ধর্মীয় অনুভূতিতে ‘আঘাত’
প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১৬ আগস্ট ২০২৩ ১৮:১৪ পিএম
আপডেট : ১৬ আগস্ট ২০২৩ ১৮:৪৫ পিএম
চার্চের আসবাব ভাঙচুরের পর আগুন দিয়েছে বিক্ষুব্ধ জনতা। প্রবা ফটো
ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেওয়ার অভিযোগে পাকিস্তানের ফয়সালাবাদের জরানওয়ালা তহসিলে একাধিক চার্চ ভাঙচুর করা হয়েছে।
বুধবার (১৬ আগস্ট) বিক্ষুব্ধ জনতা এই ভাঙচুর চালায় বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা ডন।
আকমল ভাট্টি নামে একজন খ্রিস্টান নেতা জানান, মসজিদ থেকে হামলায় উসকানি দেওয়ার পর অনেকে বাড়িঘর ছেড়ে পালান। এসব বাসাবাড়ি থেকে মূল্যবান জিনিসপত্র লুটপাট করা হয়েছে। ভাঙচুর করা হয়েছে অন্তত পাঁচটি চার্চ।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবিতে দেখা যায়, গির্জা থেকে বের করে আনা আসবাবে আগুন দেওয়া হচ্ছে। ধোঁয়া উঠছে চার্চের ভবন থেকে।
জরানওয়ালার যাজক ইমরান ভাট্টি ডন ডটকমকে জানান, সালভেশন আর্মি চার্চ, ইউনাইটেড প্রেসবিটারিয়ান চার্চ, অ্যালাইড ফাউন্ডেশন চার্চ এবং ঈসা নাগরী এলাকায় অবস্থিত শেহরুনওয়ালা চার্চ ভাঙচুর করা হয়েছে।
ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেওয়ার অভিযোগ যে খ্রিস্টান পরিচ্ছন্নকর্মীর বিরুদ্ধে উঠেছে তার বসতঘর অনেকটা নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া হয়েছে।
পাঞ্জব পুলিশের প্রধান উসমান আনোয়ার জানিয়েছেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ চেষ্টা করছে এবং পুরো এলাকা ঘিরে রাখা হয়েছে। বিক্ষুব্ধরা একজন সহকারী কমিশনারের (ওই এলাকার খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের একজন সদস্য) বিরুদ্ধে গেলে তাকেও সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
যদিও খ্রিস্টান নেতারা পুলিশের ভূমিকা নিয়ে ব্যাপক প্রশ্ন তুলেছেন। তাদের অভিযোগ, পুলিশ নীরব ভূমিকা পালন করেছে।
পাঞ্জাবের স্বরাষ্ট্র বিভাগের মুখপাত্র আমজাদ কালিয়ার বলেন, এলাকায় রেঞ্জার্স মোতায়েনের জন্য একটি অনুরোধ পাঠানো হয়েছে। তবে এটির বিষয়ে এখনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।
এর আগে পাকিস্তানের চার্চের প্রেসিডেন্ট বিশপ আজাদ মার্শাল বলেছেন, পবিত্র কুরআন অবমাননার মিথ্যা অভিযোগ তুলে খ্রিস্টানদের নির্যাতন ও হয়রানি করা হয়েছে। অপবিত্র করা হয়েছে বাইবেলকে।
ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও সব নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তিনি। বলেছেন, সব পুরোহিত, বিশপ এবং সাধারণ মানুষ এই ঘটনায় ‘গভীরভাবে ব্যথিত ও শোকাহত’।
সাবেক সিনেটর আফরাসিয়াব খট্টক ঘটনার নিন্দা জানিয়ে দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।
ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেওয়অর অভিযোগে ১৯৪৭ সাল থেকে এখন পর্যন্ত ১০০ জনকে হত্যা করা হয়েছে পাকিস্তানে।