ইমরানের কারাদণ্ড
প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ০৯ আগস্ট ২০২৩ ১৩:৩৭ পিএম
আপডেট : ০৯ আগস্ট ২০২৩ ১৩:৫৬ পিএম
পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। ছবি : সংগৃহীত
পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান দেশটির তোষাখানার উপহার বিক্রি করে জেল খাটছেন। আলোচিত সেই তোষাখানার যাবতীয় উপহার নিলামে তোলার ঘোষণা দিয়েছেন দেশটি প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। নিলাম থেকে প্রাপ্ত অর্থ গরিব ও অসহায় শিশুদের উন্নয়নে ব্যয় করা হবে। মঙ্গলবার (৮ আগস্ট) দেশটির সংবাদপত্রের প্রতিনিধিদের সঙ্গে এক বৈঠকে তিনি এ ঘোষণা দেন।
তোষাখানা ১৯৭৪ সালে প্রতিষ্ঠা করা হয়। এটি পাকিস্তানের মন্ত্রীপরিষদের অধীনে পরিচালিত হয়। দেশটির প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, সরকারি অমলা ও কর্মকর্তারা বিদেশ থেকে যেসব উপহার পান তা এই তহবিলে রাখা হয়।
অভিযোগ রয়েছে, ২০১৮ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে ক্ষমতায় থাকাকালে তোষাখানার কিছু উপহার ইমরান খান বিক্রি করে দিয়েছেন। তোষাখানার উপহার নিয়ে দুর্নীতি করার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে একটি মামলা করে দেশটির নির্বাচন কমিশন।
নির্বাচন কমিশনের করা সেই ফৌজদারি মামলায় গত ৫ আগস্ট রায় হয়। এতে দেশটির সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর তিন বছরের কারাদণ্ড হয়। রায়ের আধাঘণ্টার মধ্যে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। বর্তমানে ইমরান খান পাঞ্জাবের অ্যাটক কারাগারে সি-ক্লাসের একটি সেলে আটক রয়েছেন।
এদিকে মঙ্গলবার ইমরান খানকে নির্বাচন থেকে পাঁচ বছরের জন্য অযোগ্য ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। ফলে চলতি বছরের নভেম্বরের শুরুর দিকে দেশটিতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া নির্বাচনে তিনি অংশ নিতে পারছেন না।
অবশ্য মামলার রায়ের বিরুদ্ধে ইমরান খানের তরফে তার দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) ইসলামাবাদ হাইকোর্টে (আইএইচসি) একটি পিটিশন দাখিল করেছে। এতে অভিযোগ করা হয়, যথাযথ প্রক্রিয়া মেনে ইমরান খানকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। সাজা একচোখা।
আজ বুধবার, ৯ আগস্ট হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি আমের ফারুক ও বিচারপতি তারিক মেহমুদ জাহাঙ্গিরির সমন্বয়ে গঠিত দুই সদস্যের বেঞ্চে পিটিশনের শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত তা শুরু হয়নি।
অন্যদিকে, আজ মধ্যরাতে পাকিস্তানের পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ জাতীয় আইনসভা বিলুপ্ত ঘোষণা করা হবে। আসন্ন নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করতে এটা করা হচ্ছে।
তবে নির্ধারিত সময় ১২ আগস্টের আগেই এটা করা হচ্ছে। ফলে নির্বাচনের জন্য ৬০ দিনের পরিবর্তে ৯০ দিন সময় পাবে রাজনৈতিক দলগুলো।
বিশ্লেষকদের মতে পার্লামেন্ট আগেভাগে বিলুপ্ত করায় ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলগুলো বেশি লাভবান হবে। এ নির্বাচনে ইমরান খানকে প্রধান হুমকি মনে করেছিল শাহবাজ শরিফ ও তার শরিকেরা।
সূত্র : জিওনিউজ, দ্য ডন, এনডিটিভি