প্রবা ডেস্ক
প্রকাশ : ১৩ অক্টোবর ২০২২ ২০:৩১ পিএম
আপডেট : ১৩ অক্টোবর ২০২২ ২০:৫৩ পিএম
মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ও সৌদি ক্রাউন প্রিন্স মুহাম্মদ বিন সালমান। জুলাইয়ে জেদ্দায়। ছবি : সংগৃহীত
জ্বালানি তেল রপ্তানিকারক দেশগুলোর জোট ‘ওপেক প্লাস’ সম্প্রতি পণ্যটির উত্তোলন কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এতে নিজ দেশে পণ্যটির দাম বেড়ে যাওয়ার শঙ্কায় ওপেকের সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। জ্বালানির উত্তোলন হ্রাসের ওই সিদ্ধান্ত এক মাস বিলম্ব করতে সৌদি আরবের কাছে যুক্তরাষ্ট্র অনুরোধ করেছিল বলে জানা গেছে।
বৃহস্পতিবার (১৩ অক্টোবর) এক বিবৃতিতে সৌদি আরবের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এমন দাবি করেছে। এ প্রসঙ্গে তাৎক্ষণিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
ব্রিটিশ
গণমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান জানায়, সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ওপেকের
তেল উত্তোলনের সিদ্ধান্ত এক মাস দেরি করতে সৌদি সরকারকে অনুরোধ করেছিল বাইডেন প্রশাসন।
কিন্তু সার্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে তা সম্ভব নয় বলে আমরা তাদের জানিয়েছি।
কারণ এতে করে অর্থনীতি বড় ধরনের ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
ওপেকের
সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নভেম্বর থেকে দৈনিক ২০ লাখ ব্যারেল জ্বালানি তেল কম উত্তোলন করবে
ওপেক প্লাসের সদস্যরা। কোনো রাজনৈতিক বিবেচনায় নয়, সম্পূর্ণ অর্থনৈতিক বিবেচনায় এ
সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সৌদি আরব ও জোটটির অন্য সদস্যরা। কিন্তু ওপেকের
সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক বলে মনে করে যুক্তরাষ্ট্র।
মঙ্গলবার
(১১ অক্টোবর) মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলেন, ‘ওপেকের জ্বালানি কম উত্তোলনের সিদ্ধান্ত
রাজনৈতিক। এ জন্য সৌদি আরবকে ফল ভোগ করতে হবে।’ তবে কী ধরনের ফল, তা তিনি ব্যাখ্যা করেননি।
একই ইস্যুতে বাইডেন ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের অন্য রাজনীতিবিদরাও সৌদি আরবকে শাস্তি দেওয়ার
কথা বলছেন। বিশেষ করে সৌদি আরবের সঙ্গে অস্ত্র বিক্রির যাবতীয় চুক্তি বাতিলের সুপারিশ
করেছেন বাইডেনের দল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির কোনো কোনো সদস্য।
প্রসঙ্গত,
৮ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন। জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধির কারণে নিত্যপণ্যের
দাম বাড়াটা এ নির্বাচনে বড় প্রভাব ফেলবে। ফলে দেশটির সংসদের উভয় কক্ষে বাইডেনের দল হারতে পারে। হারলে বাইডেন হয়ে পড়বেন ঢাল-তলোয়ারহীন নিধিরাম সরদার। তা ছাড়া ওপেকের সিদ্ধান্তের কারণ তেল বিক্রি
থেকে রাশিয়ার পকেট ভারী হবে। এসব কারণে ওপেকের নেতা সৌদি আরবের ওপর বাইডেন প্রশাসন ক্ষুব্ধ বলে
মনে করেন বিশ্লেষকরা।
প্রবা/টিএ/টিই