প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২৭ আগস্ট ২০২৩ ১৪:২০ পিএম
আপডেট : ২৭ আগস্ট ২০২৩ ২০:৩৯ পিএম
সহপাঠী দিয়ে মুসলিম ছাত্রকে চড় দেওয়ানোর ঘটনায় নিন্দার ঝড় উঠেছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। ছবি : সংগৃহীত
ভারতে এক স্কুলশিক্ষিকা ছাত্রদের তাদেরই সাত বছর বয়সি মুসলিম সহপাঠীকে থাপ্পড় দিতে বলছেন। এমন একটি ভিডিও অনলাইনে ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় নড়েচড়ে বসেছে দেশটির পুলিশ। এরই মধ্যে এ ঘটনা নিয়ে সরব কংগ্রেস নেতা নেতা রাহুল গান্ধীও।
ভিডিওর পুলিশি তদন্ত শুরু হয়েছে। জানা গেছে, ঘটনাটি ঘটেছে গত বৃহস্পতিবার উত্তর প্রদেশের একটি বেসরকারি স্কুলে। থাপ্পড় মারার নির্দেশদাতা ওই শিক্ষিকার নাম তৃপ্তি ত্যাগী। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ভিডিওটি সত্য বলে নিশ্চিত করেছে এবং বলেছে যে তারা যথাযথ ব্যবস্থা নেবে।
তবে তৃপ্তি ত্যাগী এই ঘটনার জন্য অনুতপ্ত নন। তিনি বলেছেন, ‘তারা আইন বানিয়েছেন। তবে স্কুলে শিশুদের নিয়ন্ত্রণ করা প্রয়োজন। তারা এভাবেই শিশুদের নিয়ন্ত্রণ করেন। আমি এই গ্রামের শিক্ষক। সবাই আমার সঙ্গে রয়েছে।’
ভুক্তভোগী শিশুর বাবা বিষয়টি মুজাফফরনগর জেলা পুলিশকে জানিয়েছেন এবং তাকে স্কুল থেকেও নিয়ে এসেছেন। তবে তিনি কোনো অভিযোগ দায়ের করেননি।
ভিডিওতে দেখা গেছে, সহপাঠী থাপ্পড় মারার কারণে ছেলেটি কাঁদছিল। আর শিক্ষক সেই সহপাঠীকে বলছিলেন, তুমি ওকে এত আস্তে মারছ কেন? আরও জোরে মারো। ওর কোমরে মারতে শুরু করো। ওর মুখ লাল হয়ে যাচ্ছে, এর পরিবর্তে ওর কোমরে আঘাত করো।
অভিযোগ করা হচ্ছিল যে সময়মতো ক্লাসে উপস্থিত হয়নি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ ঘটনা বেশ সমালোচনার মুখে পড়ছে। অনেকেই তাদের হতাশার কথা জানাচ্ছেন এবং অনেকেই এর নিন্দা করছেন।
ভারতের বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী ধর্মীয় অসহিষ্ণু এই পরিস্থিতির জন্য সরকারকে দায়ী করেছেন। একই দাবি দীর্ঘদিন ধরেই করে আসছে দেশটির মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলো। তারা বলছে, ২০১৪ সালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নরেন্দ্র মোদি দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই দেশটির বৃহত্তম মুসলিম সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে ঘৃণামূলক অপরাধ ও সহিংসতা বেড়েছে।
যে প্রদেশে এই মুসলিম নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে, সেই উত্তর প্রদেশেও ২০১৭ সাল থেকে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) রাজ্য সরকার চালাচ্ছে। উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের বিরুদ্ধেও মুসলিম বিদ্বেষের অভিযোগ বেশ পুরোনোই।
স্কুলের এই ঘটনায় এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বিরোধী নেতা রাহুল গান্ধী বলেছেন, বিজেপি পুরো ভারতজুড়ে ধর্মীয় অনুভূতিকে কাজে লাগিয়ে উত্তেজনা সৃষ্টি করছে। নিষ্পাপ শিশুদের মনেও বৈষম্যের বীজ বপন করছে এবং স্কুলের মতো পবিত্র স্থানকেও ঘৃণার বাজারে পরিণত করেছে। এটি একই কেরোসিন, যা দিয়ে বিজেপি ভারতের প্রতিটি কোনায় আগুন দিয়েছে।
যদিও চলতি বছর জুনে যুক্তরাষ্ট্র সফরকালে সাংবাদিকদের মোদি বলেছিলেন, ভারতে বৈষম্যের একেবারে কোনো জায়গা নেই।
সূত্র : বিবিসি ও ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস