রয়টার্সের বিশেষ প্রতিবেদন
প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ০৭ আগস্ট ২০২৩ ১৯:২৫ পিএম
আপডেট : ০৭ আগস্ট ২০২৩ ১৯:৪০ পিএম
গোপনে রাশিয়ার শীর্ষ এক ক্ষেপণাস্ত্র নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের কম্পিউটার নেটওয়ার্কে অনুপ্রবেশ করেছিল উত্তর কোরিয়ার হ্যাকারদের দল। গত বছর এ ঘটনা ঘটায় তারা। রয়টার্সের বিশেষ এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এ তথ্য। ওই প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, একবার নয়, অন্তত পাঁচবার ওই নেটওয়ার্কে অনুপ্রবেশ করে উত্তর কোরীয় হ্যাকাররা। প্রশ্ন উঠেছে, সেসবের জেরেই কি গত বছর ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের শক্তি দেখাতে পেরেছিল দেশটি!
হ্যাকিংয়ের কারিগরি প্রমাণ হাতে পেয়েছে রয়টার্স। সেসব প্রমাণ বার্তা সংস্থাটি এবং নিরাপত্তা গবেষকরা খতিয়ে দেখেছে। রয়টার্স দেখেছে, উত্তর কোরিয়ার সরকারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সাইবার গুপ্তচরদের দল রাশিয়ার রকেট নকশাকারী প্রতিষ্ঠান এনপিও মাশিনোস্ত্রোইয়েনিয়াতে একটি ব্যাকডোর তৈরি করে নিয়েছিল।
গবেষকরা ওই হ্যাকার দল দুটির নাম দিয়েছে স্কারক্রাফট ও লাজারুস। রয়টার্স অনুপ্রবেশের ঘটনাটি নির্ণয় করতে পারলেও কোনো তথ্য-উপাত্ত নেওয়া হয়েছিল কি না, বা কোন তথ্যগুলোতে নজর বুলানো হয়েছে, সেসব কিছুই নির্ণয় করতে পারেনি। ডিজিটাল অনুপ্রবেশের ঘটনার পরের মাসগুলোতে পিয়ংইয়ং নিজেদের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের বেশ কয়েকটি সাফল্য অর্জনের কথা জানায়। তবে অনুপ্রবেশের সঙ্গে সেগুলো সংশ্লিষ্ট কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিভৃতে থাকা দেশগুলো কীভাবে মিত্রদেরও লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করতে পারে, সেটিই ফুটিয়ে তুলছে ঘটনাটি। রয়টার্সের মন্তব্যের অনুরোধে সাড়া দেয়নি রুশ ক্ষেপণাস্ত্র নির্মাতা এনপিও মাশিনোস্ত্রোইয়েনিয়া। ওয়াশিংটনের রুশ দূতাবাসের কাছেও ইমেইল পাঠিয়ে এ ব্যাপারে জানতে চেয়েছিল বার্তা সংস্থাটি। প্রতিউত্তর আসেনি সেখানে থেকেও। প্রতিক্রিয়া জানায়নি নিউইয়র্কে জাতিসংঘে থাকা উত্তর কোরিয়া মিশনও।
গত মাসেই কোরিয়া যুদ্ধের ৭০তম বার্ষিকী উপলক্ষে উত্তর কোরিয়া সফর করেছেন রাশিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী সের্গেই শোইগু। ১৯৯১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে যাওয়ার পর এবারই প্রথম কোনো রুশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী দেশটি সফর করেছেন। আর ওই সফরের পরই সামনে এলো অনুপ্রবেশের এ তথ্য।
ক্ষেপণাস্ত্র বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যে প্রতিষ্ঠানটিকে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করা হয়েছিল, সেটি এনপিও ম্যাশ নামেও পরিচিত। হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র, কৃত্রিম উপগ্রহ প্রযুক্তি এবং নতুন প্রজন্মের ব্যালিস্টিক অস্ত্রের অগ্রদূত হিসেবে পরিচিত প্রতিষ্ঠানটি। কারিগরি তথ্য-উপাত্ত বলছে, ২০২১ সালের শেষভাগে শুরু হয় অনুপ্রবেশ এবং তা বজায় থাকে ২০২২ সালের মে মাস পর্যন্ত। আইটি প্রকৌশলীরা হ্যাকারদের কর্মকাণ্ড শনাক্ত করে।
প্রসঙ্গত, স্নায়ুযুদ্ধের সময় আধিপত্য বিস্তারি অবস্থানে চলে আসে এনপিও ম্যাশ। সে সময় রাশিয়ার মহাকাশ কর্মসূচির প্রধান স্যাটেলাইট নির্মাতা হয়ে ওঠে প্রতিষ্ঠানটি। ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র নির্মাতা হিসেবেও ভূমিকা রাখে সে সময়। হ্যাকিংয়ের তথ্য-উপাত্ত খতিয়ে দেখা দুই স্বাধীন কম্পিউটার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের একজন নিকোলাস ওয়েভার বলেন, ‘আমি ব্যাপকভাবে নিশ্চিত যে তথ্য-উপাত্তগুলো আসল।’
সূত্র : রয়টার্স।