প্রবা ডেস্ক
প্রকাশ : ১০ অক্টোবর ২০২২ ১৪:১৭ পিএম
আপডেট : ১০ অক্টোবর ২০২২ ১৪:২৯ পিএম
আল-মাফেদে অভিযানের সময় দেশটির সামরিক বাহিনীর গাড়িবহর।
আল-কায়েদার ঘাঁটি আল-মাফেদে দেশটির সামরিক বাহিনীর হামলার পর ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় আবিয়ান প্রদেশে রাস্তার ধারে বোমা বিস্ফোরণে চার ইয়েমেনি সেনা নিহত এবং বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।
আবিয়ানে সামরিক অভিযান পরিচালনাকারী স্বাধীনতার পক্ষের দক্ষিণী ট্রানজিশনাল কাউন্সিলের মুখপাত্র মোহাম্মদ আল-নাকিব আরব নিউজকে বলেছেন, সোমবার (১০ অক্টোবর) সৈন্যদের একটি কনভয় ওমরান উপত্যকার মধ্য দিয়ে যাওয়ার সময় দুটি বোমার বিস্ফোরণ ঘটে। এতে চার সেনা নিহত এবং বেশ কয়েকজন আহত হন। ওই এলাকাটি একসময় আল-কায়েদা শক্ত ঘাঁটি ছিল।
আল-নাকিব বলেছেন, ‘আজকের সামরিক অভিযানের সময় আল-কায়েদা রাস্তার ধারে বোমা পেতে রেখেছিল কি না, তা আমরা জানি না।’
আল-কায়েদা জঙ্গিদের বিরুদ্ধে সেপ্টেম্বর মাসে দক্ষিণাঞ্চলীয় আবিয়ান ও শাবওয়া প্রদেশে তাদের শক্তিশালী ঘাঁটির ভেতরে সামরিক অভিযান শুরু হয়।
দক্ষিণ বাহিনী গত শনিবার আল-কায়েদার শেষ শক্ত ঘাঁটি আবিয়ানে আক্রমণ করে ইস্টার্ন অ্যারোস সামরিক অভিযানের চতুর্থ ও চূড়ান্ত পর্ব শুরু করেছে।
আল-নাকিব বলেছেন, বাহিনী জেলার দুর্গম পাহাড়ের দিকে অগ্রসর হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল যেখানে দীর্ঘদিন আল-কায়েদা জঙ্গিদের ঘাঁটি এবং সামরিক স্থাপনা রয়েছে।
সরকারি বাহিনী জেলার শহর ও গ্রামাঞ্চলের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিতে পারলে বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো আবিয়ান প্রদেশকে জঙ্গিমুক্ত ঘোষণা করা হবে।
স্থানীয় সামরিক কর্মকর্তাদের মতে, আল-কায়েদা জঙ্গিরা হুথি নিয়ন্ত্রিত কেন্দ্রীয় প্রদেশ আল-বায়দাতে অন্যান্য পাহাড়ে আশ্রয় চেয়েছিল। অন্যরা ওয়াদি হাদরামাউত এবং মারিবে পালিয়ে যায়।
শাবওয়াতে ইয়েমেনের সামরিক বাহিনী এর আগে আল-মাউসিনাহ থেকে আল-কায়েদাকে বিতাড়িত করেছিল এবং প্রদেশের পাহাড়ি এলাকায় তাদের তাড়া করেছিল।
পৃথকভাবে, স্থানীয় এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা এবং কর্মীরা তাইজে হুথি ড্রোন হামলার নিন্দা করেছে, যার ফলে আটজন বেসামরিক লোক আহত হয়েছে।
বাসিন্দাদের মতে, তাইজের পশ্চিমে মাকবানাহ জেলার আল-মাজাশায় একটি ড্রোন একটি বেসামরিক যানবাহনে আঘাত করলে আটজন আহত হয়।
জেনেভাভিত্তিক এসএএম অরগানাইজেশন ফর রাইটস অ্যান্ড লিবার্টিজ বলেছে, বেসামরিক ব্যক্তিরা একটি বিবাহের পথে যাচ্ছিল এবং সামরিক অবস্থানের কাছাকাছি ছিল না।
এসএএম অরগানাইজেশন ফর রাইটস অ্যান্ড লিবার্টিজ হুথিদের বারবার এবং নির্বিচারে হামলার আন্তর্জাতিক নিন্দার আহ্বান জানিয়েছে।
সংস্থাটি বলেছে, ‘বেসামরিক ব্যক্তিরা কোনো সশস্ত্র গোষ্ঠীর অংশ ছিল না এবং একটি সামরিক এলাকা বা সাইটের কাছাকাছি ছিল না, যা হুথিদের হামলার কারণ হতে পারে।’
২ এপ্রিল জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতি তাইজে শান্তি আনতে পারেনি।
হুথিরা বিস্ফোরক ড্রোন, আর্টিলারি রাউন্ড এবং ভারী মেশিনগানের ফায়ার দিয়ে আবাসিক এলাকা লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে।
প্রবা/জিজি/এমজে/