটি মোটরবাইকে একজন পুলিশ কর্মকর্তার কাছে জোর করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে তখন অন্য একজন কর্মকর্তা পেছন থেকে ওই নারীর কাছে আসেন এবং অনুপযুক্তভাবে তাকে স্পর্শ করেন। ওই নারী তখন নিচু হয়ে নিজেকে বাঁচানোর চেষ্টা করেন। এ সময় ক্যামেরার পেছনে এক নারীকণ্ঠে বলতে শোনা যায় : ‘ওরা তার চুল টেনে ধরে নিচ্ছে।’
বিবিসি জানায়, গত বুধবার তেহরানের আর্জেন্টিনা স্কোয়ারে এ ঘটনা ঘটে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ফুটেজ ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিক্ষোভকারীরা ওই যৌন নিপীড়নের জন্য পুলিশপ্রধানের পদত্যাগের আহ্বান জানান।
ইরানের ইসলামিক রিপাবলিক নিউজ এজেন্সির মতে, তেহরান পুলিশের জনসংযোগ দফতর জানিয়েছে, ‘ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে।’
যদিও পুলিশের বিবৃতিতে ভিডিওতে দেখানো দৃশ্যের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করা হয়নি। তবে তারা বলেছে, ‘জনসাধারণের উদ্বেগ ও সহিংসতা উসকে দিতে’ শত্রুরা এ কাজ করে থাকতে পারে।
ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড কর্পস দ্বারা পরিচালিত ফারস নিউজ এজেন্সির সঙ্গে একটি সাক্ষাৎকারে একজন পুলিশ কর্মকর্তা মেয়েটিকে লাঞ্ছিত করার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন।
লন্ডনভিত্তিক টিভি চ্যানেল ইরান ইন্টারন্যাশনালে তিনি বলেন, ‘দাঙ্গার দৃশ্যে এ ধরনের সংঘর্ষ অনিবার্য।’
গত মাসে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের তথাকথিত নৈতিকতা পুলিশ ও সিনিয়র নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে, ‘যারা গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের সঙ্গে জড়িত।’
এটি ১৬ সেপ্টেম্বর মাহসা আমিনির পুলিশ হেফাজতে মৃত্যু দেশজুড়ে চলমান বিক্ষোভের জন্ম দিয়েছে এবং বিক্ষোভকারীদের ওপর দমন-পীড়নের সময় নারীদের ওপর নিরাপত্তা বাহিনীর নৃশংস হামলার খবর পাওয়া গেছে।
অনেকে তাদের অভিজ্ঞতা শেয়ার করতে এবং তাদের ক্ষোভ, ভয় ও দুঃখ প্রকাশ করার জন্য সোশ্যাল মিডিয়াকে বেছে নিয়েছেন।
প্রবা/জিজি/জেও