প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১৯ আগস্ট ২০২৩ ১৫:২৭ পিএম
আপডেট : ১৯ আগস্ট ২০২৩ ১৬:১০ পিএম
মালি, বুরকিনা ফাসো, নাইজার, চাদ ও গিনির প্রতিনিধিরা ইকোওয়াসের আক্রা বৈঠক অংশ নেননি। ছবি : সংগৃহীত
নাইজারে সামরিক অভিযানের ডি-ডে বা দিনক্ষণ চূড়ান্ত করেছে আঞ্চলিক জোট ইকোনমিক কোঅপারেশন অব ওয়েস্ট আফ্রিকান স্টেটস (ইকোওয়াস)। শুক্রবার, ১৮ আগস্ট জোটটির রাজনীতি, শান্তি ও নিরাপত্তাবিষয়ক কমিশনার আবদেল-ফাতাউ মুসাহ এ ঘোষণা দেন।
আবদেল-ফাতাউ মুসাহ বলেন, ডি-ডে নিয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে। সামরিক অভিযানের জন্য কী কী দরকার তার সবকিছু আমরা ইতোমধ্যে চূড়ান্ত করেছি। আদেশ পেলেই আমাদের সেনারা নাইজার অভিযান শুরু করবে। তবে আমরা এখনও আলোচনার মাধ্যমে নাইজারের পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা করছি।
নাইজার অভিযানের ডি-ডে চূড়ান্ত করার কথা বললেও তা প্রকাশ করেননি আবদেল-ফাতাউ মুসাহ।
নাইজারের সামরিক অভ্যুত্থান-পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করতে ঘানার রাজধানী আক্রায় বৃহস্পতিবার (১৭ আগস্ট) থেকে দুই দিনব্যাপী একটি বৈঠক শুরু হয়। শুক্রবার আলোচনার শেষ দিন মুসাহ এই ঘোষণা দেন।
প্রথম দিনের আলোচনা শেষে মুসাহ জানিয়েছিলেন, ইকোওয়াসের ১৫ সদস্যের মধ্যে কেপ ভার্দে ছাড়া বাকি দেশগুলো নাইজারের সামরিক অভিযানের পক্ষে মত দিয়েছে। সদস্যপদ স্থগিত হওয়ায় অংশ নিতে পারেনি মালি ও বুরকিনা ফাসো।
তবে নাইজারের পাশাপাশি অন্য দুই সদস্য চাদ ও গিনিরও প্রতিরক্ষামন্ত্রী বা প্রতিরক্ষা প্রধানরা ইকোওয়াসের আক্রা বৈঠকে অংশ নেননি বলে উল্লেখ করা হয়েছে রাশিয়ার সংবাদ মাধ্যম আরটির প্রতিবেদনে।
আলজাজিরা জানায়, নাইজারে ইকোওয়াসের অভিযান শুরুর জন্য এখনও বেশ কিছু রাজনৈতিক ও আইনি জটিলতা রয়ে গেছে। কারণ অংশগ্রহণকারী প্রত্যেক দেশের পার্লামেন্টে অভিযানের অনুমতি পাস হতে হবে। কিন্তু আঞ্চলিক পাওয়ার হাউস ও ইকোওয়াসের বর্তমান চেয়ার নাইজেরিয়া তা এখনও পাস করেনি।
২৬ জুলাই প্রেসিডেন্সিয়াল গার্ড নাইজারের রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ বাজুমকে ক্ষমতাচ্যুত করে বন্দি করে। এখন রাজধানী নিয়ামিতে স্ত্রী ও পুত্রের সঙ্গে বন্দি রয়েছেন বাজুম।
বাজুমকে মুক্তি দিয়ে তার হাতে ক্ষমতা ফিরিয়ে দিতে ৬ আগস্ট পর্যন্ত ইতঃপূর্বে একবার সময় বেঁধে দিয়েছিল ইকোওয়াস। কিন্তু অধিকাংশ সদস্য একমত হতে না পারায় সময়সীমা পার হয়ে গেলেও তখন সামরিক হস্তক্ষেপ করতে পারেনি জোটটি। এ অবস্থায় ১০ আগস্ট সব সদস্য দেশকে নাইজারে সামরিক অভিযানের জন্য সেনাবাহিনী প্রস্তুত রাখতে আহ্বান জানানো হয়।
এমন ঘোষণায় নাইজারে বিদেশি সামরিক হস্তক্ষেপ নিজ দেশে হামলা বলে ধরে নেওয়ার পাল্টা হুমকি দেয় মালি ও বুরকিনা ফাসো। এই দুই দেশ ২০২০ সালের পর থেকে সেনা শাসনের অধীনে রয়েছে।
নাইজার, মালি ও বুরকিনা ফাসো ১৯০০ থেকে ১৯৬০ সাল পর্যন্ত ফ্রান্সের উপনিবেশ ছিল। নাইজারে বর্তমানে ফ্রান্সের প্রায় দেড় হাজার সেনা রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের রয়েছে প্রায় ১ হাজার ৩০০।
যুক্তরাষ্ট্রের সেনাদের পশ্চিম আফ্রিকার অন্য দেশে সরিয়ে নেওয়ার ঘোষণা এসেছে। শুক্রবার ওয়াশিংটনে এয়ার ফোর্স জেনারেল জেমস হেকার এ ঘোষণা দেন। তবে তাদের কোন দেশে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে তা তিনি জানাননি।
এদিকে মালি ও বুরকিনা ফাসোতে রাশিয়ার প্রাইভেট সামরিক কোম্পানি ওয়াগনারের সেনা রয়েছে। নাইজারের সামরিক জান্তা ওয়াগনারের সহায়তা চেয়েছে বলে জানা গেছে।
নাইজারে ইকোওয়াসের সামরিক হস্তক্ষেপ নিয়ে আলোচনা করতে ১৪ আগস্ট বৈঠকে বসেছিল আফ্রিকান ইউনিয়ন (এইউ)। কিন্তু তারা সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করতে পারেনি।
ধারণা করা হচ্ছে, নাইজারে বিদেশি সামরিক হস্তক্ষেপ পুরো অঞ্চলকে অস্থিতিশীল করতে পারে, এমন শঙ্কা থেকে আফ্রিকার কর্তৃপক্ষখ্যাত জোটটি ইকোওয়াসের সামরিক অভিযানকে অনুমোদন দিতে দ্বিধা করছে। এইউর অনুমোদন না পেলে ইকোওয়াসের অভিযান বৈধতা পাবে না বলে ধরা হচ্ছে।
সূত্র : আলজাজিরা, আরটি