প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ০৮ আগস্ট ২০২৩ ১৮:৩৮ পিএম
নববর্ষের জল উৎসবের সময় টহল দিচ্ছেন মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর সদস্যরা। ২০২৩ সালের ১৩ এপ্রিল ইয়াংঙ্গুনে। ছবি : সংগৃহীত
মিয়ানমারের জান্তা সরকার বিভিন্নভাবে যুদ্ধাপরাধ করছে বলে অভিযোগ করেছে জাতিসংঘ। জাতিসংঘের ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইনভেস্টিগেশন মেকানিজম ফর মিয়ানমারের (আইআইএমএম) মঙ্গলবার, ৮ আগস্ট প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ দাবি করা হয়েছে।
আইআইএমএমের প্রতিবেদনে বলা হয়, মিয়ানমারের সেনাবাহিনী ও তার সঙ্গে যুক্ত নানা সশস্ত্র বাহিনী অন্তত তিন ধরনের যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধ করছে। এসব অপরাধ হলো- সাধারণ নাগরিক ও গ্রেপ্তারদের হত্যা, গ্রামে বোমা বর্ষণ, নারীদের ওপর যৌন হয়রানি। এসব অপরাধের সংখ্যা ও মাত্রা ক্রমশ বাড়ছে।
মিয়ানমারের বিভিন্ন অপরাধ খতিয়ে দেখতে ২০১৮ সালে গঠিত হয় আইআইএমএম। জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিল এটা প্রতিষ্ঠা করে। নতুন প্রতিবেদনটি তৈরির জন্য আইআইএমএম কর্মকর্তাদের মিয়ানমারে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি।
তবে আইআইএমএম জানায়, তারা ৭০০ এর বেশি ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কথা বলেছেন। তাদের কাছে জান্তার যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধ সংক্রান্ত দুই কোটি ৩০ লাখের বেশি নমুনা রয়েছে। এসব নমুনার মধ্যে ছবি, ভিডিও, হাসপাতালের প্রতিবেদন ও স্যাটেলাইট ইমেজ অন্যতম।
২০২২ সালের জুলাই থেকে ২০২৩ সালের জুনের মধ্যে ওই সব অপরাধ সংগঠিত হয়েছে।
আইআইএমএম প্রধান নিকোলাস কৌমজিয়ান জানান, ২০১৭ সালে রোহিঙ্গা নারীদের ওপর যে নিপীড়ন হয়েছে তারা তা নিয়েও কাজ করবেন। ২০১৭ সালে রোহিঙ্গাদের ওপর যে জ্বালাও-পোড়াও হয়েছে তার সঙ্গে দেশটির সেনাবাহিনীও জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে।
২০২০ সালের নভেম্বরে মিয়ানমারে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এতে অং সান সু চির দল ন্যাশনাল লীগ ফর ডেমোক্র্যাসি (এনএলডি) বিপুল ভোটে জয় পায়। কিন্তু নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ আনে সেনাবাহিনী।
এ অভিযোগে শপথগ্রহণের দিন ২০২১ সালের ১ ফেব্রুয়ারি অং সান সু চিসহ তার দলের শীর্ষ নেতাদের গ্রেপ্তার করে সেনাবাহিনী। ঘোষণা করে সামরিক আইন। সামরিক আইন এখনো চলেছে। চলছে জান্তাবিরোধী সশস্ত্র সংগ্রাম।
সূত্র : আল-জাজিরা