প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১০ আগস্ট ২০২৩ ১৮:১৪ পিএম
আপডেট : ১০ আগস্ট ২০২৩ ২০:২৭ পিএম
যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগ নিষেধাজ্ঞা দুই দেশের সম্পর্ককে আরও খারাপ করবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। প্রতীকী ছবি
চীনের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগ নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। আগামী বছর থেকে এটা কার্যকর হবে। বুধবার (৯ আগস্ট) এক নির্বাহী আদেশে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন এ নিষেধাজ্ঞা দেন। এ নিষেধাজ্ঞা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে চীন।
বিনিয়োগ নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা খাতগুলো হলো সেমিকন্ডাক্টর অ্যান্ড মাইক্রোইলেকট্রনিকস, কোয়ান্টাম প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)। যতটা না অর্থনীতি তার চেয়ে জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এসব নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। বিনিয়োগ নিষেধাজ্ঞার ফলে চীনের সামরিক, গোয়েন্দা, নজরদারি ও সাইবার প্রযুক্তির আধুনিকায়ন পিছিয়ে পড়বে বলে আশা করছে ওয়াশিংটন। কংগ্রেসের কাছে পাঠানো বাইডেনের একটি চিঠির বরাতে এসব তথ্য আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বাইডেনের উল্লিখিত নির্বাহী আদেশের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রাইভেট কোম্পানিগুলোকে চীনে বিনিয়োগের জন্য দেশটির ট্রেজারি বিভাগের অনুমতি নিতে হবে। ট্রেজারি বিভাগ নিজেদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কড়াকড়ি বা নিষেজ্ঞা দিতে পারবে।
বাইডেনের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটর চাক শুমার। এক বিবৃতিতে বুধবার ডেমোক্র্যাটিক পার্টির এ রাজনীতিবিদ বলেন, চীনের সামরিক উত্থানের পেছনে দীর্ঘ দিন যুক্তরাষ্ট্রের ডলার সহায়তা করছে। আজ যুক্তরাষ্ট্র কৌশলগত প্রথম পদক্ষেপটি নিল যার ফলে চীনের সামরিক বাহিনীর আধুনিকায়নে আমাদের বিনিয়োগ আর ভূমিকা রাখবে না। বাইডেনের আদেশটি সমুন্নত রাখতে কংগ্রেসের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আমল থেকে ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের মধ্যে প্রকাশ্য দ্বন্দ্ব শুরু হয়। ট্রাম্প প্রশাসন চীনা পণ্য রপ্তানিতে দফায় দফায় অতিরিক্ত কর আরোপ করে। ২০২১ সালে ক্ষমতা গ্রহণ করে বাইডেন করারোপের ক্ষেত্র আরও বাড়িয়েছেন।
তাছাড়া গত কয়েক বছরে অত্যাধুনিক কম্পিউটার চিপ রপ্তানি নিষিদ্ধের পাশাপাশি চীনের আরও কিছু কোম্পানির ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে বাইডেন প্রশাসন। যুক্তরাষ্ট্রের কিছু কিছু রাজ্যে চীনা ভিডিও শেয়ারিং প্ল্যাটফর্ম টিকটক নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তাইওয়ান নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নানাভাবে চাপ তৈরি করছে যুক্তরাষ্ট্র।
এসব ইস্যুতে বিশ্বের শীর্ষ এ দুই শীর্ষ অর্থনীতির সম্পর্ক সম্প্রতি তলানিতে নেমে এসেছে। এ অবস্থায় প্রযুক্তি খাতের বিনিয়োগ নিষেধাজ্ঞা পরিস্থিতির আরও অবনতি করবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। চীনা কর্মকর্তাদের প্রতিক্রিয়ায় এটা ইতোমধ্যে স্পষ্ট।
ওয়াশিংটনের চীনা দূতাবাসের এক কর্মকর্তা বুধবার বলেন, বাইডেনের এই আদেশের ফলে চীন ও যুক্তরাষ্ট্র উভয় দেশের কোম্পানি ও বিনিয়োগকারীরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। চীনও পাল্টা পদক্ষেপ নেবে।
অন্যদিকে বাইডেনের বিনিয়োগ নিষেধাজ্ঞা আন্তর্জাতিক শিল্প ও সরবরাহ ব্যবস্থাকে গুরুতর ক্ষতিগ্রস্ত করবে বলে মন্তব্য করেছেন চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র। বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে বেনামি এ মুখপাত্র বলেন, যুক্তরাষ্ট্র সুষ্ঠু প্রতিযোগিতা ও বাজার অর্থনীতির যে সব নীতির কথা প্রচার করে থাকে বাইডেনের বিনিয়োগ নিষেধাজ্ঞা সেগুলোর সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এত করে সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোর স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যবহত হবে। আন্তর্জাতিক ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। জাতীয় নিরাপত্তার নামে ব্যবসা-বাণিজ্য ও প্রযুক্তিকে অস্ত্র বানাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।
তবে যুক্তরাষ্ট্র নিয়ে এখনও আশাবাদী চীন। দেশটির বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ওই মুখপাত্র আশা করেন, আন্তর্জাতিক অর্থনীতি, বাণিজ্য ও সহযোগিতাকে বিপর্যয়ের মুখে ঠেলে দেয় এমন কৃত্রিম পদক্ষেপ এড়াতে চেষ্টা করবে যুক্তরাষ্ট্র। করোনার পর বিশ্ব অর্থনীতির ঘুরে দাঁড়ানোকে বাধাগ্রস্ত করে সে রকম কোনো কিছু করা থেকেও দেশটি বিরত থাকবে।
সূত্র : এএফপি, আল-জাজিরা