প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১৭ আগস্ট ২০২৩ ১৯:০০ পিএম
আপডেট : ১৯ আগস্ট ২০২৩ ১৪:৩৮ পিএম
জান্তার সমর্থকরা ফরাসি সেনাঘাঁটির সামনে বিক্ষোভ করছেন। ১১ আগস্ট নাইজারের রাজধানী নিয়ামিতে। ছবি : সংগৃহীত
নাইজারে সামরিক অভিযান চালাতে দ্য ইকোনমিক কমিউনিটি অব ওয়েস্ট আফ্রিকান স্টেটসের (ইকোওয়াস) ১৫-এর মধ্যে ১১ সদস্য সম্মত হয়েছে। এ অবস্থায় গত মাসে সামরিক অভ্যুত্থান হওয়া দেশটি বড় ধরনের বিদেশি সামরিক অভিযানের মুখে পড়তে যাচ্ছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তবে আফ্রিকান ইউনিয়ন (এইউ) সম্মতি না দিলে ইকোওয়াসের সামরিক হস্তক্ষেপ বৈধতা পাবে না বলে ধারণা করা হচ্ছে।
নাইজারের সামরিক অভ্যুত্থান-পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করতে ঘানার রাজধানী আক্রায় বৃহস্পতিবার (১৭ আগস্ট) থেকে দুই দিনব্যাপী একটি বৈঠক শুরু হয়েছে। এতে ইকোওয়াসের ১৫ সদস্যের মধ্যে কেপ ভার্দে ছাড়া বাকি দেশগুলো নাইজারের সামরিক অভিযানের পক্ষে মত দিয়েছে। সদস্যপদ স্থগিত হওয়ায় অংশ নিতে পারেনি মালি ও বুরকিনা ফাসো। আর বৈঠকে অংশ নিয়ে স্বাভাবিকভাবে এ ধরনের হস্তক্ষেপের ঘোর বিরোধিতা করেছে নাইজার।
ইকোওয়াসের কমিশনার আবদেল-ফাতাউ মুসাহ বলেন, ’যেসব দেশ সামরিক শাসনের অধীনে তারা ও কেপ ভার্দে ছাড়া বাকি দেশগুলো নাইজারে সামরিক অভিযানের পক্ষে মত দিয়েছে।’
নাইজারের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ক্রিস্টোফার গোয়াবিন মুসা বলেন, ’গণতন্ত্রের জন্য আমরা সবাই একমত হয়েছি। গণতন্ত্রকে সমুন্নত রাখাই আমাদের উদ্দেশ্য।’
২৬ জুলাই প্রেসিডেন্সিয়াল গার্ড নাইজারের রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ বাজুমকে ক্ষমতাচ্যুত করে বন্দি করে। এখন রাজধানী নিয়ামিতে স্ত্রী ও পুত্রের সঙ্গে বন্দি রয়েছেন বাজুম।
বাজুমকে মুক্তি দিয়ে তার হাতে ক্ষমতা ফিরিয়ে দিতে ৬ আগস্ট পর্যন্ত ইতঃপূর্বে একবার সময় বেঁধে দিয়েছিল ইকোওয়াস। কিন্তু অধিকাংশ সদস্য একমত হতে না পারায় সময়সীমা পার হয়ে গেলেও তখন সামরিক হস্তক্ষেপ করতে পারেনি জোটটি। তবে তখনই সব দেশকে নাইজারে সামরিক অভিযানের জন্য সেনাবাহিনী প্রস্তুত রাখতে আহ্বান জানানো হয়েছিল।
এমন ঘোষণায় নাইজারে বিদেশি সামরিক হস্তক্ষেপ নিজ দেশে হামলা বলে ধরে নেওয়ার পাল্টা হুমকি দেয় মালি ও বুরকিনা ফাসো। এই দুই দেশ ২০২০ সালের পর থেকে সেনা শাসনের অধীনে রয়েছে।
নাইজার, মালি ও বুরকিনা ফাসো ১৯০০ থেকে ১৯৬০ সাল পর্যন্ত ফ্রান্সের উপনিবেশ ছিল। নাইজারে বর্তমানে ফ্রান্সের প্রায় দেড় হাজার সেনা রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের রয়েছে প্রায় ১ হাজার ৩০০।
আর মালি ও বুরকিনা ফাসোতে রাশিয়ার প্রাইভেট সামরিক কোম্পানি ওয়াগনারের সেনা রয়েছে। নাইজারের সামরিক জান্তা ওয়াগনারের সহায়তা চেয়েছে বলে জানা গেছে।
আল-জাজিরা জানায়, নাইজারে ইকোওয়াসের সামরিক হস্তক্ষেপ নিয়ে আলোচনা করতে সোমবার (১৪ আগস্ট) বৈঠকে বসেছিল এইউ। কিন্তু তারা সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করতে পারেনি। ধারণা করা হচ্ছে, নাইজারে বিদেশি সামরিক হস্তক্ষেপ পুরো অঞ্চলকে অস্থিতিশীল করতে পারে, এমন শঙ্কা থেকে আফ্রিকার কর্তৃপক্ষখ্যাত জোটটি ইকোওয়াসের সামরিক অভিযানকে অনুমোদন দিতে দ্বিধা করছে। এইউর অনুমোদন না পেলে ইকোওয়াসের অভিযান বৈধতা পাবে না বলে ধরা হচ্ছে।
সূত্র : আল-জাজিরা