চারটি নতুন আইন
প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১২ আগস্ট ২০২৩ ১৬:১৩ পিএম
নতুন বিলগুলো লোকসভায় পাস হওয়ার সময় ওয়াকআউট করেন বিরোধী দলীয় এমপিরা। ১১ আগস্ট শুক্রবার। ছবি : সংগৃহীত
ভারতের লোকসভায় উত্থাপিত চারটি বিলে শনিবার, ১২ আগস্ট স্বাক্ষর করেছেন দেশটির রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। ফলে বিলগুলো আইনে পরিণত হয়েছে। চারটি বিলের মধ্যে দুইটার গুরুতর বিরোধীতা করেন বিরোধীরা।
নতুন চারটি আইন হলো : এক. রাজধানী দিল্লির শাসন। দুই. ডিজিটাল ব্যক্তিগত তথ্য সংরক্ষণ। তিন. জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধ (সংশোধন)। চার. জনবিশ্বাস (সংশোধন)।
এই চারটি আইনের মধ্যে রাজধানী দিল্লির শাসন ও ডিজিটাল ব্যক্তিগত তথ্য সংরক্ষণ বিল নিয়ে বিরোধীরা প্রবল আপত্তি করেন।
রাজধানী দিল্লির শাসন সংক্রান্ত নতুন আইনের ফলে এখন থেকে অঞ্চলটির আমলাতন্ত্রের নিয়ন্ত্রণ চলে গেল কেন্দ্রের হাতে। দিল্লির বর্তমান শাসক আম আদমি পার্টিসহ বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’ লোকসভায় বিলটি উত্থাপনের সময় ওয়াকআউট করে।
এই আইনটি নিয়ে আম আদমির সঙ্গে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) শাসিত কেন্দ্রের আট বছর ধরে মামলা চলে। দিল্লির আমলারা কার নিয়ন্ত্রণে থাকবে? কেন্দ্র, না স্থানীয় সরকর? এটা নিয়ে ভারতের সুপ্রিম কোর্টের একটা রুল ছিল। তাতে রাজধানীর আমলাদের নিয়ন্ত্রণে পার্লামেন্টকে প্রয়োজনে আইন পাস করার ক্ষমতা দেওয়া হয়।
শুক্রবার (১১ আগস্ট) লোকসভায় বিলটার পক্ষে ভোট পড়ে ১৩১টা। বিপক্ষে পড়ে ১০২টা।
নতুন আইনের পক্ষে সাফাই গেয়ে ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জাতীয় রাজধানী দিল্লি নিয়ে যে কোনো আইন করার ক্ষমতা পার্লামেন্টের রয়েছে। এটা সাংবিধানিক অধিকার।
শুক্রবার পার্লামেন্টে আইনটা পাস হওয়ার আগ মুহূর্তে এক টুইটে দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী আরবিন্দ কেজরিওয়াল বলেন, দিল্লির নাগরিকদের ‘দাস’ বানানোই এই বিলের প্রধানতম উদ্দেশ্য।
ডিজিটাল ব্যক্তিগত তথ্য সংরক্ষণ বিল নিয়েও বিরোধীরা প্রবল আপত্তি করেন। বিলটি হ্যাঁ-না ভোট বা কণ্ঠভোটে পাস হয়।
বিলে বলা হয়, অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলো কোনো ব্যক্তির তথ্যের অপব্যবহার করলে সর্বোচ্চ ২৫০ কোটি রুপি জরিমানা হতে পারে।
বিরোধী বিলটার কিছুটা সংশোধন চেয়েছিলেন। বিরোধীদের অভিযোগ, এই বিলের ফলে ভারত একটি নজরদারি রাষ্ট্রে পরিণত হবে। কারণে এই আইনের ফলে আটটি ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত তথ্য অনুমতি ছাড়াই ব্যবহার করতে পারবে সরকার। ২০১৯ সালেও বিজেপি সরকার বিলটা পাস করতে চেয়েছিল, কিন্তু প্রবল বিরোধীতার মুখে তা প্রত্যাহার করা হয়।
ভারতের এডিটরস গিল্ডও ডিজিটাল ব্যক্তিগত তথ্য আইন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। আইনটি গণমাধ্যমের স্বাধীনতাকে খর্ব করেতে পারে। সাংবাদিকসহ সাধারণ নাগরিকদের তথ্যকে ঝুঁকিতে ফেলবে বলে মনে করে এডিটরস গিল্ড।
তৃতীয়টি হলো জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন (সংশোধন) আইন। এটির ফলে এখন থেকে ভারতের সব নাগরিক ডিজিটাল জন্ম সার্টিফিকেট পাবেন। এই সার্টিফিকেট এখন সহজেই দেশটির যাবতীয়, ব্যবসা-বাণিজ্য, লেখা-পড়া ও সরকারি-বেসরকারি কাজে ব্যবহার করা যাবে।
চতুর্থ ও সর্বশেষ জনবিশ্বাস (সংশোধন) আইনে ছোট-খাট অপরাধের জন্য গুরুদণ্ড না দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। এ আইনের ফলে এখন ছোটÑখাট অনেক অপরাধ আদালতে যাওয়ার আগেই প্রশাসকরা বিভিন্ন ধরনের শাস্তির মাধ্যমে মীমাংসা করতে পারবেন। তাছাড়া লঘু অপরাধের জন্য কারাদণ্ড দেওয়ার বিধানও বাতিল করা হয়েছে নতুন এ আইনে।
সূত্র : এনডিটিভি