প্রতিদিনের বাংলাদেশ ডেস্ক
প্রকাশ : ১৭ জুলাই ২০২২ ১৩:৫২ পিএম
নবদম্পতির চুক্তি
সাধারণত নবদম্পতিদের মধ্যে বিয়ের চুক্তি হয়ে থাকে বেশ গুরুগম্ভীর বিষয়ে। তবে সম্পতি ভারতীয় এক দম্পতির অদ্ভুত চুক্তি ছড়িয়ে পড়েছে নেট দুনিয়ায়, হয়েছে সংবাদের শিরোনাম। খবর বিবিসির।
বিয়ের পর কী করা যাবে এবং কী করা যাবে না এমন একটি মজার তালিকায় স্বাক্ষর করেন এই নবদম্পতি। যে তালিকাটি তৈরিতে সাহায্য করেছেন তাদেরই বন্ধুরা।
তাদের বিয়ের ঠিক একদিন পর ২২ জুন এই চুক্তির ভিডিওটি ইন্সটাগ্রামে আপলোড করা হলে তা মুহুর্তে সাড়া ফেলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। সাড়ে ৪ কোটি মানুষ দেখে এই ১৬ সেকেন্ডের ভিডিওটি, এতে মন্তব্য করেন অনেকেই।
বর বধূর চুক্তির বিষয়টি নতুন কিছু নয়। অতীতে এমন অন্যান্য উদাহরণ রয়েছে যেখানে একজন বর বা কনে বা তাদের বন্ধুরা এই ধরনের চুক্তি করিয়ে থাকে দম্পতিদের। কিন্তু সাম্প্রতিক ভিডিওটি যে কারণে সবার নজর কেড়েছে তা হলো চুক্তির প্রথম দফা। সে প্রথম দফাটি হলেঅ ‘মাসে শুধুমাত্র একটি পিজা’।
চুক্তি করে মাসে একটি পিৎজা খেতে চাওয়া ২৪ বছর বয়সী নববধূর নাম শান্তি প্রসাদ। বন্ধুদের কাছে তিনি ‘পিৎজা প্রিয়’ মানুষ। শান্তি উত্তর-পূর্ব রাজ্য আসামের গুয়াহাটিতে একটি ঐতিহ্যবাহী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে বিয়ে করেন তার কলেজ জীবনের প্রেমিক মিন্টু রাইকে(২৫)।
পাঁচ বছর আগে একই কমার্স ক্লাসে যোগ দিয়ে এই দম্পতির প্রথম দেখা হয়। এরপর হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে আলাপ। একদিন শান্তি কলেজ মিস করলে সে মিন্টুর কাছে সাহায্য চায়। আর মিন্টু অনায়াসে সাহায্য করতে রাজি হয়। এরপর তাদের সম্পর্ক আরো গাঢ় হতে শুরু করে, ২০১৮ সালে তাদের বন্ধুত্বের সম্পর্ক প্রেমে গড়ায়।
শহরে একটি ইলেক্ট্রিক পণ্যের দোকান আছে মিন্টুর। মিন্টু জানায়, ‘কলেজে আমরা আমাদের দিনের শেষ ক্লাসটি ফাঁকি দিয়ে পাশের একটি পিৎজার দোতনে যেতাম। আমি জানতাম তাকে পিৎজার জন্য নিয়ে যেতে হবে। কারণ সে সবসময় পিৎজার কথা বলে।’
শান্তি বলে, ‘পিৎজা আমার খুব পছন্দের খাবার। তার সাথে বের হলেই আমি বলতাম চলো গিয়ে পিৎজা খেয়ে আসি।’ কিন্তু কিছুদিন পর মিন্টু অভিযোগ করতে শুরু করে এবং বলে, ’আর কতো পিৎজা খাবে? চলো অন্য কিছু খাই।’
তবে নবদম্পতি জানায় খাবার নিয়ে তাদেন মধ্যে কখনো ঝগড়া হয়নি। মিন্টু বলেছেন, অন্তত এখনো পর্যন্ত না। তবে শান্তি বলছে, মিন্টু পিৎজা খেয়ে বিরক্ত হতেন এবং বন্ধুদের কাছে এ নিয়ে নালিশ করতেন। যে কারণে বন্ধু মহলে শান্তির পিৎজা খাওয়া নিয়ে বেশ হাসিঠাট্টা হয়।
নবদম্পতির বন্ধু ও সহপাঠী রাঘব ঠাকুর বলেন, ‘মিন্টুর পর শান্তির দ্বিতীয় ভালোবাসা পিৎজা। আমার মনে হয় সে তার অবসর সময়েও পিৎজা নিয়ে ভাবে আর ঘুমালে স্বপ্নেও পিৎজা দেখে।’
রাঘব আরো বলেছেন, তাদের দেখা এবং বন্ধুত্বের শুরু ২০১৮ সালে কলেজ জীবন থেকে। দম্পতির বন্ধুত্ব, প্রেমের স্বাক্ষী তারা। তােই তাদের প্রণয়ের দিনটিকে স্মরণীয় করতে অদ্ভুত চুক্তি তালিকা তৈরি করেছেন বলে জানান তিনি।
এই তালিকার অন্যান্য শর্তগুলো ছিলো- মিন্টুকে অবশ্যই রোববার সকালের নাস্তা রান্না করতে হবে, তাকে অবশ্যই প্রতি ১৫ দিন পর পর শপিংয়ে নিতে হবে এবং কেবল তার স্ত্রীর সাথে রাতের পার্টিতে যেতে পারবে। আর শান্তির পিৎজা খাওয়া সীমিত করা ছাড়াও তাকে ব্যায়ামাগারে যেতে হবে, প্রত্যেকদিন শাড়ি পরতে হবে কারণ মিন্টুর মতে, ‘শাড়িতে শান্তিকে খুব সুন্দর দেখায়।’