× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

বাংলাদেশ কি চলতি সম্মেলনেই ব্রিকসের সদস্য হচ্ছে

প্রবা প্রতিবেদন

প্রকাশ : ২২ আগস্ট ২০২৩ ১৮:০৭ পিএম

আপডেট : ২৪ আগস্ট ২০২৩ ১৮:১৭ পিএম

ব্রিকসের ১৫তম বার্ষিক সম্মেলনে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং (বাঁয়ে) ও দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা। ২২ আগস্ট দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গে। ছবি : সংগৃহীত

ব্রিকসের ১৫তম বার্ষিক সম্মেলনে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং (বাঁয়ে) ও দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা। ২২ আগস্ট দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গে। ছবি : সংগৃহীত

বিশ্বের উদীয়মান পাঁচ অর্থনীতির দেশ ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন ও দক্ষিণ আফ্রিকা নিয়ে ব্রিকস গঠিত। অর্থনৈতিক জোটটির তিন দিনব্যাপী ১৫তম বার্ষিক সম্মেলন মঙ্গলবার, ২২ আগস্ট থেকে দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গে শুরু হয়েছে। সদস্য না হয়েও অতিথি হিসেবে তাতে যোগ দিতে মঙ্গলবার রাতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঢাকা ছাড়ার কথা রয়েছে। 

২০১৯ সালের পর এবারই প্রথমবারের মতো সশরীরের ব্রিকসের শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। তাই বিভিন্ন কারণে এবারের সম্মেলন গুরুত্বপূর্ণ। 

জানা গেছে, এবারের সম্মেলনে সদস্য সংখ্যা বাড়ানো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে।  সম্মেলনের শেষ দিন বৃহস্পতিবার, ২৪ আগস্ট কয়েকটি নতুন সদস্যের ঘোষণা আসার সম্ভাবনা রয়েছে। প্রত্যেক দেশের নিজস্ব মুদ্রায় বাণিজ্য করার বিষয়টিও আলোচনায় বিশেষভাবে গুরুত্ব পাবে। 

প্রশ্ন হলো, বাংলাদেশ কি চলতি শীর্ষ সম্মেলনেই শক্তিশালী জোটটার সদস্য হতে যাচ্ছে? সরাসরি উত্তর দিলে বলতে হয়, এটার স্পষ্ট কোনো উত্তর নেই। 

ব্রিকসের সদস্য হতে বাংলাদেশ ইতোমধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে আবেদন করেছে। গত ১৪ জুন থেকে এই ঘোষণা আসে। ওইদিন সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ব্রিকস সম্মেলনের এবারের আয়োজক দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট মাতামেলা সাইরিল রামাপোসার মধ্যে বৈঠকের পর বাংলাদেশের ব্রিকসে যোগদানের আনুষ্ঠানিক ঘোষণাটি আসে। 

তবে তার আগে ২০১৪ সাল থেকেই বাংলাদেশ ব্রিকসের সদস্য হওয়া নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। কারণ ওই বছরই চীনভিত্তিক ব্রিকস ব্যাংক বা নিউ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (এনডিবি) প্রতিষ্ঠিত হয়। ব্রিকসের সদস্য না হয়েও বাংলাদেশসহ আরও কয়েকটি দেশ ঋণদানকারী ব্যাংকটির সদস্য হয়। এবারের বৈঠকে এনডিবি নিয়ে সারগর্ভ আলোচনা হবে বলে জানা গেছে। 

২০০৯ সালে যাত্রা শুরু করা ব্রিকে ২০১০ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা যোগ দেয়। তখন থেকে ব্লকটির নাম হয় ব্রিকস। 

এদিকে ব্রিকসের সদস্য হতে ৪০টির বেশি দেশ আবেদন করেছে বলে সম্প্রতি জানিয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকার পররাষ্ট্রমন্ত্রী নালেদি প্যান্ডোর। এর মধ্যে কিছু দেশ আনুষ্ঠানিকভাবে আবেদন করেছে। আর কিছু দেশ মৌখিকভাবে করেছে। সদস্য হওয়ার চাহিদা বাড়তে থাকায় এবারের সম্মেলনে আফ্রিকা, লাতিন আমেরিকা, মধ্যপ্রাচ্য, ক্যারিবীয় অঞ্চলের ৬৭ দেশের প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপ্রধানদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। 

সম্প্রসারণ নিয়ে মতপার্থক্য

ব্রিকসের সদস্য বাড়ানো নিয়ে সদস্যদের মধ্যে কিছুটা মতবিরোধ রয়েছে। রাশিয়া, চীন ও দক্ষিণ আফ্রিকা সদস্য বাড়ানোর পক্ষে। ব্রাজিল এ বিষয়ে সন্দেহপ্রবণ। দেশটি মনে করে, সদস্য বাড়ানো হলে ব্রিকসের উদ্দেশ্য নষ্ট হয়ে যেতে পারে। 

প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ভারতও সদস্য বাড়ানো নিয়ে জটিল দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করে। সোমবার ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব বিনয় কোয়াত্রা বলেন, ব্রিকসের সদস্য বাড়ানো নিয়ে আমরা আগে থেকে কোনো মন্তব্য করতে চাই না। এটা নিয়ে আলোচনা হবে। আলোচনার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কাজ হবে। নতুন সদস্য নেওয়ার নীতিমালা, বৈশিষ্ট্য ইত্যাদি ঠিক করতে হবে।  

যে কারণে এত আগ্রহ

পশ্চিমা পণ্ডিত ও গণমাধ্যমগুলো ব্রিকসকে তাদের মূল্যবোধবিরোধী জোট বলে প্রচার করে থাকে। তবে এ ধরনের প্রচারণা ব্রিকসের নেতারা বারবার প্রত্যাখ্যান করেছেন। তারা দাবি করে থাকেন, ব্রিকস উন্নয়নশীল দেশ বা গ্লোবাল সাউথকে প্রাধান্য দিয়ে নীতি গ্রহণকে গুরুত্ব দেয়। 

তবে আরও কিছু বিষয় সঙ্গত কারণে উল্লেখযোগ্য। ব্রিকসভুক্ত ৫টি দেশে বিশ্বের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৪২ শতাংশ বাস করেন। বিশ্ব অর্থনীতির মধ্যে দেশগুলোর অংশ প্রায় ২৬ শতাংশ। 

এই তো গেল কিছু বহুল প্রচলিত মত ও তথ্যগত কিছু বিষয়। তবে ব্রিকস গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠার পেছনে অন্য কিছু কারণ থাকতে পারে। যেমন এ জোটটি জি-৭ এর মতো অভিন্ন মূল্যবোধের প্রচারণা চালায় না। অর্থাৎ জোটটির সদস্যগুলো একেকটা একেকভাবে শাসিত হয়। চীনে কমিউনিস্ট শাসন, রাশিয়ায় এক ব্যক্তির শাসন, ব্রাজিল, ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকায় গণতন্ত্র চলে।  

দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা মঙ্গলবার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের ভাষণে  ব্রিকসের সম্প্রসারণ নিয়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেছেন। এতে জোটটির প্রতি আগ্রহ বাড়ার একটা ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। 

রামাফোসা বলেন, ব্রিকসকে সম্প্রসারিত করা হলে বৈচিত্র্য বাড়বে। এতে ভিন্ন ভিন্ন রাজনৈতিক ব্যবস্থার অনেক জাতির স্থান হবে। ভিন্ন ভিন্ন রাজনৈতিক ব্যবস্থার দেশ নিয়ে ব্রিকস সম্প্রসারিত হলে বিশ্ব ব্যবস্থা আরও সুসংহত হবে। 

সূত্র : রয়টার্স, আলজাজিরা, আলমনিটর


শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা