× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

কী ঘটছে মিয়ানমারে

প্রবা ডেস্ক

প্রকাশ : ১১ অক্টোবর ২০২২ ১৬:৫১ পিএম

আপডেট : ১১ অক্টোবর ২০২২ ১৮:৩৫ পিএম

ছবি : সংগৃহীত

ছবি : সংগৃহীত

মিয়ানমারে সামরিক অভ্যুত্থানের পর বিক্ষোভে ফেটে পড়ে গণতন্ত্রপন্থিরা। ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করে ক্ষমতা দখল করে সামরিক বাহিনী। এর পর রাজপথে নামে সর্বস্তরের মানুষ। আন্দোলন প্রতিরোধে অচল হয়ে পড়ে দেশ। পরে এ আন্দোলন গেরিলা লড়াইয়ে রূপ নেয়। এক পর্যায়ে গণতন্ত্রপন্থিদের সঙ্গে যোগ দেয় বিভিন্ন বিদ্রোহী গোষ্ঠী। আন্দোলন দমাতে নিষ্ঠুর পন্থা নেয় জান্তা। তবে গণতন্ত্রপন্থিদের রুখতে পারেনি তারা। বরং দেশজুড়ে সংঘাত-সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছে।

গণতন্ত্রপন্থিদের রুখতে বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত এলাকায় গ্রামের পর গ্রাম জ্বালিয়ে দিয়েছে সামরিক বাহিনী। প্রায় দুই হাজার কর্মীকে হত্যা করেছে নিরাপত্তা বাহিনী। বহু মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর জবাবে সামরিক স্থাপনায়ও হামলা চালাচ্ছে বিদ্রোহীরা।

এর অংশ হিসেবে পিপলস ডিফেন্স ফোর্স (পিডিএফ) গ্রুপ এবং জাতিগত সশস্ত্র সংস্থা (ইএও) মিয়ানমারের সাগাইং, মান্দালে, ম্যাগওয়ে, বাগো, ইয়াঙ্গুন অঞ্চল, কাচিন, কারেন এবং রাখাইন রাজ্যে শাসকবাহিনী ও তাদের তথ্যদাতাদের লক্ষ্য করে অভিযান চালায়। চার দিনব্যাপী চলমান হামলায় জান্তার বাহিনীর ৪০ সেনা নিহত হয়।

মঙ্গলবার (১১ অক্টোবর) প্রকাশিত দেশটির সংবাদমাধ্যম ইরাবতি এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়। 

আরাকান আর্মি (এএ) সোমবার উত্তর রাখাইন রাজ্যের মংডু শহরতলির বাংলাদেশ সীমান্তে একটি সেনা ফাঁড়ি দখল করেছে বলে দাবি করে। দীর্ঘ ১ ঘণ্টার অভিযানের পর দেশটির সামরিক বাহিনীর এ ঘাঁটিটি দখলে নেয় এএ।

এ ঘাঁটি থেকেই প্রত্যেকদিন মংডু শহরতলিতে স্থানীয়দের ওপর বিনা উসকানিতে গুলি বর্ষণ করে সেনাবাহিনী।

অভিযানের সময় জান্তার কয়েকজন ও আরাকান আর্মির একজন প্রতিরোধ যোদ্ধা নিহত হয়। এ ছাড়া সেনাবাহিনীর তিন সদস্যকে অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ আটক করা হয় বলে জানিয়েছে এএ।

সাগাইং রাজ্যের মনিওয়া শহরতলিতে অবস্থিত উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় আঞ্চলিক সামরিক কমান্ডে বোমা হামলা চালায় পাঁচটি পিডিএফ গ্রুপের সম্মিলিত বাহিনী। এ অভিযানে অংশ নেওয়া চিন্ডউইন অ্যাটাক ফোর্স জানায় রবিবার সকালে এ বোমা হামলা করা হয়।

পিডিএফ গ্রুপগুলো জানিয়েছে, তারা আক্রমণে ৬০ মিমি থেকে ১২০ মিমি বিস্ফোরকসহ ১৫টি অত্যাধুনিক মর্টার শেল ব্যবহার করেছে।

সেই রাতে শাসকবাহিনী ১৫টি অত্যাধুনিক মর্টাল শেল ব্যবহার করে থাসি গ্রামে নির্মাণাধীন নতুন একটি কারাগারে হামলা চালায়। তবে এ হামলার ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনও জানা যায়নি।

সাগাইং রাজ্যের সালিঙ্গি শহরতলিতে রবিবার রাতে হামলা চালায় পিডিএফ গোষ্ঠী। চিন্ডউইন অ্যাটাক ফোর্স জানিয়েছে, তারাসহ আরও নয়টি স্থানীয় প্রতিরোধ গোষ্ঠী শহরতলির পুলিশ স্টেশন ও হাসপাতালে মোতায়েন শাসকবাহিনী এবং জান্তা প্রক্সি ইউনিয়ন সলিডারিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টির (ইউএসডিপি) অফিসে বোমাবর্ষণ ও হামলা চালায়।

তবে অস্ত্রস্বল্পতার কারণে শাসকগোষ্ঠীর ঘাঁটিতে অভিযান সম্পূর্ণ করতে পারেনি বলে জানায় পিডিএফ গোষ্ঠী।

রবিবার বিকালে সাগাইং অঞ্চলের মনিওয়া শহরে জান্তা নিয়ন্ত্রিত মিয়ানমার ইকোনমিক ব্যাংকের পাহারায় থাকা শাসকবাহিনীকে লক্ষ্য করে দুটি গ্রেনেড নিক্ষেপ করে মিয়ানমারের রয়্যাল ড্রাগন আর্মি (এমআরডিএ)।

এ হামলায় দুই সেনা নিহত এবং অন্যরা আহত হয় বলে জানা যায়।

পিডিএফের প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, গ্রেনেড বিস্ফোরণের পর শহরের একটি ব্যস্ত রাস্তা থেকে গুলির শব্দ শোনা যাচ্ছে। এ অঞ্চলের বাসিন্দাদের সম্ভাব্য আক্রমণের আশঙ্কার কারণে শাসকবাহিনী থেকে দূরে থাকার অনুরোধ করে পিডিএফ গোষ্ঠী।

প্রতিরোধ বাহিনী জানায়, গত শুক্রবার সাগাইং অঞ্চলে কানি শহরতলির ছয়টি অবস্থান থেকে ১৩টি মোটরবোটের একটি সামরিক যুদ্ধজাহাজে অতর্কিত আক্রমণ চালায়। এ আক্রমণের একটি ভিডিওতে দেখা যায়, পিডিএফ গোষ্ঠী ও সামরিক মোটরবোটগুলোতে ব্যাপক সংঘর্ষ হচ্ছে।

এ ছাড়া বৃহস্পতিবার কানি শহরে ছয়টি স্থানীয় প্রতিরোধ গোষ্ঠী একটি সামরিক যুদ্ধজাহাজে অতর্কিত হামলা চালালে একজন সেনা কর্মকর্তাসহ সাতজন জান্তা সদস্য নিহত হয় বলে জানা যায়।

স্থানীয় প্রতিরোধ বাহিনী চিন্ডউইন টাইগার পিডিএফ দাবি করে, রবিবার রাতে সাগাইং অঞ্চলের ইয়ানমাবিনের বান্টবওয়ে গ্রামে অবস্থানরত জান্তাবাহিনীকে আক্রমণ করেছে।

পিডিএফ জানায়, এ সময় তারা অত্যাধুনিক অস্ত্র ব্যবহার করে হামলা চালায়। এর জবাবে জান্তাবাহিনীও মর্টার শেল ছুঁড়েছে।

স্থানীয় পিডিএফ গ্রুপ বার্মা রেঞ্জার্স (শ্বেবো) দাবি করেছে, শুক্রবার সাগাইং রাজ্যের শ্বেবো শহরে একটি ট্রাকে অতর্কিত হামলায় ১৬টি ল্যান্ড মাইন ব্যবহার করলে সাত সেনা নিহত হয়। এ ঘটনায় আহত হয় আরও ২০ জন।

তবে এ হামলার প্রতিক্রিয়ায় সেনাবাহিনী গুলি চালালে দুজন বেসামরিক বাসিন্দা আহত হয় বলে জানায় পিডিএফ।

আনডারগ্রাউন্ড প্রতিরোধ গোষ্ঠী ফ্রিল্যান্ড অ্যাটাক ফোর্স জানায়, আরও দুটি পিডিএফ গোষ্ঠীসহ তারা ইয়াঙ্গুনের সাউংচাং শহরে আদালতের কাছে একটি ট্রাফিক পুলিশ ফাঁড়িতে বোমা হামলা চালায়। রিমোট কন্ট্রোল বোমা ব্যবহার করে সোমবার রাতে এ হামলা চালানো হয়। এতে ফাঁড়িটি ধ্বংস হয়ে যায়।

উইন্ডউইন টাউনশিপ রেভোলিউশন ফোর্স (ডব্লিউটিআরএফ) রবিবার রাতে হামলা চালিয়ে জান্তা পুলিশ অফিসার সাউ নাইং উওকে হত্যা করার দাবি করেছে। সাউ নাইং উইন্ডউইন পুলিশ স্টেশনের প্রধান ছিলেন।

শহুরে প্রতিরোধ গোষ্ঠী জেনারেল জেড পাওয়ার-মান্ডালে দাবি করে, সোমবার সকালে তারা এবং আরেকটি আন্ডারগ্রাউন্ড গোষ্ঠী মান্দালয় অঞ্চলের চানম্যাথাজি শহরে জান্তা তথ্যদাতা কো অং সানকে হত্যা করে। 

পিডিএফ জানায়, গত বছর শহরে শান্তিপূর্ণ সরকারবিরোধী বিক্ষোভে অংশ নেওয়া মা থু থু জিন (২৫) কে হত্যার প্রতিক্রিয়ায় তথ্যদাতাকে হত্যা করা হয়।

মায়াং-পিডিএফ জানায়, রবিবার রাতে ২০টি স্থানীয় প্রতিরোধ বাহিনী যৌথভাবে জান্তা বাহিনীর ওপর হামলায় আট সেনা সদস্য নিহত হয়। ম্যাগওয়ে অঞ্চলের মায়াং শহরের ওয়াটপোকে গ্রামে তারা অবস্থান করছিলেন।

রবিবার বিকালে ম্যাগওয়ে অঞ্চলের গাঙ্গাও শহরে ইয়াও ডিফেন্স ফোর্সের (ওয়াইডিএফ) উপপ্রধানসহ দুই প্রতিরোধ যোদ্ধা নিহত হয়। শহরের কিয়নখোনেথার গ্রামের কাছে পুলিশ বাহিনীর অতর্কিত আক্রমণে তাদের মৃত্যু হয়। এতে একজন জান্তা পুলিশ কর্মকর্তা নিহত এবং আরেকজন আহত হয়।

বন্দুকযুদ্ধে ওয়াইডিএফ উপপ্রধান কো ফিও (২১) ও একজন কমরেড নিহত হন। এ ছাড়া পিডিএফ যোদ্ধা নাইন থেইন আহত হন।

ইন্নাটাকাও পিডিএফ রবিবার বাগো অঞ্চলের ইন্টাকাও শহরের হান্থওয়াড্ডি গলফ ক্লাবের কাছে পুলিশ সার্জেন্ট টিন নাইং ওকে হত্যা করেছে বলে দাবি করেছে।

এ ছাড়া রবিবার রাতে বাগো পিডিএফ বাহিনী একটি সামরিক চেকপয়েন্টের ১৭টি বাহিনীতে হামলা চালালে চার জান্তা সেনা নিহত হয়। এতে আহত হয় আরও অনেকে।

একই দিনে সকালে থায়ারওয়াদ্দি জেলা পিডিএফ বাগো অঞ্চলের নাটালিন শহরতলির একটি গ্রামে অভিযান চালায়। এ সময় তারা ২৩ সামরিক বাহিনীকে আক্রমণ করার জন্য মাইন চালালে চার জান্তা সেনা নিহত এবং সাতজন আহত হয়।

কারেন ন্যাশনাল লিবারেশন আর্মি (কেএনএলএ) জানায়, শনিবার মায়াওয়াদ্দি শহরের তাং নি গ্রামের কাছে এক অতর্কিত হামলায় তিন জান্তা সেনাকে হত্যা করা হয়েছে। 

এ ছাড়া রবিবার সকালে কাচিন রাজ্যের হাপাকান্তের জেড শহরে জান্তা পুলিশ অফিসার থেন নাইং ওও-কে হত্যা করা হয়। একটি ম্যাসাজ পার্লার থেকে বের হওয়ার সময় অজ্ঞাত বন্দুকধারীদের গুলিতে নিহত হন তিনি।

প্রবা/এনএস/এমআই
শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা