প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ৩০ আগস্ট ২০২৩ ১৫:০৬ পিএম
আপডেট : ৩০ আগস্ট ২০২৩ ১৫:৩৫ পিএম
পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। ছবি : সংগৃহীত
পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের কারাবাসের মেয়াদ ১৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। বুধবার (৩০ আগস্ট) দেশটির একটি বিশেষ আদালত এই নির্দেশ দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করে রায়টির বিরুদ্ধে আপিল করার কথা জানিয়েছেন ইমরান খানের আইনজীবীরা।
আগের দিন মঙ্গলবার তোষাখানা দুর্নীতি মামলায় ইমরান খানের তিন বছরের কারাদণ্ড স্থগিত ও তাকে মুক্তি দেওয়ার জন্য নির্দেশ দেন ইসলামাবাদ হাইকোর্ট। এই মামলায় ৫ আগস্ট লাহোরের জামান পার্কের বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
সরকারি গোপন নথি প্রকাশ করার অভিযোগে বুধবার ইমরানের কারাবাস বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন বিশেষ আদালত। এই গোপন নথিটা হলো একটি তারবার্তা, যা ২০২২ সালের শুরুর দিকের যুক্তরাষ্ট্রে নিয়োজিত পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূত ইমরানের কাছে পাঠিয়েছিলেন। ওই তারবার্তায় উল্লেখ ছিল, যুক্তরাষ্ট্র ইমরানকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দিতে চায়।
গত বছরের এপ্রিলে পার্লামেন্টে তাড়াহুড়ো করে আয়োজিত এক অনাস্থা ভোটে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর চিঠিটা জনসভায় হাত উঁচিয়ে দেখান ইমরান খান। তাই বিশেষ আদালতের অভিযোগ, এর মধ্য দিয়ে পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) প্রধান রাষ্ট্রীয় গোপন নথি ফাঁস করে গুরুতর অপরাধ করেছেন।
বুধবার সম্প্রতি গঠিত বিশেষ আদালতটির শুনানি বসেছিল পাঞ্জাবের অ্যাটক কারাগারে। এই কারাগারেই ইমরান বর্তমানে বন্দি রয়েছেন।
শুনানি শেষে পিটিআইয়ের আইনজীবী ব্যারিস্টার সালমান সফদার গণমাধ্যমকে বলেন, ইমরান খানের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় গোপন নথি ফাঁসের যে অভিযোগ আনা হয়েছে তার কোনো ভিত্তি নেই। এটা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
কয়েক ঘণ্টা পরই রায়টার বিরুদ্ধে আপিল করা হয়েছে। শনিবার (২ সেপ্টেম্বর) আপিলেল শুনানি হবে বলে জানা গেছে।
ইমরানের আইনজীবীদের যুক্তি, গোপন তারবার্তাটি নিয়ে মন্ত্রিসভায় তিনবার বৈঠক হয়েছে। তাই তা আর গোপন নেই। এটি আগেই ডিক্ল্যাসিফাইড হয়ে গেছে।
অন্যদিকে বুধবারের শুনানিতে ইমরান খান উপস্থিন ছিলেন জানিয়েছেন তার আইনজীবীরা জানান, পিটিআইপ্রধান বেশ ফুরফুরে মেজাজে রয়েছেন। সবকিছু তিনি ইতিবাচকভাবে দেখছেন। বিভিন্ন বিষয়ে তিনি তাদের দিকনির্দেশনা দিয়েছেন।
তোশাখানা মামলায় দণ্ডিত হওয়ার পাশাপাশি ইমরানকে যাবতীয় রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে পাঁচ বছর নিষিদ্ধ করেছে দেশটির নির্বাচন কমিশন। ফলে আগামী নির্বাচনে ইমরান খানের অংশ নেওয়ার সম্ভাবনা ঝুঁকিতে পড়েছে।
এদিকে পাকিস্তানের পার্লামেন্ট ইতোমধ্যে ভেঙে দেওয়া হয়েছে। সংবিধান অনুযায়ী আগামী নভেম্বরের শুরুর দিকেই নির্বাচন হওয়ার কথা। কিন্তু আগামী ফেব্রুয়ারির আগে দেশটিতে নির্বাচন হওয়ার সম্ভাবনা নেই বলে ইঙ্গিত দিচ্ছেন ক্ষমতাসীন জোটের নেতারা। ফলে দেশটির রাজনৈতিক অচলাবস্থা আরও গভীর হচ্ছে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
সূত্র : দ্য ডন