প্রবা ডেস্ক
প্রকাশ : ১০ অক্টোবর ২০২২ ১৬:৩৩ পিএম
আপডেট : ১০ অক্টোবর ২০২২ ১৮:৪১ পিএম
চীনের তৈরি সর্বশেষ রণতরী ফুজিয়ান। ছবি: সংগৃহীত
পরমাণু শক্তিচালিত বিমানবাহী রণতরী তৈরির পরিকল্পনা করছে চীন। বহির্বিশ্বে বেইজিংয়ের ক্রমবর্ধমান সামরিক সক্ষমতার জানান দিতেই এমন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
সাউথ চাইনা মর্নিং পোস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, চীনের চর্তুথ বিমানবাহী রণতরীটি পারমাণু শক্তিচালিত হতে পারে বলে অনুমান করছেন বিশ্লেষকেরা।
এর আগে চীনের রাষ্ট্রীয় জাহাজ নির্মাণ কর্পোরেশন জানিয়েছিল, ২০২৭ সালের মধ্যে তারা পরমাণুচালিত প্রযুক্তিতে যুগান্তকারী মাইলফলক অর্জন করতে চায়।
তবে সামরিক বিষয়ক সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট ওয়েভ অব সাউথ চায়না সি’র একটি প্রতিবেদনে বলা হয়, এ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি। এ ছাড়া এ রকম পরমানু চালিত বাহন তৈরির জন্য নিয়োজিত জাহাজ কারখানাগুলোকেও এ সংক্রান্ত অনুমতি দেওয়া হয়েছে কিনা সেটিও নিশ্চিত নয়। আবার চীনের এমন রণতরী নির্মাণে প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত সক্ষমতা আছে কিনা তা নিয়ে সন্দেহ আছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, বেইজিংয়ের উন্নয়নের জন্য ডিজেলচালিত জাহাজই বেশি উপযুক্ত।
এর মধ্যে গত জুনে দেশটি তৃতীয় রণতরী ফুজিয়ান চালু করে। যা এখন পর্যন্ত চীনের সবচেয়ে বড়, অত্যাধুনিক এবং সবচেয়ে শক্তিশালী বিমানবাহী রণতরী। তবে তা প্রচলিত প্রযুক্তির। এ রণতরীটি চালুর পর থেকে চতুর্থ রণতরীটি পরমাণু চালিত হতে পারে বলে জল্পনা শুরু হয়েছে।
এরই মধ্যে বেইজিং তাদের চতুর্থ রণতরী তৈরির ডিজাইন সম্পন্ন করেছে। ২০২৫ থেকে ২০২৭ সালের মধ্যে এটি চালু হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে সামরিক সূত্রগুলো বলছে, পরবর্তী রণতরীটি পরমাণু নয়, বরং প্রচলিত প্রযুক্তিতে চালিত হতে পারে।
পরমাণু চালিত রণতরীর তুলনায় প্রথাগতভাবে চালিত রণতরীর রক্ষণাবেক্ষণ অনেকটা সহজ এবং এটি তৈরির ব্যয়ও কম।
কিন্তু পরমাণু চালিত রণতরী দীর্ঘ পরিসরে হামলা এবং ক্যাটাপাল্ট ব্যবস্থার জন্য উত্তম।
এখনো পর্যন্ত শুধু যুক্তরাষ্ট্র এবং ফ্রান্সেরই পরমাণুচালিত প্রযুক্তির রণতরী রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের আমেরিকান নিমিৎজ ও জেরাল্ড আর ফোর্ড ক্লাস শিপ এবং ফ্রান্সের দুটি হলো- ফ্রেঞ্চ ফ্ল্যাগশিপ ও চার্লস ডি গল।
ক্যানবেরাভিত্তিক অস্ট্রেলিয়ান স্ট্র্যাটেজিক পলিসি ইনস্টিটিউটের একজন জ্যেষ্ঠ নিরাপত্তা বিশ্লেষক ম্যালকম ডেভিস জানান, চীনের পরবর্তী বিমানবাহী রণতরী দুটি কারণে পরমাণুশক্তি চালিত হতে পারে।
প্রথমত, বেইজিং একটি বিশ্বমানের নৌবাহিনী তৈরি করতে চায় এবং সেই মর্যাদার অংশ হচ্ছে দূরপাল্লার শক্তি প্রক্ষেপণ সক্ষমতা অর্জন করা। দ্বিতীয়ত, প্রচলিত বাহকে বেশকিছু লজিস্টিক সহায়তা দরকার হয়, যা পরমাণু শক্তিচালিত বাহকগুলোতে প্রয়োজন হয় না।
ম্যালকভ ডেভিস বলেন, এ কারণে ব্যবহারিক ও প্রয়োগসংক্রান্ত দৃষ্টিকোণ থেকে আমি মনে করি চীন যুক্তিসঙ্গতভাবেই পরমাণুশক্তি চালিত রণতরী তৈরি করবে। এ ছাড়া এমন শক্তিচালিত রণতরী উন্নত সব ব্যবস্থাগুলো পরিচালনার সুযোগ তৈরি করে দেয়।
প্রবা/এনএস