প্রবা ডেস্ক
প্রকাশ : ১২ অক্টোবর ২০২২ ১৩:৫৫ পিএম
আপডেট : ১২ অক্টোবর ২০২২ ১৫:৩৬ পিএম
মঙ্গলবার ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ মুহাম্মদ বিন জায়েদ আল-নাহিয়ান। ছবি : সংগৃহীত
রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠকের পর ইউক্রেন যুদ্ধের অবসান ঘটাতে সব পক্ষের মধ্যে সংলাপ-সমঝোতার আহ্বান জানিয়েছেন সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ মুহাম্মদ বিন জায়েদ আল-নাহিয়ান।
মঙ্গলবার (১১ অক্টোবর) রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গে বৈঠকের পর এ আহ্বান আসে বলে জানিয়েছে আরব নিউজ।
বৈঠকে আমিরাতের প্রেসিডেন্ট বলেন, তার দেশ বিশ্বে শান্তি ও স্থিতিশীলতার ভিত্তি শক্তিশালী করতে অবদান রাখতে চায়। তারা ইউক্রেন সংকটসহ বেশ কয়েকটি বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছেন। এ ছাড়া ইউক্রেনে উত্তেজনা কমিয়ে কূটনৈতিক সমাধানে পৌঁছাতে সংলাপে বসার গুরুত্ব নিয়েও আলোচনা হয় বলে তিনি জানান।
তার কূটনৈতিক উপদেষ্টা আনোয়ার গারগাশ বলেন, শেখ মুহাম্মদের সফর নির্ধারিত হয়েছিল দ্বিপক্ষীয় বিষয়ে আলোচনার জন্য। কিন্তু বর্তমান সময়ে ইউক্রেন যুদ্ধের জরুরি সমাধান প্রয়োজন বলে বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। দুই নেতা আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিষয়গুলোও পর্যালোচনা করেছেন। এর মধ্যে গত সপ্তাহে তেল উৎপাদকদের জোট ওপেকের সিদ্ধান্ত নিয়েও আলোচনা হয়। এ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সৌদি আরব ও রাশিয়ার নেতৃত্বে নভেম্বর থেকে প্রতিদিন ২০ লাখ ব্যারেল তেল উৎপাদন কমাবে ওপেক।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনসহ পশ্চিমা নেতারা এ সিদ্ধান্তের ব্যাপক সমালোচনা করেছেন। তাদের দাবি, এ জোট অন্য কারও স্বার্থপূরণে কাজ করছে। যদিও পুতিন এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
পুতিন বলেন, ‘আমাদের কর্মকাণ্ডের লক্ষ্য বিশ্বব্যাপী জ্বালানি বাজারে স্থিতিশীলতা তৈরি করা, যাতে বিশ্ববাজারে জ্বালানির ভোক্তা, উৎপাদনকারী ও সরবরাহকারী সবাই স্থিরতা, স্থায়িত্ব এবং আত্মবিশ্বাস অর্জন করতে পারে। তাতে বাজারে সরবরাহ ও চাহিদার মধ্যে ভারসাম্য বজায় থাকবে।’
মঙ্গলবার আঙ্কারাও ইউক্রেনে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছে মস্কোকে। তবে ন্যাটোর সদস্য হওয়া সত্ত্বেও ইউক্রেন সংঘাতের সময় নিরপেক্ষ থেকেছে আঙ্কারা। কিন্তু ইউক্রেনের শহরগুলোয় রাশিয়ার ক্রমবর্ধমান আক্রমণ কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা আরও কমিয়ে দিচ্ছে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে দেশটি।
মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেভলুত কাভুসোগলু জানান, দুর্ভাগ্যবশত উভয় পক্ষই কূটনীতি থেকে দ্রুত দূরে সরে গেছে। পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে পড়েছে। যত দ্রুত সম্ভব একটি যুদ্ধবিরতিতে পৌঁছাতে হবে। আর তা যত তাড়াতাড়ি হবে ততই ভালো।
সোমবার থেকে ইউক্রেনজুড়ে হামলা তীব্র করেছে রাশিয়া। মঙ্গলবার ইউএই প্রেসিডেন্ট শেখ মুহাম্মদের সঙ্গে সাক্ষাতের সময়ও এ হামলা চলমান ছিল। মস্কোর এ বিমান হামলায় নিহত হন ১৯ জন এবং শতাধিক মানুষ আহত হন। পাশাপাশি বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে বিভিন্ন অঞ্চল।
প্রবা/এনএস/টিকে/জেও