প্রবা ডেস্ক
প্রকাশ : ১৪ অক্টোবর ২০২২ ২০:৩২ পিএম
আপডেট : ১৪ অক্টোবর ২০২২ ২০:৪৯ পিএম
প্রস্তরখণ্ডের নীচে আটকা পড়া ইউক্রেনীয় সেনাদের উদ্ধারের চেষ্টা চালাচ্ছে সহযোদ্ধারা।
ইউক্রেনে রাশিয়ান বাহিনীর ধর্ষণ এবং যৌন নিপীড়নকে রাশিয়ান ‘সামরিক কৌশল’ এবং ‘ভুক্তভোগীদের সঙ্গে অমানবিক আচরণ করার ওই ইচ্ছাকৃত কৌশলের অংশ’ বলে দাবি করেছেন জাতিসংঘের দূত প্রমিলা প্যাটেন।
এএফপিকে গত বৃহস্পতিবার একটি সাক্ষাৎকারে জাতিসংঘের যৌন সহিংসতাবিষয়ক এই বিশেষ প্রতিনিধি এএফপিকে বলেন, ‘সমস্ত ইঙ্গিতই রয়েছে। যখন নারীদের কয়েক দিন ধরে আটকে রাখা হয় এবং ধর্ষণ করা হয়, যখন আপনি যৌনাঙ্গ বিকৃতির একটি সিরিজ দেখেন, যখন আপনি শুনতে পান যে নারীরা ভায়াগ্রা নেওয়া রাশিয়ান সেনাদের সম্পর্কে সাক্ষ্য দিচ্ছেন, তখন এটি স্পষ্টতই একটি সামরিক কৌশল।’
এনডিটিভি জানিয়েছে, গত ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়ার আগ্রাসনের পর থেকে জাতিসংঘ ইউক্রেনে ধর্ষণ বা যৌন নিপীড়নের ‘শতাধিক ঘটনা’ যাচাই করেছে বলে প্যাটেন সেপ্টেম্বরের শেষের দিকে প্রকাশিত জাতিসংঘের প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছেন।
ওই প্রতিবেদনে রাশিয়ান বাহিনীর দ্বারা সংঘটিত মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে এবং সংগৃহীত সাক্ষ্য অনুসারে, যৌন সহিংসতার শিকারদের বয়স চার থেকে ৮২ বছর বয়সি বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগীদের মধ্যে বয়সি নারী, মেয়ে, পুরুষ এবং কমবয়সি ছেলেরাও রয়েছেন বলে জানিয়েছেন তিনি।
এদিকে রাশিয়ার সীমান্তবর্তী একটি গ্রামে ইউক্রেনের গোলাবর্ষণে রাশিয়ার একটি অস্ত্রভাণ্ডার ধ্বংস হয়েছে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা তাস। রাশিয়ার বেলগোরোদ অঞ্চলের গভর্নর বৃহস্পতিবার (১৩ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টেলিগ্রাম পোস্টে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
বেলগোরোদ অঞ্চলের গভর্নর ভিয়াচেস্লাভ গ্লাদকভ বলেছেন, সেখানকার একটি গ্রামে ইউক্রেনীয় সেনারা গোলা নিক্ষেপ করেছে। ওই হামলায় রাশিয়ার অস্ত্রভাণ্ডার উড়ে গেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে নেওয়া হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
ইউক্রেনের বিভিন্ন শহরে গত সোমবার থেকে জোরেশোরে হামলার বিপরীতে ইউক্রেনও পাল্টা হামলার হুমকি দিয়েছে। বেলগোরোদ শহরের অবস্থান রাশিয়ার দক্ষিণ-পশ্চিমে। দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে ইউক্রেনীয় সেনারা গোলা হামলা চালাচ্ছে বলে বার বার দাবি করে আসছেন রুশ কর্মকর্তারা। গত জুলাইয়ে বেলগোরোদে একটি বিস্ফোরণের জন্য ইউক্রেনকে দায়ী করে রাশিয়া। বিস্ফোরণে তিনজন নিহত হন বলে অভিযোগ করা হয়।
চলতি সপ্তাহে বেলগোরোদের একটি বিদ্যুৎ স্থাপনায়ও ইউক্রেন গোলা হামলা চালায় বলেও উল্লেখ করেছেন গ্লাদকভ। এতে প্রায় দুহাজার মানুষ কিছু সময়ের জন্য বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। পরে আরও হামলার আশঙ্কায় সোমবার গ্লাদকভ ঘোষণা দেন, দুই সপ্তাহের জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোয় অনলাইনে ক্লাস চলবে।
এদিকে ইউক্রেনের কর্মকর্তারা রেডক্রসকে দেশটির রাশিয়া-অধিকৃত পূর্বাঞ্চলের একটি কুখ্যাত কারাগার পরিদর্শনের আহ্বান জানিয়েছেন।
বিবিসি জানিয়েছে, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের চিফ অব স্টাফ আন্দ্রি ইয়ারমাক রেডক্রসকে (আইসিআরসি) তিন দিনের মধ্যে দোনেৎস্কর ওলেনিভকা কারাগার পরিদর্শনের দাবি জানিয়েছেন।
তিনি এক টুইট বার্তায় বলেছেন, ‘আমরা আর বেশি সময় নষ্ট করতে পারি না। কারণ মানুষের জীবন ঝুঁকির মধ্যে আছে।’
সেপ্টেম্বরে ওই কারাগারে প্রবেশাধিকার চেয়েছিল রেডক্রস। কিন্তু রাশিয়ান কর্তৃপক্ষ তাদের অনুমতি দেয়নি।
ওলেনিভকা কারাগারটি ২০১৪ সাল থেকে দোনেৎস্কর রাশিয়া-সমর্থিত কর্তৃপক্ষের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং পরিস্থিতি অত্যন্ত খারাপ বলে জানা গেছে।
জুলাইয়ে ওই কারাগারে বিস্ফোরণে কয়েক ডজন ইউক্রেনীয় বন্দি নিহত হন।
কিয়েভ বলেছে, বিস্ফোরণটি ঘটানো হয়েছে রাশিয়া কর্তৃক নির্যাতন ও হত্যার প্রমাণ নষ্ট করার লক্ষ্যে। অন্যদিকে, মস্কো ইউক্রেনীয় রকেট হামলাকে ওই বিস্ফোরণের জন্য দায়ী করেছে।
কারাগারটিতে আটকদের মধ্যে রয়েছেন আজভ ব্যাটালিয়নের সদস্যরা, যারা মারিউপোল শহরের শেষ রক্ষাকারী এবং যাদের রাশিয়া নব্য-নাৎসি ও যুদ্ধাপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করেছে।
এই প্রথমবার নয় যে, ওই কারাগারে কী চলছে তা তদন্ত করার জন্য আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর ওপর চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে।
ইয়ারমাক বলেন, তিনি আইসিআরসি এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থার কর্মকর্তাদের সঙ্গে একটি ভিডিও কনফারেন্সের সময় বিষয়টি আবার উত্থাপন করেছিলেন।
তিনি আগামী সোমবারের মধ্যে ওই কারাগার পরিদর্শন করার দাবি জানিয়েছেন।
রাষ্ট্রপতি ভলোদিমির জেলেনস্কি এ আহ্বানের সমর্থন জানিয়েছিলেন এবং রেডক্রসকে নিষ্ক্রিয়তার জন্য অভিযুক্ত করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, এটি তাদের নৈতিক দায়িত্ব ৷
বৃহস্পতিবার তার রাতের ভাষণে জেলেনস্কি বলেন, তিনি বিশ্বাস করেন ‘রেডক্রস ক্লাব নয়, যেখানে কেউ বেতন পান এবং জীবন উপভোগ করেন।’
তিনি বলেন, বন্দিশিবিরে আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থার (আইএইএ) অনুরূপ একটি মিশন সংগঠিত হতে পারে।
প্রবা/জিজি/টিই