প্রবা ডেস্ক
প্রকাশ : ১৩ অক্টোবর ২০২২ ১২:১৫ পিএম
আপডেট : ১৩ অক্টোবর ২০২২ ১৩:০০ পিএম
তেল উৎপাদন কমানোর সিদ্ধান্ত ওপেক প্লাসের। ছবি : সংগৃহীত
ওপেক প্লাসের তেল উৎপাদন কমানোর সিদ্ধান্ত পুরোপুরি অর্থনৈতিক বলে দাবি করেছে সৌদি আরব। ভোক্তা ও উৎপাদকের স্বার্থে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানায় দেশটি।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের আপত্তি সত্ত্বেও গত সপ্তাহে সংস্থাটি দৈনিক ২০ লাখ ব্যারেল তেল উৎপাদন কমানোর সিদ্ধান্ত নেয়।
বৃহস্পতিবার (১৩ অক্টোবর) সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, বাজারের অস্থিরতা কমানোর লক্ষ্যে, চাহিদা ও জোগানের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করতে ওপেক প্লাস সব সদস্যের সম্মতিক্রমে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তাই সিদ্ধান্তটি ‘তথ্যের ভিত্তিতে নয়’ এমন সমালোচনা প্রত্যাখ্যান করে দেয় সৌদি।
অন্যদিকে, গত সপ্তাহের শুরুতে তেল উৎপাদন কমানোর সিদ্ধন্তের কারণে দুই দেশের সম্পর্কে প্রভাব পড়বে বলে উল্লেখ করেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন।
অর্গানাইজেশন অব দ্য পেট্রোলিয়াম এক্সপোর্ট কান্ট্রিস বা ওপেক প্লাস হলো রাশিয়াসহ পেট্রোলিয়াম রপ্তানিকারক দেশগুলোর একটি সংস্থা। সংস্থাটি যাতে তেল কমানোর পদক্ষেপ না নেয় তার জন্য এক সপ্তাহ ধরে নানা তদবির চালান মার্কিন কর্মকর্তারা। তবে এ তদবিরে সায় না দিয়ে নতুন উৎপাদন লক্ষ্য ঘোষণা করে ওপেক প্লাস।
যুক্তরাষ্ট্র সৌদি আরবকে রাশিয়ার অনুকরণ করছে বলে অভিযোগ আনে। এর আগে ইউক্রেনে রুশ বাহিনীর আগ্রসন শুরুর পর মস্কোর তেলের দাম নির্দিষ্ট করে দেওয়ার দাবি জানায় পশ্চিমা দেশগুলো। তবে এতে আপত্তি তোলে সৌদি আরব।
সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা জানান, তেল উৎপাদন কমানোর সিদ্ধান্ত পুরোপুরি অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে নেওয়া হয়েছে।
বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। যেখানে সিদ্ধান্তটি এক মাস বিলম্বিত করার আহ্বান জানায় ওয়াশিংটন।
তবে বিবৃতিতে এ বিষয়ে বলা হয়, ‘সৌদি কিংডম ওয়াশিটনের সঙ্গে ক্রমাগত আলোচনার মধ্য দিয়ে এটা স্পষ্ট করেছে যে, ওপেক প্লাসের সিদ্ধান্ত এক মাস বিলম্বিত করলে এতে নেতিবাচক অর্থনৈতিক প্রভাব পড়বে।’
ওপেক প্লাসের তেলের উৎপাদন কমানোর সিদ্ধান্ত বাইডেনের জন্য চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারণ, নভেম্বরেই দেশটিতে মধ্যবর্তী নির্বাচন শুরু হবে। সংস্থাটি তাদের সিদ্ধান্ত কার্যকর করলে নির্বাচনের আগে পেট্রোলের দাম বেড়ে যাবে। ইতোমধ্যে জ্বালানির দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে হিমশিম খাচ্ছে বাইডেনের ডেমোক্রেটিক পার্টি। তাই ভোটের আগে জ্বালানির দাম বাড়লে নির্বাচনে তা ব্যাপক প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সৌদি আরব জানায়, তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের সম্পর্ককে কৌশলগত সম্পর্কের একটি বলে গণ্য করে এবং পারস্পরিক সম্মান প্রদর্শনের আশা ব্যক্ত করে।
প্রবা/এনএস/জেও